সৈয়দ রুবেল,ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলাধীন গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত খাদেম মোল্লার ছেলে খলিল মোল্লার (৪২)এর বিরুদ্ধে একই বাড়ীতে ৫ম শ্রেনী পড়ুয়া স্কুল ছাত্রীকে যৌন নিপিড়নের অভিযোগে দিনের বেলায় থানায় মামলা দায়ের করতে যেতে বাধা দেয়ায় রাতে মামলা দায়ের।
মামলার এজাহার সূত্রে জানাযায়, গত ১০/১০/২০১৯ইং তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪টার সময় একই বাড়ীর মৃত খাদেম আলীর ছেলে খলিল মোল্লার ঘরে টিভি দেখার জন্য খলিলের ভাগনী আমার বোনের মেয়ে
(সুমনা ছদ্ধনাম) সুমনাকে ডাকদেয়।
এসময় সুমনা টিভি দেখার জন্য খলিলের ঘরে গিয়ে সামনের কক্ষে খাটের উপর বসে টিভি দেখতে থাকে। হঠাৎ কলিল মোল্লা আমার বোনের মেয়ে সুমনার কাছে গিয়ে বসে যৌন কামনা চরিতার্থ করার জন্য সুমনার বুকে একাধিকবার হাত দিতে থাকলে সুমনা চিৎকার করা শুরু করে। আমার ঘরের পাশে খলিলের ঘর থাকায় আমি সুমনার চিৎকার শুনিয়া দৌড়ে খলিলের ঘরে গেলে আমাকে দেখে খলিল দ্রুত সামনের কক্ষ থেকে ভিতরের কক্ষে চলে যায়। আমি সুমনার কাছে জানতে চাইলে সে তার জামা খুলে তার বুকের উপরে পরে থাকা আঘাত গুলো দেখিয়ে খলিলের আচরন সম্পর্কে জানায়।
এ বিষয় মামলার বাদী শাহানাজ বেগমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, গত ১০ তারিখ বিকেলে একই বাড়ীর খলিল মোল্লার বসত ঘরে আমার বোনের মেয়ে ৫ম শ্রেনী পড়ুয়া স্কুল ছাত্রীর উপর ঝাপিয়ে পড়ে যৌন চরিতার্থ কামনা করার ঘটনাটি অত্যন্ত দু:খ জনক।
আর তার চেয়েও দুঃখ জনক হলো খলিলের বড় ভাই ফরিদ মোল্লা ঘটনার দিন সুমনার খালা শাহানাজ এ বিষয় বাড়ী থেকে আইনের আশ্রয় নিতে মটরসাইকেল যোগে থানায় যাওয়ার সময় কিছুদূর যাওয়ার পর পথিমধ্যে ফরিদ মোল্লা মটরসাইকেল থামিয়ে মিমাংশার কথা বলে আমাকে মটর সাইকেল থেকে নামিয়ে দিয়ে মিমাংশার কথা বলে বাড়ীতে নিয়ে যায়। বাড়ীতে গিয়ে ঐ এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আবছার উদ্দীনের ছেলে মানিক ও একই বাড়ীর হোসেন হাওলাদারের ছেলে গফফারকে নিয়ে মিমাংশার কথা বলে । এবং আমাদের থানায় যেতে বাধা দেয়। পরে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে আমাকে অর্ধলক্ষ টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেয়। আমি ঐ প্রস্তাবে রাজি না হলে সুমনার চিকিৎসার বাবদ ১০ হাজার টাকা দেয়ার প্রস্তাব করলে আমি মামলা করার কথা বলি।
এর পর থেকে আমি আমার বোন (সুমনার মা) শিউলির সাথে যোগাযোগ করলে সে আমাকে থানায় যেতে বলে। আমি থানায় যাওয়ার কথা শুনে খলিল বিভিন্ন স্থানে তার লোকজন পাহাড়ায় রাখলে আমরা থানায় যেতে পারিনি পরে গত ১২/১০/২০১৯ইং তারিখ রাতে আমি আমার ভগ্নিপতি জুয়েল ও আমার বেয়াই জাহাঙ্গীরের সহযোগীতায় ঝালকাঠি সদর থানায় গিয়ে একটি এজাহার দায়ের করি (যাহার নম্বর-১৪)।
এ বিষয় বাদীর ভগ্নিপতি জুয়েল জানায়, সুমনা আমার ভায়রার মেয়ে তার মা-বাবা ঢাকায় চাকরি করে। সুমনা আমার স্ত্রীর বড় বোন শাহানাজ আপার কাছে থেকে লেখাপড়া করে। ঘটনাটি শুনে আমি আমার স্ত্রীর বোন শাহানাজ আপার কাছে যাই এবং ঘটনাটি সে আমাকে খুলে বলে। আমি ঘটনা শুনে তাদেরকে থানায় যেতে বলি
এসময় শাহানাজ আপা আমাকে জানায় খলিলের বড় ভাই ফরিদ সহ স্থানীয় মানিক ও গফফার মিলে মিমাংশার কথা বলে এবং আমাদের পঞ্চাশ হাজার টাকার কথা বলে, আমারা না বলায় তারা আবার সুমনার চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা দিতে চাইলে আমি টাকা না নিয়ে খলিলের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা বলি।
তারপর থেকেই খলিল তার লোকজন দিয়ে আমাকে ফলো করে। আমি তাদের ভয়ে ঝালকাঠি যেতে পারছি না। আমি তার এসকল কথা শুনে গত ১২/১০/২০১৯ইং তারিখ রাতে শাহানাজ আপা, জাহাঙ্গীর ভাই ও সুমনাকে সাথে নিয়ে ঝালকাঠি সদর থানায় হাজির হই।
এ বিষয় নির্যাতনের শিকার ৫ম শ্রনী পড়ুয়া ঐ স্কুল ছাত্রী জানায়, বিকেল বেলা খলিল কাকার ঘরে আমি টিভি দেখতে যাই। আমি ঘরে উঠে সামনের রুমের বিছানার উপর বসে টিভি দেখতে থাকি হঠাৎ খলিল কাকা আমার পাশে বসে আমাকে বিছানার উপর শুয়ায়ে আমার বুকে সহ বিভিন্ন স্থানে হাত দিতে থাকলে আমি তার ভয়ে চিৎকার করি।
এ ব্যাপারে শিশু নির্যাতন অভিযোগে অভিযুক্ত আসামী খলিল মোল্লার ব্যক্তিগত মুঠোফোন (০১৭৩৯-০৪৪৪১৮) নাম্বারে কল করে জানতে চাওয়া হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয় ঝালকাঠি সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আবু তাহেরের কাছে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আইনগত প্রক্রিয়ায় সকল কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে আসামী ধরার জন্য চেষ্টা চলছে।