১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১লা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

চুরির অভিযোগে মারধর, ‘অপমান সইতে না পেরে’ অটোচালকের আত্মহত্যা।

Editor
প্রকাশিত মার্চ ৩, ২০২৬
চুরির অভিযোগে মারধর, ‘অপমান সইতে না পেরে’ অটোচালকের আত্মহত্যা।

Manual1 Ad Code

চুরির অভিযোগে মারধর, ‘অপমান সইতে না পেরে’ অটোচালকের আত্মহত্যা।

শেখ স্বপ্না শিমুঃ পিরোজপুরের নেছারাবাদে চুরির অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে মারধরের পর অপমান সইতে না পেরে আব্দুল্লাহ আল মামুন সবুজ (৩৩) নামে এক অটোচালক বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।নিহত অটোচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন সবুজ।

সোমবার (২ মার্চ) রাত ৮টার দিকে বরিশালের শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত সবুজ উপজেলার সুটিয়াকাঠী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বালিয়ারী গ্রামের হুমায়ুন কবির খানের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন।

Manual7 Ad Code

নিহতের মা শাহিদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলে অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাত। গত ১ মার্চ সকাল ১০টার দিকে গ্রাম চৌকিদার মো. হানিফ, স্থানীয় দোকানদার রুবেল ও আব্দুল হাই তাকে সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে যায়। বিকেল ৩টার দিকে আমাদের ও তার শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে জানানো হয়, সে নাকি দুটি দোকান থেকে সিগারেট ও টাকা চুরি করেছে। আমরা গিয়ে দেখি, তাকে বেদম পিটিয়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাড়িতে ফিরে লজ্জা ও কষ্টে সে বিষ পান করে।’

নিহতের স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী চোর নয়। জোর করে তাকে নিয়ে গিয়ে মারধর করে চুরির স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। আমার বাবার সামনেও তাকে মারধর করা হয়। পাঁচ বছর বয়সি ছেলে জুনায়েদের মাথায় হাত রেখে জিজ্ঞেস করলে সে বলেছিল, সে চুরি করেনি। মিথ্যা অপবাদ সইতে না পেরে সে আত্মহত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’

Manual6 Ad Code

এ বিষয়ে ওয়ার্ড চৌকিদার মো. হানিফ বলেন, ‘সবুজ তার বাড়ির পাশের দুই দোকানে চুরির কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে। ইউনিয়ন পরিষদে এনে তার বিচার করা হয়েছে। পরে শুনেছি সে বাড়িতে গিয়ে বিষ খেয়েছে। এর জন্য আমরা কী করতে পারি?’

Manual8 Ad Code

সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শানু বলেন, ‘সে চুরির কথা স্বীকার করেছিল। উপস্থিত উত্তেজিত জনতা কয়েকটি কিল-ঘুষি দিয়েছে। হয়তো লজ্জা ও মানসিক কষ্টে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।’

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘আব্দুল্লাহ আল মামুন সবুজ নামে এক যুবকের মরদেহ থানায় আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রোববার ইফতারের সময় বিষ পান করেন। সোমবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ দোষী হলে ছাড় পাবে না।এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

Manual3 Ad Code