১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

নেত্রকোনায় প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, প্রধান আসামি কারাগারে

Editor
প্রকাশিত মার্চ ২, ২০২৬
নেত্রকোনায় প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, প্রধান আসামি কারাগারে

Manual7 Ad Code

নেত্রকোনায় প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, প্রধান আসামি কারাগারে

শেখ স্বপ্না শিমুঃ নেত্রকোনায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি গোলাম কিবরিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Manual8 Ad Code

এর আগে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় ভুক্তভোগী পরিবারটি নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিল। এ নিয়ে রোববার (১ মার্চ) সময় টেলিভিশনে একটি প্রতিবেদন প্রচার হয়। প্রতিবেদনটি প্রচারের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এবং এর একদিন পরই আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন।

অভিযুক্ত গোলাম কিবরিয়া বারহাট্টা উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, চন্দ্রপুর লামাপাড়া গ্রামের ১৩ বছরের এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী প্রতিবেশী দাদি পারুল বেগমের বাড়িতে আরবি শিখতে যেত। সেখানে যাওয়ার সুযোগেই কিবরিয়া তাকে ধর্ষণ করে। তবে কিশোরী বিষয়টি শুরুতে কাউকে বুঝিয়ে বলতে পারেনি। পরবর্তীতে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয় এবং তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এ খবর শুনে পেশায় অটোরিকশাচালক দরিদ্র বাবা দিশেহারা হয়ে পড়েন।

Manual5 Ad Code

ধর্ষকের পরিচয় জানার পর স্থানীয়ভাবে বিচারের নামে কালক্ষেপণ করা হয়। অভিযুক্ত কিবরিয়া স্থানীয় প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যানের আত্মীয় হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলে। অবশেষে কোনো সুরাহা না পেয়ে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর বারহাট্টা থানায় গোলাম কিবরিয়াকে প্রধান আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন কিশোরীর বাবা।

Manual2 Ad Code

মামলার পর পুলিশ তদন্তে নেমে সহযোগী হিসেবে প্রতিবেশী পারুল বেগমকে গ্রেফতার করলেও মূল অভিযুক্ত কিবরিয়া ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যান। উল্টো অসহায় কিশোরীর পরিবারটিকে নানাভাবে হুমকি দেয়া হতে থাকে। এরই মধ্যে গত ২২ ডিসেম্বর ওই কিশোরী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়। বর্তমানে অসুস্থ নবজাতককে নিয়ে হাসপাতাল ও বাড়িতে চরম কষ্টে দিন পার করছে অসহায় পরিবারটি।

Manual6 Ad Code

এ বিষয়ে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আসামি দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে কৌশলে পলাতক ছিল। পরে তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের ধরে আনার হুঁশিয়ারি দিলে তারা নিজেরাই কিবরিয়াকে হাজির হওয়ার ব্যবস্থা করে। আদালতে তার জামিন নামঞ্জুর হয়েছে। এখন তার ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। শিশুটির ডিএনএর সাথে মিলে গেলেই আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’
তিনি আরও জানান, হাসপাতালে কিশোরী ও তার নবজাতকের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।