৯ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

Editor
প্রকাশিত মার্চ ১, ২০২৬

Manual6 Ad Code

স্বাধীনতা

বিশেষ প্রতিনিধিঃ বিশ্বরাজনীতির ইতিহাস বলে, কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের বাইরে গেলেই সেখানে হঠাৎ গণতন্ত্র, মানবাধিকার কিংবা শাসনব্যবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বেড়ে যায়। এরপর শুরু হয় চাপের রাজনীতি, নিষেধাজ্ঞা, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি হস্তক্ষেপ।

Manual8 Ad Code

বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি এবং জাতির জনক বঙ্গন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর একটি স্বতন্ত্র পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ওয়াইসি (Organisation of Islamic Cooperation)-এ যোগ দেন, ভারত ও সোভিয়েত বলয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলেও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত প্রত্যাশার কাছে আত্মসমর্পণ করেননি, ফলাফল ১৯৭৫ সালে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা। এরপর বাংলাদেশ দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার ভেতর দিয়ে যায়, যা দেশের গতিপথকেই বদলে দেয়।

Manual4 Ad Code

সাদ্দাম হোসেন ইরাকের তেলসম্পদের উপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ফলাফল ২০০৩-এর আগ্রাসন, লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু এবং দেশের ধ্বংস। মুয়াম্মার গাদ্দাফি আফ্রিকাকে ঐক্যবদ্ধ করতে চেয়েছিলেন, স্বর্ণ দিনার চালু করে ডলারের আধিপত্য ভাঙতে চেয়েছিলেন। ২০১১-এ ন্যাটোর বিমান হামলায় তাঁর নির্মম পরিণতি হয়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই ছক। শেখ হাসিনা সরকার চীন-রাশিয়া-ভারতের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রেখে আমেরিকার ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ কৌশলে সাড়া দেয়নি। ফলে ২০২৪-এর তথাকথিত ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর নামে দেশে অস্থিরতা তৈরি হয়, সরকারের পতন ঘটে।

Manual1 Ad Code

তারা কেউই আমেরিকার সামনে মাথা নত করেনি। বঙ্গবন্ধু, সাদ্দাম, গাদ্দাফি কিংবা শেখ হাসিনা সবাই নিজেদের সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। এই প্রতিরোধের মূল্য তাঁদের জীবন ও দেশের স্থিতিশীলতা দিয়ে দিতে হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী যারা মাথা নত করেনি, তাদের নাম মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। আর যারা নত হয়েছে, তারা শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যই টিকে থাকে, ইতিহাসে নয়।