৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

লামায় জমি দখলে নিতে বসত বাড়িতে আগুন দিল প্রতিপক্ষ

admin
প্রকাশিত অক্টোবর ১১, ২০১৯
লামায় জমি দখলে নিতে বসত বাড়িতে আগুন দিল প্রতিপক্ষ

Manual2 Ad Code

উনুয়ই মার্মা রুহি ,বান্দরবান থেকে :-

বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলায় সরই ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের পুইট্টা পাড়া গ্রামের গত বুধবার গভীর রাতের আধারে নুরুল হুদা বসত ভিটায় মন্জুর আলমের ৫/৭ লোকজনের ভুমি দখলের জন্য পতিপক্ষ বসত ভিটায় আগুন লাগিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায় বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা মনসুর আলম জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সরই ইউনিয়নের পাশ্ববর্তী এলাকার লোহাগড়া বাসিন্দা মনজুর আলম সন্ত্রাসী কায়দায় অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের উপর অবৈধ দখলে করে তাদের দাদা বাবা জন্মের ভুমি দখলের নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে এ ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বলে জানায়।

Manual1 Ad Code

নুরুল হুদার ভাই মো. বশির বলেন, রাতে আমার ভাবি ঘরে ছিল কেউ ঘরে নেই মনে করে তারা আগুনে দেয় আগুন দেখে চিৎকার করে তারা পার্শ্ববর্তী বাড়িতে ছিল আশ্রয় গ্রহন করেন।

Manual4 Ad Code

আমাদের সাথে ভূমি বিরোধ আছে এমন কিছু লোকজন ঘরে আগুন লাগিয়েছে বলে তিনি দাবী করেন। যারা আগুন দিয়েছে তাদেরকে আমার স্ত্রী রেহানা বেগম ও আমার মেজ ভাবী পারুল বেগম দেখেছে দু্ষ্কৃতিকারীদের।

প্রত্যেক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, রাতে আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। দেখি আগুনে ঘরের অংশ পুড়ে গেছে।

Manual2 Ad Code

পার্শ্ববর্তী জায়গার মালিক মো. মঞ্জুর আলম দেশের বাহিরে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে কেয়ারটেকার খলিল বলেন, আমার মামা মনজুর আলম এই জায়গার প্রকৃত মালিক। প্রায় ১৫ বছর আগে জায়গাটা ক্রয় করে ফলদ ও বনজ বাগান সৃজন করি।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল আলম বলেন,মনজুর আলমের কেয়ারটেকার রফিকুল ইসলাম আমার দোকান থেকে আধা লিটার কেরোসিন তেল ক্রয় করছেন।

Manual6 Ad Code

অপর দোকানদার সোবহান বলেন,মনজুর আলমের কেয়ারটেকার রফিকুল ইসলাম ও আবচার মিয়া আমার দোকান এসে এক লিটার কেরোসিন নিয়েছেন। পরে দিন দেখি নুরুল হুদার ঘরে আগুন দেয়া হয়েছে এবং পড়ে থাকা সবুজ রংয়ের বোতল ঘরের পাশে পড়ে আছে।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার নাছির উদ্দিন ও পাশ্ববর্তী হারিস মেম্বান বলেন,দীর্ঘ ধরে নুরুল হুদা তার বসতভিটে বোগদখল আছে,সে অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের ভরন -পোষণ চালাতে পাহাড়ের কয়লা বিক্রি করে জীবন যাপন করছে,মনজুর আলম বিদেশে থাকেন,তাদের কাগজে অন্য জায়গার হওয়ার শর্তে তারা বার বার এ-ই অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের উপর মিথ্যা মামলা,হামলা এবং ঘরে আগুন দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে এ বসত ভিটা নেয়ার কৌশল মনে করি।

এ বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে। জায়গার বিপরীতে তারা কোন কাগজপত্র দেখাতে না পেরে উঠে যেতে হবে নিশ্চিত হয়ে এই আগুন লাগানো নাটকের সৃষ্টি করে। গতরাতে আমার বাগানে কোন লোকজন ছিলনা। এখন শুনতে পাচ্ছি তারা আগুনের ঘটনাকে পুঁজি করে আমার লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি প্রশাসনকে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করছি।

এবিষয়ে লামা অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমার নিকট অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেনি।অভিযোগ করলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।