৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ফাহাদ হত্যাকাণ্ড ভিসির পদত্যাগই এখন মুখ্য দাবি

admin
প্রকাশিত অক্টোবর ১০, ২০১৯
ফাহাদ হত্যাকাণ্ড ভিসির পদত্যাগই এখন মুখ্য দাবি

Manual6 Ad Code

অভিযোগ ডেস্ক :- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে এককাট্টা ছাত্র-শিক্ষক। ভিসি পদত্যাগের দাবি করেছেন ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠা সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে তাদের এই আন্দোলনের সাথে সহমত পোষণ করেছেন শিক্ষকেরাও।

ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ হওয়ায় ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করেছে বুয়েট শিক্ষক সমিতি। আন্দোলন এখন জোরদার হয়েছে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে। মুখ্য দাবিতে পরিণত হয়েছে ভিসির অপসারণ। এ নিয়ে কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিও। তিনি বলেছেন, বুয়েটের চলমান অস্থিরতা ও দাবিদাওয়া বুয়েট প্রশাসনকেই নিরসন করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, ভিসির মেয়াদ আর মাত্র কয়েক মাস।

প্রতিবাদে উত্তাল বুয়েট

কী হবে আজ শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বুয়েটে, সেদিকে নজর থাকবে সবার। কারণ দুপুর ২টার মধ্যে দেখা না করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব ভবন তালাবদ্ধ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের ১০ দফা দাবি মানা না হলে ১৪ অক্টোবর (সোমবার) নির্ধারিত ভর্তি পরীক্ষায় বাধা দেয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সহপাঠী হত্যার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) বুয়েটের শহীদ মিনারের সামনে আবরা ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর টানা চতুর্থ দিনের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এই ঘোষণা দেন।

আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র তিথি বলেন, ‘উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম আমাদের সাথে দেখা না করলে এবং তার অবস্থান স্পষ্টভাবে না জানালে আমরা শুক্রবার ক্যাম্পাসের সব ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেব।’

অন্যদিকে আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোক র‌্যালি করেছে ছাত্রলীগ।

ভেস্তে গেছে শিক্ষার্থীদের মিটিং

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামের মিটিং স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক ড. মিজানুর রহমান। দিনভর এ মিটিং নিয়ে ভিসির ব্যক্তিগত কর্মকর্তার সাথে শিক্ষার্থীদের দর কষাকষি চলে। শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যম ছাড়া মিটিংয়ে অংশ নিতে রাজি হয়নি শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনে সমর্থন দেয়া শিক্ষক সমিতির নেতাদের মিটিংয়ে ডাকা হয়নি। এটিও শেষ পর্যন্ত মিটিং না হওয়ার একটি কারণ।

ছাত্র কল্যাণ পরিচালক জানান, বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ ইস্যুটা রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার বিষয়। এটার বিষয়ে সেভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ভিসি অফিস থেকে জানানো হয়েছে শুক্রবার বিকেলে শিক্ষার্থীদের সাথে বসার ব্যাপারে আলাপ হয়েছে। যদিও শিক্ষার্থীরা এমন কোনও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পায়নি বলে জানিয়েছেন।

ভিসির পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবি বুয়েট শিক্ষক সমিতির

Manual2 Ad Code

‘ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ হওয়ায়’ বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করেছে বুয়েট শিক্ষক সমিতি।

ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারের সামনে ৭ দফা দাবি উত্থাপন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সমিতির সভাপতি এ কে এম মাসুদ বলেন, আমরা ভিসির পদত্যাগ দাবি করছি। তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। আশা করি তিনি তার পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। যদি তিনি পদত্যাগ না করেন তাহলে আমরা সরকারকে আহ্বান জানাবো তাকে সরিয়ে দিতে।

তাদের অন্য দাবিগুলো হলো-আবরারের হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা, আবরার হত্যা মামলার ব্যয় বুয়েট প্রশাসনের বহন করা, বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, হত্যাকারীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
বহিষ্কার করা, অবৈধভাবে দখলে থাকা হলের আসন উদ্ধার করা এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বুয়েটের ভিসি থাকা না থাকা উচ্চপর্যায়ের বিষয় : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকবেন কি থাকবেন না, তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়। এটি সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর এক অনুষ্ঠানের পর গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাইসহ সব মহলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম পদত্যাগ করবেন কিনা বা তাকে অপসারণ করা হবে কিনা প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বুয়েটের চলমান অস্থিরতা ও দাবিদাওয়া বুয়েট প্রশাসনকেই নিরসন করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়া হবে না। ভিসির মেয়াদ আর মাত্র কয়েক মাস। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সরানো হবে কি হবে না সেটি উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আবরার হত্যার ঘটনায় আমি লজ্জিত।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের আন্দোলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বুয়েটে এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। তখন শিক্ষক ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন কোথায় ছিলেন? তখন তারা কেন আন্দোলনে নামেননি? কেন এখন সবাই মিলে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন? এটি রহস্যজনক।

ডা. দীপু মনি বলেন, বুয়েটে ছাত্রলীগ ছাড়াও অন্যান্য শক্তিশালী ছাত্রসংগঠন রয়েছে। এর আগে তাদের কখনও আন্দোলনে নামতে দেখা যায়নি। বুয়েটে ছাত্রসংগঠন থাকবে কি থাকবে না, তাও বুয়েট প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

‘ছেলেকে নিয়ে রাজনীতি চাই না, খুনিদের সাজা চাই’

আববার মারা গেছে, বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন হচ্ছে সেটা ঠিক আছে, তবে আমরা ছেলেকে নিয়ে আমরা কোনও রাজনীতি করছি না, কেউ রাজনীতি করুক আমরা সেটা চাই না। প্রধানমন্ত্রী যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন আমরা খুশি। তার ওপর আস্থা আছে। দ্রুত বিচার শেষ দেখতে চাই। একজন খুনিও যেন পার না পায়।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে গ্রামের বাড়ি কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গায় গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন আবরার ফাহাদের বাবা বরকতুল্লাহ।

Manual5 Ad Code

বরকতুল্লাহ বলেন, এখন প্রধানমন্ত্রী যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তাতে আমরা খুশি। খুনিদের সঠিক বিচার হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। এ জন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই। এ সময় অমিত সাহা গ্রেফতারে নিজের সন্তুষ্টির কথা জানান আববারের বাবা।

Manual6 Ad Code

তিনি বলেন, আবরার এখন আমার একার সন্তান নয়, সারা দেশের মানুষের সন্তান। এখন কোন সিদ্ধান্ত আমি একা নিতে পারি না। ছাত্ররা যেসব যৌক্তিক আন্দোলন করছে তা বাস্তবায়ন হওয়া প্রয়োজন। দেশের সেরা বিদ্যাপিঠগুলো যদি
নিরাপদ না হয় সেখানে কেউ সন্তান দিতে চাইবেন না। তাই সকল উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা আগে নিশ্চিত করতে হবে।

আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, এক ছেলেকে হারিয়েছি। আরেক ছেলেকে হারাতে চাই না। আবরার ফাহাদ হত্যার সঠিক বিচার চাই। খুনিরা যেন পার না পায়।

‘ও আল্লাহ, আল্লাহরে তোমার কাছে বিচার দিলাম’

আবরার ফাহাদের দাদা আবদুল গফুর বিশ্বাস বলেন, আহারে ওরা আমার নাতিকে পিটিয়ে পিটিয়ে মেরেছে, খুব কষ্ট দিয়ে মেরেছে। আমার নাতির কি অপরাধ?

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে গ্রামের বাড়ি কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গায় বসে এসব কথা বলেন আবরার ফাহাদের দাদা আবদুল গফুর বিশ্বাসে। তিনি বলেন, আমার নাতি নাকি শিবির করে? সে কোন দল করে না। লেখাপড়া ছাড়া সে কিছু
বুঝতো না

প্রশাসনের অনুমতির অপেক্ষা করতো না পুলিশ : মনিরুল

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পেটানো হচ্ছে ‍পুলিশ জানতে পারলে হয়তো মৃত্যুর মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা হয়তো নাও ঘটতে পারত। সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে অনুমতি নেয়ার যে রেওয়াজ তা মানা হতো না, বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত আবরার হত্যা মামলার বিষয়ে বলতে গিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, কেউ একজন ফোন করে বলেছিল হলের ভেতরে গোলমাল হচ্ছে। ওই তথ্যে স্থানীয় থানা পুলিশের একটি টহল টিম সেখানে যায়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে গেলে পুলিশের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগে।
ওই রাতে পুলিশ অনুমতি পায়নি যে কারণে ৪০ মিনিট পুলিশ থাকার পর চলে যায়। বাইরে থেকে ভেতরে এ ধরনের কোনও ঘটনার লক্ষণও দেখতে পায়নি পুলিশ সদস্যরা। এই ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশের পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি আমরা পাইনি।

এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ যদি আগেই বুঝতো যে রাতে বুয়েটের হলে এমন একটি ঘটনা ঘটবে বা ঘটতে চলেছে তাহলে অবশ্যই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হতো।

শিবির সন্দেহে মারধর করা হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে শিবির সন্দেহে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ওইটাই একমাত্র কারণ কিনা তদন্তের এই পর্যায়ে বলা যাচ্ছে না। কারণ এর বাইরে আরও কারণ থাকতে পারে, সেটি তদন্ত করা হচ্ছে।

আবরার হত্যা মামলার চার্জশিট শিগগিরই : স্বরাষ্টমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, এই মামলায় একটি নিখুঁত ও নির্ভুল চার্জশিট দিয়ে এর বিচারকাজ দ্রুত শেষ করতে চায় সরকার।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।

আবরার হত্যার অগ্রগতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে। পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ছবি দেখে হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এর বাইরেও যদি কেউ জড়িত থাকে তাদেরও ধরা হবে। কেউ লুকিয়ে থাকতে পারবে না।

Manual2 Ad Code

আবরার হত্যা বাক-স্বাধীনতার ওপর নিষ্ঠুরতম আঘাত : টিআইবি

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডকে ‘বাক স্বাধীনতার ওপর নিষ্ঠুরতম আঘাত’ বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে দেশের সব ছাত্র সংগঠনকে সম্পূর্ণ দলীয় রাজনীতিমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার ( ১০ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানকে উদ্ধৃত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘‘আবরার হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং ছাত্র আন্দোলনের গৌরবময় ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সব ছাত্রসংগঠনসহ শিক্ষাঙ্গণকে সম্পূর্ণ দলীয় রাজনীতিমুক্ত করার কোনও বিকল্প নেই।’

সেই রবিন জামায়াত পরিবারের সন্তান

বুয়েট শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত ফুটেজ আর জবানবন্দিতে তদন্ত কর্মকর্তারা জানতে পারেন আবরার ফাহাদকে নির্যাতনের প্রথম আঘাতটি করে মেহেদী হাসান রবিন। ফাহাদের মৃত্যুর পর পালিয়ে যাওয়া বুয়েট ছাত্রলীগের এই বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতে সদ্য যোগ দিলেও রবিনের পরিবারের সদস্যরা জামায়াত ও শিবিরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ।

রবিনের দাদা মমতাজ উদ্দিন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতের নেতা। দাড়িপাল্লার প্রার্থী হয়ে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় নির্বাচনে। চাচা ইমরান আলী জড়িত শিবিরের রাজনীতির সাথে। নাশকতার ৪টি মামলা আছে তার বিরুদ্ধে।

বুয়েটের ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে (২১) রোববার (৬ অক্টোবর) দিবাগত মধ্য রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে বুয়েটের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মাসুক এলাহি তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে আবরারকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে মারধর করেন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী।