১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৩শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সম্রাট জুয়ার টাকায় দল পালে : সম্রাটের দ্বিতীয় স্ত্রী

admin
প্রকাশিত অক্টোবর ৬, ২০১৯
সম্রাট জুয়ার টাকায় দল পালে : সম্রাটের দ্বিতীয় স্ত্রী

Manual6 Ad Code

ভিডিও: ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি সম্রাট প্রসঙ্গে স্ত্রী শারমিন চৌধুরীর মন্তব্য- সৌজন্যে : যমুনা টেলিভিশন

Manual2 Ad Code

অভিযোগ ডেস্ক :: ঢাকা দক্ষিণের যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী ওরফে সম্রাটের দ্বিতীয় শারমিন চৌধুরী বলেন, জুয়ার টাকা দিয়েই দল পালেন সম্রাট। তার বাড়ি-গাড়ি গড়ার কোনও নেশা নেই। তার একটা নেশা জুয়া। সে জুয়া খেলতে সিঙ্গাপুরেও যেতেন। সেখানে তার এক স্ত্রীও আছে। এ কারণে গত দু বছর আমাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যেতো না সম্রাট।

রোববার (৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমের কাছে এমনটাই দাবি করেছেন সম্রাটের স্ত্রী শারমিন চৌধুরী।

মহাখালী বাসায় গণমাধ্যমকে শারমিন চৌধুরী বলেন, সম্রাট একজন জনপ্রিয় নেতা। তার মতো আর কোনও জনপ্রিয় নেতা নেই। নিখিল নামে ঢাকা উত্তরেও তো একজন নেতা রয়েছেন, তিনি তো তার মতো জনপ্রিয় নন।

শারমিন চৌধুরী বলেন, সম্রাট সফট মাইন্ডের লোক। তার কাছে অস্ত্র থাকতে পারে না। আর রাজধানীতে বিদেশি স্টাইলের এতো ক্যাসিনো ছিল সেটা তো আমি নিজেই জানতাম না।

সম্রাট মহাখালীল বাসায় আসতো না জানিয়ে তিনি বলেন, গত দু’বছর সম্রাট এ বাসায় আসে নি। এটা পুরানো বাসায়। এখানে লিফট নেই। সিঁড়ি বাইতে পারতেন না বলে তিনি এই বাসায় আসতেন না।

শারমিন চৌধুরী বলেন, সম্রাট শুরু থেকেই ‘সম্রাট’। ও শুধু নামে সম্রাট- এমন না, কাজেও সম্রাট। আর যে সহ-সভাপতি বা অন্য কেউ আছে, ওদের মতো না ও। আগে থেকেই ও চলাফেরা খুব ভালো ভালভাবে করতো।

শারমিন বলেন, দু’ বছর ধরে সম্রাটের সাথে তার যোগাযোগ নেই। তার দাবি, ওর সম্পদ বলতে কিছুই নাই। ও যা ইনকাম করে ক্যাসিনো চালিয়ে, সব দলের জন্য খরচ করে। দল পালে, আর যা থাকে তা দিয়ে সিঙ্গাপুরে জুয়া খেলে। সম্পদ বলতে কিছুই নেই। আগে যেমন ছিল এখনও তেমন। সম্রাটের কোনও নেশা নেই ফ্ল্যাট, বাড়ি, গাড়ির প্রতি। ওর একমাত্র নেশা জুয়া খেলা।

Manual7 Ad Code

যোগাযোগ না থাকলে ক্যাসিনো বিষয় কীভাবে জানেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা বোঝাই যায়, জনপ্রিয়তার দেখলে বোঝা যায়, আর এরকম জনপ্রিয়তা কোনও নেতার আছে বলেন? আর কোনও নেতার এমন জনপ্রিয়তা নেই। উত্তরা একজন আছে নিখিল নামে, ওর এরকম জনপ্রিয়তা নেই।

যোগাযোগ না থাকার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার সাথে ওর একটু মিলতো কম। ও ছেলেপুলে নিয়েই থাকতে বেশি পছন্দ করত। আর চাইতো না আমি কোনও ক্যামেরার সামনে আসি আমি, ওপেন ফেস হই। আর আমি শুরু থেকে নামাজটা পড়তে পছন্দ করতাম, বাসায় থাকতে পছন্দ করতাম। ও চাইত আমি এভাবেই চলি চলি।

Manual3 Ad Code

আগে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে গেলেও দু’বছর ধরে সম্রাট তাকে সাথে নেয় না বলে জানান শারমিন চৌধুরী। বলেন, দু’বছর ধরে সিঙ্গাপুরে নেয় না, ওখানে বোধহয় একটা চায়না প্লাস মালয়েশিয়ান মিক্স একটা মেয়ের সাথে সম্পর্ক হয়েছে। ও গেলে তার সাথেই সময় কাটায় আর কি।

চলমান অভিযানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান সম্রাটের এই স্ত্রী। বলেন, আমাদের দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে এই অভিযানের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাবো।

সম্রাটের আর কয়টি বাড়ি আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকা শহরে আমার জানা মতে শান্তিনগরের বাসা, এই বাসা আর ডোমিনাতে একটা ফ্ল্যাটে চার বছর আগে স্লোভাবে দেয়া শুরু করছে, এখানে ৩০ নম্বরে। শান্তিনগরের তার অফিস সেটা তার নিজস্ব অফিস, যে ফ্লোরে তিনি বসতেন। বাকিগুলো আস্তে আস্তে খালি হয়ে গেছে।

সম্রাট মহাখালী যান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ও এখানে আসে না ওপেন হার্ট সার্জারির রোগী সিঁড়ি ভাঙা নিষেধ। দেখা করতে হলে আমি কাকরাইলে যেতাম। অভিযানের পর আমার সাথে যোগাযোগ করে নাই ও সবসময় ভাবতো আমি বোকা, আমি সব বলে দিব, আমাকে কিছুই বলে নি।

Manual2 Ad Code

শারমিনের দাবি, সম্রাট চাইতো না অবৈধ টাকায় সংসারের খরচ করতে। সে চাইতো না তার পরিবারের লোকজন অবৈধ টাকায় চলুক। সেজন্য সেসব টাকা দলের পেছনেই খরচ করতো। যুগ পাল্টেছে। টাকা না দিলে ছেলেপুলে আসে না। তাই সে সেখানেই খরচ করতো।

ক্যাসিনো কাণ্ডে গ্রেফতার যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটের তিনজন স্ত্রী রয়েছেন। এর মধ্যে একজন বিদেশি স্ত্রী আছে বলেও জানা গেছে।

পারিবারিক সূত্র জানা গেছে, সম্রাটের দুই স্ত্রী। প্রথম পক্ষের স্ত্রী বাড্ডায় থাকেন। প্রথম পক্ষে সম্রাটের এক মেয়ে। তিনি পড়াশোনা শেষ করেছেন।

সম্রাটের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন চৌধুরী মহাখালীর ডিওএইচএসে থাকেন। তার এক ছেলে। তিনি মালয়েশিয়ায় এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।

সিঙ্গাপুরে সম্রাটের বিদেশি একজন স্ত্রী আছে বলেও পারিবারিক সূত্রটি জানায়। তবে ওই স্ত্রীর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় নি।

সূত্র জানায়, সম্রাট মহাখালীতে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসাতেই স্থায়ী ভাবে থাকতেন। তবে দুই বছর ধরে তিনি বাসায় যেতেন না। কাকরাইলে নিজের কার্যালয়ে থাকতেন। তবে বাসার বাইরে থাকলেও গাড়ির চালকের খরচসহ পরিবারের সব খরচ দিতেন সম্রাট।