১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা

Editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৫, ২০২৬
রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা

Manual7 Ad Code

রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা

লোকমান ফারুক, রংপুরঃ রবিবার সকাল। হাসপাতালের বহির্বিভাগে ভিড়টা আজও স্বাভাবিক তবু ভেতরে এক ধরনের নীরব উৎকণ্ঠা। কোলের শিশুটি কাঁদছে না, শুধু তাকিয়ে আছে। মায়ের চোখে ঘুম নেই। জ্বরের তাপ আর দাগের ছোপ একটি পুরোনো রোগ আবার নতুন করে দরজায় কড়া নাড়ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে সাতজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। সংখ্যাটা ছোট। কিন্তু গল্পগুলো ছোট নয়। দিনাজপুরে তিনজন, পঞ্চগড়ে চারজন তারা সবাই হাসপাতালের বহির্বিভাগে এসেছে, যেন একই অদৃশ্য সুতায় বাঁধা। স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসাব বলছে ৩০ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ৯৩ জন। এর মধ্যে ৬৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বাকি ৩০ জন এখনও হাসপাতালে। সংখ্যা এখানে দুই রকম কথা বলে একদিকে আশ্বাস, অন্যদিকে সতর্কবার্তা।

Manual5 Ad Code

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গওসুল আজিম চৌধুরী বললেন, “এখনও কোনো মৃত্যুর খবর নেই।”
এই বাক্যটি যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস তবু পুরো গল্প নয়।
কারণ, হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়ালে সংখ্যাগুলো আর কাগজে থাকে না। তারা মুখ পায়। একজন বাবা বললেন “জ্বরটা প্রথমে সাধারণ মনে হয়েছিল। এখন বুঝছি, বিষয়টা তত সহজ না।” এখানেই বৈপরীত্য
কাগজে ‘উপসর্গ’, বাস্তবে ‘উদ্বেগ’।রিপোর্টে ‘সাতজন’, করিডোরে ‘সাতটি পরিবার’। স্বাস্থ্যব্যবস্থা বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু প্রশ্নটা থেকে যায় এই নিয়ন্ত্রণ কতটা স্থায়ী? আর কতটা দৃশ্যমানের আড়ালে অদৃশ্য ঝুঁকি জমছে?

Manual6 Ad Code

হাম একটি পুরোনো রোগ, প্রায় ভুলে যাওয়া নাম।
কিন্তু ইতিহাস বলে, এই রোগ কখনো পুরোপুরি হারায় না; সুযোগ পেলে ফিরে আসে। ঠিক যেমন আগুন ছাইয়ের নিচে লুকিয়ে থাকে, বাতাস পেলেই জ্বলে ওঠে।
এখানে আরেকটি নীরব প্রশ্ন টিকাদান কি সবার কাছে পৌঁছেছে? গ্রামের শেষ প্রান্তে, শহরের ভিড়ের পেছনে যেখানে হিসাব পৌঁছায় না, সেখানে কি সুরক্ষা পৌঁছায়?
প্রতিবেদন বলছে ” মৃত্যু নেই।” কিন্তু জনস্বাস্থ্যের ভাষায়, এটি শেষ কথা নয় শুধু একটি মুহূর্তের ছবি।

দিন শেষে হাসপাতালের ভিড় কমে আসে। একটি শিশুকে নিয়ে মা বাড়ি ফিরছেন সুস্থ হয়ে ওঠার পথে।
আরেকজন এখনও বিছানায় জ্বরের সঙ্গে লড়ছে।
গল্পগুলো এখানেই শেষ হয় না। কারণ, এই সাতজনের গল্প, হয়তো আগামীকাল আরও সাতজনের শুরু।
প্রশ্নটা তাই থেকে যায় আমরা কি প্রস্তুত, নাকি শুধু সংখ্যা গুনছি? সকালের সেই করিডোরে ফিরে গেলে, দেখা যাবে কোলের শিশুটি এবার একটু ঘুমিয়েছে।
মায়ের চোখে এখনো চিন্তা, কিন্তু তার ভেতরে একটুখানি ভরসাও। আর এই ভরসা আর শঙ্কার মাঝখানেই দাঁড়িয়ে আছে পুরো গল্পটা যেখানে প্রতিটি সংখ্যা আসলে একটি জীবন, আর প্রতিটি জীবন একটি অসমাপ্ত সংবাদ।

Manual1 Ad Code