৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সৈয়দপুরে রাস পদ্ধতিতে তরুণ প্রকৌশলী কামরুজ্জামান কণক মাছ চাষ করে সফলতা

admin
প্রকাশিত আগস্ট ১৬, ২০২০
সৈয়দপুরে রাস পদ্ধতিতে তরুণ প্রকৌশলী কামরুজ্জামান কণক মাছ চাষ করে সফলতা

Manual4 Ad Code

 

মোঃ আমির হোসেন,সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ

Manual3 Ad Code

সময়ের সাথে মাছের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে মাছ চাষে প্রযুক্তি নির্ভর নিত্যনতুন পদ্ধতির উদ্ভব হয়েছে। তেমনি মাছ চাষে বৈপ্লবিক সম্ভাবনাময় একটি পদ্ধতি হলো রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম। সংক্ষেপে একে রাস পদ্ধতি বলা হয়। চীনে উদ্ভব এই পদ্ধতিতে অল্প জায়গায় অধিক মাছ চাষ করা যায়।

 

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের মছে হাজী পাড়ার তরুণ প্রকৌশলী কামরুজ্জামান কনক রাস পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। ২০১৯ সালে চাকরি ছেড়ে নিজ উদ্দ্যোমে কিছু করার তাগিদে গ্রামে এসে ১১ শতক জমিতে পরীক্ষামূলক ভাবে চারটি ট্যাংকে মাছ চাষ শুরু করেন। আশানুরূপ ফলাফল পাওয়ায় এবছর থেকে বানিজ্যিক আকারে পুরোদমে মাছ চাষ করছেন।

 

Manual7 Ad Code

চারটি ট্যাংক দিয়ে রাস পদ্ধতি শুরু করা কনকের জামান অ্যাকুয়া অর্গানিক ফিশ ফার্মে এখন ছয়টি ট্যাংক। আট হাজার লিটার পানি ধারন ক্ষমতা সম্পূর্ণ প্রতিটি ট্যাংক থেকে তিনি প্রায় ৪০০ কেজি করে মাছ উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছেন। তেলাপিয়া মাছ দিয়ে যাত্রা শুরু করা জামান অ্যাকুয়া অর্গানিক ফিশ ফার্মে এবছর শিং, দেশী কৈ ও ভিয়েতনামি কৈ মাছ চাষ করা হচ্ছে।

Manual8 Ad Code

 

এরইমধ্যে মাত্র চারমাসে দুইটি ট্যাংকের ভিয়েতনামি কৈ মাছ বিক্রির উপযোগী হয়েছে। নিত্যদিনই কেমিক্যাল মুক্ত তার এই সুস্বাদু মাছ কিনতে জামান অ্যাকুয়া অর্গানিক ফিশ ফার্মে ভিড় জমাতে দেখা যায় আগ্রহী ক্রেতাদের। এছাড়াও ক্রেতাদের নিকট একেবারে টাটকা মাছ পৌছে দেবার লক্ষ্যে বর্তমানে তিনি সৈয়দপুরে হোম ডেলিভারি সার্ভিসও চালু করেছেন।

 

বছরে দুইবার মাছ চাষ করার প্রত্যয়ে গড়ে উঠা কামরুজ্জামানের এই ফার্মে দেশি কৈ ও শিং মাছ চলতি বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ বাজার উপযোগী হবে। এরমধ্যে ফার্মের ভিতরেই খননকৃত ছোট আকৃতির একটি পুকুরে তিনি শিং মাছের রেনু থেকে পোনা প্রস্তুত করছেন। যা অক্টোবর নাগাদ ট্যাংকে স্থানান্তরের মাধ্যমে রাস পদ্ধতিতে চাষ করবেন।

 

Manual3 Ad Code

অল্প জায়গায় অধিক ঘনত্বে মাছ চাষে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করা রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেমে একই পানি পুনরায় সম্পূর্ণরূপে পরিশোধিত হয়ে মাছের ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হয়। ফলে এখানে পানি অপচয়ের কোন সুযোগ নেই। এছাড়াও মাছের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়। তবে এজন্য প্রয়োজন সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।

 

রাস পদ্বতিতে নিবিড় পরিচর্যা থাকায় মাছের জন্য এ্যান্টিবায়েটিক ও কোনো রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না। এই পদ্ধতিতে ফ্রেশ খাবার খাওয়ানোর ফলে পুকুরে চাষ করা মাছের চেয়ে রাস পদ্বতিতে উৎপাদিত মাছ অনেক বেশি সুস্বাদু। মাত্র একজন দক্ষতাসম্পন্ন লোক হলেই এই পদ্ধতিতে গোটা একটি ফার্ম চালানো সম্ভব।

 

রাস পদ্ধতিতে মাছ চাষ সম্পর্কে জানতে চাইলে জামান অ্যাকুয়া অর্গানিক ফিশ ফার্মের কর্ণধার কামরুজ্জামান কনক জানান, ‘এই পদ্ধতিতে পুকুরের চেয়ে ৩০ গুন অধিক মাছ উৎপাদন করা সম্ভব। পুকুরে যেখানে ২ কেজি খাবারে ১ কেজি মাছ উৎপাদন করা যায়, রাস পদ্বতিতে সেখানে মাত্র ১২০০ গ্রাম খাবারে ১ কেজি মাছ উৎপাদন করা সম্ভব। এই পদ্ধতিতে দেশী শিং, মাগুর, কৈ, পাবদা, টেংরা, তেলাপিয়া, পাংগাস, চিংড়ি, ভেটকি সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চাষ করা যায়।’

 

তিনি আরো জানান, ‘এই প্রযুক্তিটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ন্যায় বর্তমানে বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রাথমিক বিনিয়োগের পরিমাণ কিছুটা বেশি হলেও পরবর্তীতে রাস পদ্ধতির ব্যবস্থাপনা ব্যয় সাশ্রয়ী ও দীর্ঘস্থায়ী। বর্তমান সময়ে দেশের মানুষের বিপুল পরিমাণ আমিষের ঘাটতি পূরণে আধুনিক রাস পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’