রবিউল ইসলাম, মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার এএসআই সাদিক বাসাকে বানিয়েছে হাজতখানা। মঙ্গলবার ২মাদক ব্যবসায়ীকে দিনভোর বাসায় আটকে রেখে রাতে মোটা অংকের অথের্রে বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২কেজি গাঁজা উধাও।
প্রাপ্ত সূত্রে প্রকাশ, মঙ্গলবার সকালে পৌরসভাধীন জলিলপুর মন্ডলপাড়ার খেদের শেখের ছেলে ফারুককে কয়েক পুরিয়া গাঁজা সহ মহেশপুর থানার এএসআই সাদিক আটক করে। তার জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক জানায়, নস্তি মৎস্য পাড়ার ফটিক ফকিরের ছেলে ফয়জুল্লার কাছ থেকে এই গাঁজা সে খরিদ করেছে। পুলিশ এ সময় ফারুকের মাধ্যমে মোবাইলে ফয়জুল্লার কাছ থেকে আরো ২কেজি গাঁজা কেনার জন্য চুক্তি করে। তাদের সাথে ২কেজি গাঁজা ৪৬ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। ফয়জুল্লার কাছ থেকে দুপুরে বোয়ালিয়া দাসপাড়া থেকে ছদ্ববেশে গাঁজা কেনার সময় পুলিশ তাকে হাতেনাতে আটক করে। আটকের পর জলিলপুর মোতালেব প্লাজা এএসআই সাদিকের ভাড়া বাসায় আটক রাখে।
দিরভোর দর কষাকষির এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে জলিলপুর হাই স্কুল মাঠে ফয়জুল্লাকে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে পরিবারের কাছে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় ফয়জুল্লার শ্বাশুড়ি নওদাগ্রাম মাঠপাড়ার কাওসারের স্ত্রী আলেমা খাতুন জলিলপুরের সাবেক কমিশনার হাশেম আলীর ২ভাই শামীম ও আয়ুব হোসেন এবং জলিলপুর স্কুলপাড়ার হারুন শেখের ছেলে আরজু শেখ ও একই গ্রামের ব্যবসায়ী রফি উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষ দর্শী রফি উদ্দিন জানায়, ফয়জুলের পরিবারের মাধ্যমে লেনদেন করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। একই কথা বলেন জলিলপুর হাই স্কুলের নাইটগার্ড ফয়জুলের আত্মীয় শামীম শেখ।
এ বিষয়ে এএসআই সাদিক বলেন, দীর্ঘ সময় তার মাধ্যমে গাঁজা উদ্ধারের চেষ্টা করা হয় কিন্তু গাঁজা না পাওয়ায় ওসির অনুমোতিক্রমে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মহেশপুর থানার ওসি মোর্শেদ হোসেন খাঁনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। স্থানীয় লোকজন জানায়, এএসআই সাদিক এখানে ভাড়া বাসায় থেকে নানা ধরণের অপকর্মের সাথে লিপ্ত রয়েছে। পুলিশ বিধায় তারা ভয়ে কিছু বলতে সাহস পায় না। এলাকাবাসী প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।