মোঃ মোহাইমিনুল ইসলাম, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
দুবছর আগে প্রকোপ শীতে আগুন পোয়াতে গিয়ে নেমে আসে জরিনার জীবনে অন্ধকার। জীবন বাঁচাতে এখন মানুষের কাছে হাত পাততে হচ্ছে। একদিকে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে পেটে ভাত দিতে হয়, অন্য দিকে সুচিকিৎসার অর্থ না থাকায় হামাগুড়ি দিয়ে চলতে হয় তাকে।
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের রামরামপুর গ্রামের মৃত আব্দুস ছামাদের স্ত্রী জরিনা বেওয়া(৭০)। জরিনার বিয়ে হয় ৫৪বছর আগে একই ইউনিয়নের রামখানা গ্রামের ছামাদের সাথে। ব্রহ্মপুত্র নদের করালগ্রাসে হারিয়ে যায় ভিটেমাটি। পরবর্তীতে ছামাদ স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের মাদারটারী গ্রামে অন্যের জায়গায় বসবাস করে। আব্দুস ছামাদ জমিজমা হারিয়ে স্ত্রী সন্তানকে বাঁচাতে কিছুদিন কাজ করে সংসার চালালেও বয়সেরভারে ছামাদ শেষ বয়সে ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালান।
বছর দশেক আগে স্বামী হারিয়ে একমাত্র পুত্রকে নিয়ে রামরামপুর গ্রামে অন্যের জায়গায় বাড়ী করে। পুত্র জয়নাল আবেদীন অনেক কষ্টে ২শতক জমি কিনে সেখানে মাকে নিয়ে বসবাস করেন। গত ২বছর আগে ৭০ বছরের বৃদ্ধা জরিনা বেওয়া প্রকোপ শীতে আগুন পোয়াতে গিয়ে অসাবধানতায় গায়ের কাপড়ে আগুন লেগে শরীরের দুই-তৃতীয়াংশ পুড়ে যায়। এসময় জরিনা আগুনে পুড়ে গিয়েও বেঁছে যায়। সু-চিকিৎসার অভাবে পায়ের হাটুর মাংস একত্রিত হওয়ায় এখন দাড়িয়ে চলাফেরা করতে পারে না। ছেলের অভাবের সংসারে জরিনার খাবার না জোটলেও বয়সেরভারে তাকে বেছে থাকার জন্য অন্যের কাছে হাত পাততে হচ্ছে। অন্যের কাছে হাত পাততেও পারেন না জরিনা বেওয়া কারণ হামাগুড়ি দিয়ে চলবেন আর কতদুর তাই বাড়ীর পাশে যতদুর সম্ভব হয় ততটুকুর মধ্যে পরিচিত জনদের কাছে হাতপেতে কিছু পেলে এবং বিধবা ভাতার সামান্য টাকা দিয়ে কোন রকমে বেঁচে আছেন।
জরিনা বেওয়া প্রতিনিধিকে বলেন,মুই অচল মানুষ মোক নেম্বর চেয়ারমেন কিছু দেয় না। এলা মুই কোথাও যাবারও পাং না। কাঈও যদি মোক বাঁচি থাকার জন্যে চিকিৎসে করিল হয়, তখন মুই ভাল হয়া চলবের ফিরবের পানুং হয়।
ঐ এলাকার পল্লী চিকিৎসক আব্দুর রশীদ বলেন, জরিনা বেওয়ার সু-চিকিৎসা করা গেলে সে পুর্বের মত চলাফেরা করতে পারতো। তার সু-চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদেরকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
এ বিষয়ে হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন জানান, তার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।