রাকিব হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
করোনার মরণ থাবার ভয়ে চরম বিপাকে ভোলার কর্মহীন ঘরবন্দী খেটে খাওয়া নিত্য আয়ের মানুষগুলো। এদের জমানো যে পুঁজি ছিল তাও এখন শেষ। এসব লোকজন না পারছে ঘর থেকে বের হয়ে কর্মে ফিরতে, না পারছে অন্যদের মতো ত্রাণের জন্য এদিক ওদিক ছুটতে। আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে কাটছে এদের দিন। ঘরবন্দি পরিস্থিতি যত দীর্ঘ হচ্ছে এদের অবস্থা ততোই খারাপ হচ্ছে। হতদরিদ্রদের নিয়ে ভাবলেও কর্মহীন এসব নিত্য আয়ের মানুষগুলোকে নিয়ে কেউ ভাবছেন না বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
ভোলা জেলার সব স্থানেই রয়েছে নিত্য আয়ের মানুষের বসবাস। এদের মধ্যে স-মিলের শ্রমিক, রিক্সা-ভ্যান চালক, অটো চালক, , কেউ আবার গণপরিবহণের শ্রমিক এবং হোটেল-রেস্তোরায় কাজ করেন। এদের অনেকেই পায়নি কোনো ত্রান সহযোগিতা, আর মধ্যে বিত্ত পরিবার গুলোতো অসহায় হয়ে পরেছে । করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে আয়ের পথ বন্ধ হওয়ায় অনেক কষ্টে দুর্বিসহ জীবন-যাপন করছেন বলে জানান তারা। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ও জনসমাগম এড়াতে গত ২৬ মার্চ থেকে সরকারী ছুটি চলছে।
করোনা বিস্তার রোধে প্রায় ২৫ দিন ঘরে থাকার কারণে ভোলার খেটে খাওয়া বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
করোনা মোকাবেলায় সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারী যে খাদ্য সহায়তা কর্মসুচী তা এখন অনেকটা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সোমবার সকালে কথা হয় ভোলা বোরহানউদ্দিন এর কয়েকটি ইউনিয়ন এর খেটে খাওয়া মানুষদের সাথে , প্রতিদিন কাজ করে সংসার চালান তাঁহারা । কাজ না থাকায় আয়-রোজগার সব বন্ধ। হাতে যা ছিল তা শেষ, ঘরে খাবার নাই এখন কিভাবে সংসার চালাবে তা নিয়ে খু্বই দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন তারা। সরকার থেকে বিভিন্ন যায়গায় অনেক খাদ্যসামগ্রী বিতারণ করা হলেও আমরা অসহায়রা পাইনি এ কথা বলে মনের অজান্তেই চোখের জল টলটল করতেছিল। কথা হয় বিভিন্ন পরিবহণের ড্রাইভারদের সাথে, তারা বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে সরকার আমাদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্ত ইনকাম না থাকলে আমরা খামু কি ? তাই মাঝে মধ্যে বের হই। কিন্ত যাত্রী কম আবার পুলিশের তাড়া তো আছেই। ভোলার বিভিন্ন জায়গায় চাল-ডাল দিয়েছে,কিন্তু অনেকেই পায়নি। এ পরিস্থিতিতে কীভাবে সংসার চালাবে তা নিয়ে চিন্তিত বলে জানান তারা।