এম আব্দুল করিম, সুনামগঞ্জ থেকে :
সুনামগঞ্জ জয়কলশ পুলিশ ফাঁড়ি (বদিরগাঁও)’র বিরুদ্ধে করোনা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে রমরমা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার সকাল ৮ টা থেকে ফাঁড়ির সামনে চেকপয়েন্ট বসিয়ে শতাধিক গাড়ী আটকে রাখা হয়। এ সময় সামাজিক দুরত্ব ভেঙ্গে করোনা ভাইরাস সংক্রমের ঝুঁকি নিয়ে কয়েকশত যাত্রী ফাঁড়ির সামনে অবস্থান নেন। দলবদ্ধ ভাবে কেউ কেউ পায়ে হেটে চলতে থাকে স্ব-স্ব গন্তব্যে।
স্বাভাবিক নিয়মে ৩ জন যাত্রী নিয়ে যানবাহন চলাচলে হাইওয়ে পুলিশের বাধা, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যে অতিষ্ট চালক ও যাত্রী সাধারন। তবে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে নারাজ চালকরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চালক জানান, তাদের সিএনজিতে কোন যাত্রী না থাকার পরও আটকে রাখা হয়েছে। আবার অনেকের নিকট থেকে ১ হাজার টাকা করে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন ধরে সকাল ১০ টার পর রহাইওয়ে পুলিশ চেকপয়েন্টে বসলেও গতকাল রোবাবর সকাল সাড়ে ৭টা থেকে তারা মাঠে নেমেছেন। তাদের আচরনে অতিষ্ট সাধারন রোকজন। অনেকেই রোগী নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে। শতাধিক গাড়ী আটক করলেও মামলা কয়টি দায়ের করা হয়েছে জানা যায়নি।
এক সুত্র জানায়, সিলেট-সুনামগঞ্জের সড়কের কাজিবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট এলাকায় গভীর রাতে চেকপয়েন্ট বসিয়ে চালকদের নিকট থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করছে হাইওয়ে পুলিশ। এমনকি সুনামগঞ্জ থেকে সিলেটগামী ভারতীয় অবৈধ পণ্য ছাড় দিয়ে মোট অংকের চাঁদা আদায় করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
স্বরজমিনে গতকাল রোবাবর সকাল ১০ টায় হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শতাধিক গাড়ী ফাঁড়িতে আটক রয়েছে। যাত্রী সাধারন ফাঁড়ির সামনে সামাজিক দুরত্ব ভেঙ্গে ভিড় করে রেখেছেন। এ সময় ফাঁড়ির এমন দৃশ্য ক্যামেরা বন্ধি করতে চাইলে বাঁধা প্রদান করেন রুহুলসহ অন্যন্য পুলিশ সদস্যরা।
ইনচার্জের অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা যাবেনা বলে বলেন তারা। ফাঁড়ি থেকে প্রায় ২শত গজ পূর্বে জালালপুর ব্রিজের পূর্ব পাশে একা ডিউটি করছেন জয়কলশ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি (বদিরগাঁও) ইনচার্জ আমির উদ্দিন। অভিযোগ উঠেছে তিনি কৌশলগত কারনে ফাঁড়ির সামনে চেকপয়েন্টে অবস্থান না করে দুরে অবস্থান করে পুলিশ সদস্যদের দিয়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জয়কলশ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি (বদিরগাঁও) ইনচার্জ আমির উদ্দিন বলেন, ৩ জনের অধিক যাত্রী বহনের কারনে গাড়ীগুরো আটক করা হয়েছে।