মোঃ মনিরুজ্জামান (মনির) , রংপুর জেলা প্রতিনিধি :
সারাদেশে ভাইরাস নিয়ে যখন বৈশ্বিক মহামারীতে লাফিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে ঠিক তখনই রংপুরে ঘটছে একের পর এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ড। রংপুর নগরীর ১৫ নং ওয়ার্ডের তাজহাট মেট্রোপলিটন থানাধিন পূর্বঘাঘট পাড়া এলাকায় ৯এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকান্ডে তিনটি অসহায় পরিবারের ঘরবাড়ি আসবাবপত্রসহ নগদ অর্থ তিনটি গরু মারা গেছে ও দগ্ধ হয়েছে আরো ২টি গরু।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে বৈদ্যুতিক শট সার্কিট কিংবা মশার কয়েল থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত ঘটতে পারে তবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিরা হলেন পূর্ব ঘাঘট পাড়া এলাকার মৃত আমজাদ হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম, পুত্র জামাদুল ইসলাম ও শাহিন আলম। উক্ত ব্যক্তিরা একই পরিবারের হলেও তারা আলাদা থানায় বিভক্ত।
এই ঘটনায অসহায় জামাদুল ইসলাম বলেছেন আমি আমার মা এবং আমার ভাই তিনটি আলাদা আলাদা পরিবার।
গতকাল রাতে হঠাৎ আমরা আগুন দেখতে পাই এবং আগুন দেখার পরপরই আমরা সবাই ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়ি। পরে এলাকাবাসী বিষয়টি চিৎকার শুনে তারা এসে অগ্নিকান্ড নির্বাপনে সহায়তা করে এবং ফায়ার সার্ভিসকে ফোন দেয়, পরে ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসীর সহায়তায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। কিন্তু আগুনের ভয়াবহ থাবা থেকে ঘরে থাকা কোন জিনিস পত্র বের করতে পারিনি সব পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।
তিনি আরো বলেন এই অগ্নিকান্ডের ফলে আমার ঘরে থাকা প্রায় ১০ হাজার টাকা এবং ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর ৬০ হাজার টাকার স্বর্ণালংকারসহ আমার মায়ের গোয়াল ঘরে থাকা তিনটি গরু পুড়ে মারা গেছে এবং দুইটি গরু গুরুতর ভাবে আগুনে পুড়ে গেছে।
এ ঘটনায় তাজহাট থানার অফিসার ইনচার্জ রোকনুজ্জামান বলেন আমরা খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন দেই, কিন্তু করনা ভাইরাসের জন্য রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে গতিরোধক থাকায়, একটু দেরি হলেও তারা দ্রুতই ঘটনা স্থলে পৌছে ফায়ার সার্ভিস এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষতির পরিমান ধারনা নাই।
রংপুর ফায়ার সার্ভিস উপ-পরিচালক খোরশেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন । তিনি জানান আমরা খবর পাওয়া মাত্রই উক্ত স্থানে পৌঁছেছি এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। দুইটি ঘড় একটি রান্নাঘড়, ঘরে থাকা সকল আসবাবপত্র, তিনটি গরু পুড়ে মারা গেছে, পাশাপাশি প্রায় ৩লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং প্রায় ৮লক্ষ টাকার জিনিস পাতি উদ্ধার করা হয়।