৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

পবিত্র বরকতময় মাহে শাবানের ফজিলত ও শবে বরাতের আমল

admin
প্রকাশিত এপ্রিল ৮, ২০২০
পবিত্র বরকতময় মাহে শাবানের ফজিলত ও  শবে বরাতের আমল

Manual3 Ad Code

শাহ্ মোহাম্মদ মোজাহিদ আলী আজমী

♦ আরবী মাসসমূহের মধ্যে অষ্টম মাস হলো শ’বান। এ মাসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হযরত রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাসে যত বেশি পরিমান রোযা রাখতেন, যা অন্য কোন মাসে রাখতেন ন। এ জন্য মাহে শাবানে বেশি পরিমাণে রোযা রাখা মোস্তাহাব।
মাহে শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত বা মুক্তির রজনি।যা বিশ্ব মুসলমানের জন্য বিশেষ ফজিলতময় রাত্রি।
‘শবে বারে ‘ আত ‘ ফার্সি শব্দ। শব অর্থ হলো রাত আর বারাআত অর্থ মুক্তি। অর্থাৎ এ রাতে ইবাদত -বন্দেগী ও তাওবার দ্বারা বান্দা গুনাহ থেকে মুক্তি লাভ হয়।

 

শবে বারাআতের সম্পর্কে এক শ্রেণির মানুষ বিভ্রান্ত সৃষ্টি করে প্রচার করে বেড়ায় যে, শবে বরাত বলতে কোরআন ও হাদিসে কিছু নেই। কথা হলো, কোরআন হাদিস জানেনা শবেবরাত মানে। আর তা হলো অত্যান্ত মূর্খতা ও অজ্ঞতার পরিচয়।
অথচ হাদিস শরীফে শবে’ আতের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ রয়েছে। শবেবরাতের ফজিলত সম্পর্কে সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফে হযরত আলী রাঃ থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ” যখন শাবানের মধ্য তারিখ ( শবেবরাত) আগমন করে, সেদিন তোমরা রোযা রাখো এবং রাতে আল্লাহর ইবাদতে দণ্ডায়মান হও।কেননা উক্ত দিবসে সূর্যাস্তের পর মহান রব আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং জগতবাসীকে ডেকে বলেন, আছো কি কেউ ক্ষমতা প্রার্থী ? আমি থাকে ক্ষমা করে দিব।আছো কেউ কি রিজিক অন্বেষী ? আমি তাকে রিজিক দান করবো।এভাবে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয় ও সমস্যার কথা উল্ল্যেখ করে মহান আল্লাহ তায়ালা বান্দাদেরকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত ডাকবেন।
( দলিল-সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ হাদিস নং ১৩৮৮)

Manual4 Ad Code

 

অন্য হাদিসে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ” আল্লাহ তায়ালা মধ্য শাবানে ( লাইলাতুল বরাআতে) দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং মুশরিক ও হিংসুক – বিদ্বেষকারী ব্যতীত সকল ক্ষমাপ্রার্থীকে ক্ষমা করেন।
(দলিল- বাইহাকী শরীফ, হাদিস নং ৩৬৬৮)

 

Manual2 Ad Code

অপর একটি হাদিস উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ)থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, একবার আমি রাতের বেলায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমার বিছানায় খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অনেক তালাশের পর হঠাৎ আমি দেখতে পেলাম যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতুলা বাকি নামক কবরস্থানে স্হানে অবস্থান করেছেন। আমাকে দেখেই তিনি বলেন, হে আশেয়া ! তুমি কি আল্লাহ তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে তোমার উপর কোন জুলুমের আশংকা করছো ? আমি আরজ করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) আমি ধারণা করছিলাম, আপনি হয়তো আপনার অন্য কোন বিবির ঘরে তাশরীফ নিয়েছেন। অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ” আল্লাহ তায়ালা ১৫ শাবানের রজনীতে দুনিয়া আসমানে অবতরণ করেন এবং বনী কালব নামক গোত্রের বকরীসমূহের পশমের চেয়ে বেশী সংখ্যক মানুষকে ক্ষমা করেন।
(দলিল _জামি’ তিরমিযী শরীপ, হাদিস নং ৭৩৯)

Manual2 Ad Code

 

অনুরূপভাবে এ রাতের ফজীলতের ব্যাপারে বিভিন্ন সনদে বর্ণিত আরো অনেক হাদিস পাওয়া যায়। যার একাদিক সহিহ ও কোনটা জয়ীফ হলেও সমর্থন থাকায় আমল যোগ্য।আর আমলের ক্ষেত্রে দূর্বল হাদিস ও গ্রহণযোগ্য। এ সকল হাদিস শরীফ দ্বারা শবে বারাআতের ফজিলত ও গুরুত্ব বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হল।যাকে কোন ভাবেই অস্বীকার করা যাবে না।

 

তবে অব্শ্যই শবেবরাত পালন করতে হবে শরীয়ত সম্মতভাবে।কোন অবস্থাতেই শরীয়ত বিরোধী বা নিজের মনগড়া পদ্ধতিতে এ রাতে কোন কিছু করা যাবে না। যা নেক এর বিপরীতে গুনাহ হবে।যেমন, অনেক বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে মসজিদ ও কবরস্থান সমূহকে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করেন এবং দলবদ্ধভাবে জাঁকজমক করে কবরস্থানে গমন করে।এটা অনুচিত। অবার অনেকে শবেবরাত উপলক্ষে বিভিন্ন প্রাণীর অকৃতিতে অনেক কিছু তৈরী করা হয়। যা অন্যায় কাজ। অপরদিকে ছেলেমেয়েরা বাড়ীঘরে এ রাতে অর্নথক মোমবাতি জ্বালায়, অনেকে অতশবাজি ও বোমাবাজি করে। এ সবকিছু ইসলাম সমর্থন করে না।

 

বরং শবেবরাতের নফল ইবাদতকে নফল পর্যায়ে রেখেই আদায় করতে হবে। যার যার বাড়িতে একাকীভাবে এ রাতে নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ নামাজ, সালাতুত তাছবিহের নামাজ,বাদ মাগরিব আউয়াবিলের নামাজ, সালাতুল হাজতের নামাজ,কুরআন তেলাওয়াত,, জিকির- আজকার, তাসবিহ – তাহলিল, বেশি বেশি দুরুদ শরীফ পড়া, তাওবাহ -ইস্তেগফার,মুরাকাবা, মুশাহাদা প্রভৃতি ইবাদত – বন্দেগী করা আবশ্যক।
আর শবেবরাতের রাতে সারা রাত ইবাদত বন্দেগী করা পরের দিন রোযা রাখা অর্থাৎ শাবানের ১৫ তারিখ রোযা রাখা। আবার কেউ চাইলে এর আগের আরে ২ দিন মিলিয়ে আইয়্যামে বীজের ১৩,১৪ও ১৫ তারিখ এ তিন দিন রোযা রাখা খুবই উত্তম।

 

Manual6 Ad Code

পরিশেষে, আল্লাহ তায়ালা যেন প্রবিত্র বরকতময় মুক্তির রাত শবেবরাতের উসিলায় বিশ্ব ব্যাপী করুন নামক মহামারী গজব থেকে বিশ্বের সকল মানুষকে তার কুদরতী হাতে হেফাজত করেন এবং জমিন থেকে গজবকে উঠিয়ে নেন।