৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

জমজমাট চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাজার, আমের দাম বেশি পাওয়ায় আম চাষীর মুখে তৃপ্তির হাসি

admin
প্রকাশিত জুলাই ১, ২০১৯

Manual7 Ad Code

Manual8 Ad Code

 সিফাতুল্লাহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ– আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ। আর জেলার সবচেয়ে বড় আমবাজার শিবগঞ্জের কানসাট। কানসাটের আমবাজারে এখন ভরা মৌসুম। মাঠজুড়ে শুধু আম আর আম। শুধু তাই নয়, মাঠ পেরিয়ে শিবগঞ্জ-সোনামসজিচদ মহাসড়কের কানসাট বাজারের উভয়দিকে অন্তত ৩ কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে আমের ডালা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কৃষক। চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত চার বছরে ঝড়, তাপদাহ ও শিলাবৃষ্টির কারণে ব্যাহত হয়েছে আম উৎপাদন। একইসঙ্গে উৎপাদিত ফলে ফরমালিন ব্যবহারের অভিযোগে আটকের পর তা ধ্বংসের ফলে ক্ষতি হয়েছে অগুনতি চাষির। ওজন জটিলতার কারণেও বিপদে ছিলেন তারা। তবে, প্রতিকূল পরিবেশ এখন অতীত। এবার ফলন হয়েছে ভালো, বেড়েছে আমের দাম। তাই এখন আম চাষী ও কৃষকের মুখে ‘তৃপ্তির হাসি’। বিগত বছরগুলোতে দাম নিয়ে আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চাষিরা ছিলেন হতাশ। তাদের দাবি, গত চার বছর আমের সঠিক মূল্য থেকে তারা ছিলেন বঞ্চিত। একইসঙ্গে নানা জটিলতা ছিল তাদের আর্থিক ক্ষতির কারণ। প্রকৃতির আচরণও ছিল বিরূপ। এবার বদল ঘটেছে পরিস্থিতির। এবছর আমের মৌসুম শুরু হয়েছে রমজান মাসে। সেসময় আদালতের নির্দেশনা ছিল অপরিপক্ক ফলে কেমিক্যাল দেওয়া যাবে না। একইসঙ্গে বেঁধে দেওয়া

Manual2 Ad Code

সময়ের আগে তা পাড়াও যাবে না। এতে বিপাকে পড়েছিলেন অনেক চাষি। মৌসুম শুরুর পরও তারা আম পাড়তে পারছিলেন না। সব মিলিয়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী বাজারে আম আসে একটু দেরিতে। এর মধ্যে ওজন জটিলতার কারণে বৃহত্তম আমবাজার কানসাট বন্ধ থাকে দু’দিন। চাষিরা আশঙ্কা করছিলেন আরও একটি মৌসুম হয়তো তাদের ক্ষতি গুনতে হবে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পুনরায় চালু হলে ঈদের পর জমে ওঠে বাজার। গোপালভোগ, মোহনভোগ ও গুটি জাতের আম শেষ হওয়ার পর এখন ক্ষিরসাপাত জাতের আমও শেষের দিকে। আছে ল্যাংড়া, ফজলি, লক্ষ্মণভোগসহ নতুন নতুন জাতের আম। ভরা মৌসুমে অন্য বছরগুলোতে আমের দাম থাকতো তুলনামূলক কম। এবার অবস্থা বদলেছে। ভরা মৌসুমেও দাম চড়া, বেড়েছে বেচাকেনা।

Manual4 Ad Code

প্রতিদিন শুধু কানসাটেই কোটি টাকার উপরে আম বেচাকেনা হচ্ছে। প্রতিদিন এসব কৃষকের কাছ থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ৯ শতাধিক বেপারি ৪ শতাধিক আমের আড়ৎ ও সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে আম কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে থাকে। চলতি মৌসুমের ২৫ মে থেকে বাজারে আম নামতে শুরু করে। সেসময় প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ কোটি টাকার আম লেনদেন হলেও এখন আমের ভরা মৌসুমে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা লেনদেন হয়ে থাকে। আর এ আম বাজার থেকে সরকার রাজস্ব পাচ্ছে প্রতিদিন ২ কোটি টাকার উপরে। তাই কানসাটের এ আম বাজার রক্ষার্থে আসপাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বাজার উচ্ছেদসহ এ আম বাজারের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে প্রশাসনের প্রতি সাহায্য চান আড়ৎদার সমিতির এ নেতা। গত বছরের চাইতে এবছর দ্বিগুণ আমের দাম পাচ্ছে চাষিরা। আর লেনদেনও নগদে তাই খুশি এখানকার আমচাষিরা।স্থানীয় আম আড়ৎদার জানালেন, আমের এ ভরা মৌসুমে তিনি এখন প্রতিদিন ৫-৭ লাখ টাকার আম কিনে থাকেন