মোজাম্মেল হকঃ সুনামগঞ্জ বিশ্বম্বপুর উপজেলায় শুক্রবার ভোরের পাহাড়ী ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মাছ চাষীদের। উপজেলার সীমান্ত জনপদে কয়েক হাজার পুকুর তৈরি হয়েছে মাছ চাষ করার জন্য। গত প্রায় ১০ বছর হয় ওই এলাকাগুলোয় মাছের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। আকস্মিক পাহাড়ী ঢলে বেকায়দায় পড়েছেন এসব মাছ চাষীরা। হাজারো পুকুরের মাছ দেখতে দেখতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে পাহাড়ী ঢল। সীমান্তবর্তী এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠরা বলেছেন, পাহাড়ী ঢল অনেক সময়ই দেখেছেন তারা, কিন্তু এতো কম সময়ে এমন পানি আসতে আগে দেখা যায়নি।
জেলার বিশ্বম্ভরপুর সীমান্তের কমপক্ষে ২০০ পুকুরের মাছ নেটিং করতে করতেই পাহাড়ী ঢলে ভেসেছে।
উপজেলার ভাদেরটেকের আব্দুর রহমান নামের এক মাছ চাষীরই ১০ পুকুরের ৬৫ লাখ টাকার মতো মাছ ভেসে গেছে। মাছিমপুরের মুক্তার হোসেন’এর ১৭ পুকুরের মধ্যে ১০ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। মুক্তার হোসেনের দাবি ২০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে তার। আমরাগড়ার মোহাম্মদ আলী’র ৫ পুকুরের ১৫ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। মেরুয়াখলার মরম আলী’র ৩ পুকুরের ৫ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। ধনপুরের আব্দুল হালিমের ৫ পুকুরের ৭ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানালেন, ধনপুর, দক্ষিণ বাদাঘাট, সলুকাবাদ ও পলাশের ২০০ পুকুরের কমপক্ষে ৩ কোটি টাকার মাছ অকস্মাৎ পাহাড়ী ঢলে ভেসেছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানালেন, আকস্মিক পাহাড়ী ঢল বা বৃষ্টিতে কী কী ক্ষতি হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগ তথ্য দিলে, আমরা সেই ক্ষয়ক্ষতির চিত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো।