কে এম সুজন,টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে অধিক লাভের আশায়, উৎসাহী কৃষকরা উপজেলার চরাঞ্চলে বসত বাড়ির পাশে ও পতিত জমিতে চলতি মৌসুমে ভুট্টা চাষে ব্যাপক সফলতা এনেছে। বাজার দাম ভালো পাওয়ায় চাষীরাও খুশি রয়েছেন।
স্থানীয় চাষীরা জানান, উপজেলার যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর চরে অনেক জমি, বছরের পর বছর পতিত থাকে। এসব পতিত জমিতে তেমণ কোন ফসল চাষ করা যায়না। তবে ওইসব জমিতে ভুট্টা চাষের উজ্জ্বল সম্ভবনা থাকায় চলতি মৌসুমে তারা (চাষী) চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে পড়েন। সেই সাথে বাড়ির পাশে ফসল কম হওয়া বা পতিত জমিতে ভুট্টা চাষ করছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সুত্রে জানা যায়, নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা, তেবারিয়া, ধুবরিয়া, খাস ঘুনিপাড়া, ভারড়া, সহবতপুর সহ বিভিন্ন গ্রামে চলতি মৌসুমে এই ভুট্টা চাষ হয়েছে।
৫১৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে বীজ বপনের পর এপ্রিলের শেষের দিকে ভুট্টা ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূল ছিল। চরাঞ্চরের বালি পরে থাকা জমিতে বীজ বপনের পর থেকেই গাছ তরতর করে বেড়ে উঠতে থাকে। প্রতিটি গাছে ১৫-২০টি করে ভুট্টার কলা ধরে। চাষীরা গড়ে প্রতি মণ (৪০ কেজি) ভুট্টা ৬৫০-৭০০ টাকায় বিক্রি করেন। চরের কোনো কোনো চাষী এককভাবে ১৫-২০ বিঘা পর্যন্ত জমিতে ভুটা চাষ করেন।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা আরও জানান, এবার প্রতি হেক্টর (সাড়ে সাত বিঘা) জমিতে গড়ে ৯ মেট্রিক টন ভুট্টার ফলন হয়েছে। বিপনন করতে পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি নারীরা দক্ষ হয়ে উঠায় এ কাজে তাদের কদর বাড়ছে।
উপজেলার বঙ্গবকুটিয়া গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম শফি জানান, তিনি এবার প্রায় এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মোঃ আব্দুল বাকী, মোঃ ইউসুফ জানান, আমরা অবসর গ্রহণের পর থেকেই কৃষিকাজে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছি এবং বিষমুক্ত সবজি চাষ সহ এ বছর প্রায় ২ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় ভুট্টা চাষ ও কাটা মাড়াইয়ে মোট খরচ হয়েছে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমি থেকে ভুট্টা পাওয়া যাচ্ছে ৩৫-৪০ মণ পর্যন্ত। বাজারগুলোতে প্রতি মণ ভুট্টা ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রয় হয়ে থাকে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। সে সাথে বাজারে দাম ও চাহিদা বেশি থাকায় এবার চাষীরা লাভবান হবেন।
নাগরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মতিন বিশ্বাস জানান, ভুট্টা চাষে আমাদের পরামর্শ ও যাবতীয় কারিগরি সহযোগিতা এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চরের চাষীদের মুখে হাসি দেখা দিবে। এবছর প্রায় ১৫০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে এবং ছয় শত কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে