১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর পেতে যাচ্ছেন ফ্লাট বাড়ি ও মাঠে প্রায় ৩ বিঘা জমির পরিবার

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ৩১, ২০২০
আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর পেতে যাচ্ছেন ফ্লাট বাড়ি ও মাঠে প্রায় ৩ বিঘা জমির পরিবার

Manual7 Ad Code

সুলতান আল একরাম,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের জাগা আছে ঘর নাই এই প্রকল্পের বাড়ি পেতে যাচ্ছেন হলিধানী ইউনিয়নে ফ্লাট বাড়ি ও মাঠে প্রায় ৩বিঘার জমি আছে পরিবারের হাবিবুর (২২)। কোন প্রকল্পের, কার আবেদনে, কোন শুপারিশে পেতে যাচ্ছে এই ঘর জন প্রতিনিধিসহ এলাকাসি কেউ জানে না। সদর উপজেলার ৪নং হলিধানী ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের ইছাহাক আলীর বড় ছেলে হাবিবুর। তার পিতার রয়েছে চার রুমের ফ্লাট বাড়ি। তার পরেও দুর্যোগপূর্ণ আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর পেতে যাচ্ছেন হাবিবুর। এবিষয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্ঠি হয়েছে।
ঘটনার সরোজমিনে গিয়ে দেখাযায়, মৃত আনছার সর্দারের ৩য় ছেলে ইছাহাক আলী। তার ছেলে হাবিবুর চারবছর আগে বিবাহ করে কুমড়াবাড়ীয়া ইউনিয়নে। বিবাহ করার পর থেকেই তার স্ত্রীরসহ শ্বশুরবাড়ী বসবাস করে আসছে। দুর্যোগপূর্ণ ঘর পাবার কথা শুনে পনেরদিন আগে নিজেদের বাড়ির সামনে শালিয়া মৌজার ১০৬৬ নাম্বার দাগের বারশতক জমির উপর একচালা টুকরি ঘর নির্মান করেছে। যেখানে কাওকে বসবাস করতে দেখা যায়নি।
এবিষয়ে একই গ্রামের রবিউল ইসলাম (রবি) জানান, ইছাহাক আলীর একটি ফ্লাটবাড়িসহ প্রায় তিন বিঘা জমি আছে। তারপরও সে পারিবারিক ভাবে স্বচ্ছল। তার এই ঘর পাবার কথা শুনে আমরা হতভম্ব হয়ে গেছি। গ্রামে অনেক দুস্থ ও অসহায় পরিবার আছে। তাদেরও ঘরের তালিকা পাঠানো হয়েছে উপজেলা ইউএনও অফিসে, সেই তালিকা থেকেও কোন দুস্থ ও গরীবের নাম আসেনি। সে কিভাবে ঘর পেলো আমরা বলতে পারবো না। শুধু এতটুকু বলতে পারি তাদের মত স্বচ্ছল পরিবারের ঘর পাওয়া কাম্য নয়।
হাবিবুরের পিতা ইছাহাক আলী জানান, তার ছেলে দির্ঘদিন যাবৎ শশুরবাড়িতে থাকতো। সেখান থেকেই তার শশুরের মাধ্যমে উপজেলা অফিসে যোগাযোগ করে এই বাড়ির অনুমোদন পেয়েছে।
এবিষয়ে হাবিবুর জানান, আমি শশুরের সাথে গভীর নলকুপ স্থাপনের কাজ করি। আমার শশুর ঝিনাইদহ সদর উপজেলা অফিসের অফিসারদের সাথে যোগাযোগ করে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে এই ঘরের অনুমোদন করিয়ে দেয়।
হলিধানী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জানান, এই ঘর কোথা থেকে কিভাবে পেলো আমি এর কিছুই জানি না। আমরা ইউনিয়ন থেকে যে গরীব ও দুস্থদের ঘরের তালিকা দিয়েছি সেই তালিকাতেও তাদের কোন নাম নাই।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি যোগদানের পর থেকে কোন প্রকল্পের ঘরের কাজ এখনো শুরু হয়নি। এই ঘরটি কিভাবে অনুমোদন পেয়েছে আমরা বিষয়টি দেখছি।