রাকিবুল হাসান,গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে খ্যাতিমান সাংবাদিক, গবেষক ও জনপ্রিয় লেখক শ্রীপুরের সন্তান ইজাজ আহমেদ মিলন – এর লেখা নব্য প্রকাশিত “১৯৭১ বিধ্বস্ত বাড়িয়ায় শুধুই লাশ এবং” বইখানা শিক্ষার্থীসহ ৪৫০ জনকে উপহার দিয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী টেংরা আলহাজ্ব নওয়াব আলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও সাইটালিয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি, তেলিহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ লিয়াকত আলী ফকির।
২৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার গাজীপুরের শ্রীপুরে তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ এলাকার হাজী ছোট কলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের এস এস সি পরীক্ষা উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে, বইটির লেখক ইজাজ আহমেদ মিলন এর উপস্থিতিতে ও তাকে সাথে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা শুভেচ্ছা মূল্য ৩৮৩ টাকা মূল্যের ১৬০ পৃষ্ঠার ৪৫০ খানা বই স্কুলের শিক্ষার্থী শিক্ষক শিক্ষিকা ও অবিভাবকসহ ৪৫০ জনের মাঝে উপহার স্বরূপ তুলে দেন লিয়াকত আলী ফকির। শিক্ষার্থীরা বইটি পেয়ে খুবই আনন্দিত ও উৎফুল্লীত।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ হান্নান সজলের সভাপতিত্বে ও শিক্ষক সালাউদ্দিনের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়ের সভাপতি আবুল হাসেম, মুলাইদ ঈদগাঁ মাঠের সভাপতি হাজী আঃ খালেক, উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান ফরহাদ, আবুল মাস্টার, শিপুল সুলতান জনি সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
লিয়াকত আলী ফকির বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি উন্নতির চরম শিখরে আরোহন করতে পারেনা। নবাগতদের যদি আমরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারি তাহলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা ও আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণ হবেনা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাখাতে আগের তুলনায় অনেক বেশি সুযোগ সুবিধার সৃষ্টি করে দিয়েছেন, বিনামূল্যে, বই, বিতরন, স্কুলের বেতন ও উপবৃত্তির মাধ্যমে দরিদ্রদেরকেও শিক্ষার আলোতে এনে শতভাগ শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, জনপ্রিয় লেখক ইজাজ আহমেদ মিলন এর এই বইটি পড়া আমাদের এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বইটি পড়ে ১৯৭১ ও মুক্তিযুদ্ধের অনেক রক্তমাখা নৃশংস ইতিহাস, মুক্তিযোদ্ধারা ও তাদের পরিবার ও স্বজনরা কতটা ত্যাগ তিতিক্ষা ও কষ্ট নির্যাতন সহ্য করেছে তা এই বইটি ফুটে উঠেছে, বইটি পড়লে অনুমেয় করা যাবে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কিভাবে কতটা নৃশংসভাবে এদেশের মানুষদের খুন, হত্যা, গনহত্যা ও অবিচার অত্যাচার করেছে তা জানতে পারবে৷ আমি চেয়েছি আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জেনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে নিয়ে লেখাপড়া করে মানুষের মত মানুষ হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানে অংশিদার হয়ে কাজ করে। বইটি তাদের হাতে তুলে দিতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।
অনুষ্ঠানে বই বিতরণের পর খ্যাতিমান সাংবাদিক ইজাজ আহমেদ মিলন তার ফেসবুক টাইমলাইনে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন, পোস্ট টি হুবহু তুলে ধরা হলো,একজন লিয়াকত ফকির , ৪৫০ বই এবং আমার আনন্দ।
একজন লড়াকু মানুষ লিয়াকত আলী ফকির। তার সততা আর স্পষ্টবাদীতা আমাকে মুগ্ধ করে। এ সব নানা কারণে তাকে ভালোও বাাসি। লিয়াকত ফকির রাজনীতির মাঠে দৌড়াচ্ছেন বহুকাল ধরেই। সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেনও।
বংশগত ভাবেই লিয়াকত ফকির বিত্তবৈভবের মালিক। শিক্ষার প্রতি তার প্রগাঢ় ভালোবাসা আছে- বিভিন্ন স্কুল কলেজে দান খয়রাত করেন সেটা জানি। কিন্তু শিক্ষার প্রতি তার নতুন এই ভালোবাসা আমাকে শুধু মুগ্ধ করেনি অবাকও করেছে। আনন্দ পেয়েছি- প্রেরণা পেয়েছি। আমার লেখা ‘ ১৯৭১: বিধ্বস্ত বাড়িয়ায় শুধুই লাশ এবং ‘ গ্রন্থটির সাড়ে ৪শ কপি নগদ টাকায় কিনে নিয়েছেন তেলিহাটী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত ফকির। সঙ্গে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন আমাকেও। আজ বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীপুরের হাজী ছোট কলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের সাড়ে ৪শ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বইটি তিনি উপহার দেন।
লিয়াকত ফকিরের এই উদ্যোগকে অবশ্যই স্বাগত জানাই। আমার লেখা ৪৫০ কপি বই কিনে নিয়ে- আমার সামনেই আবার শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিয়েছেন- এর চেয়ে ছন্দময় ও আনন্দের কোনো দৃশ্য আমার চোখে কমই পড়েছে।ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্রদ্ধেয় আবদুল হান্নান সজলের আন্তরিকতার জন্য কৃতজ্ঞতা । লিয়াকত ফকির এ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন-তার কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে।