৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

জগন্নাথপুরে প্রশাসনকে অমান্য করে সরকারি জলাশয় থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ লুট

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ৯, ২০২০
জগন্নাথপুরে প্রশাসনকে অমান্য করে সরকারি জলাশয় থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ লুট

Manual8 Ad Code

মো.আলী হোসেন খাঁন ::

Manual1 Ad Code

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে প্রশাসনকে অমান্য করে সরকারি জলাশয় থেকে কয়েক লাখ টাকার মাছ লুট হলেও এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ঘটনাটি ঘটেছে জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের মোজাহিদপুর (বুধরপুর) গ্রাম এলাকায়।
স্থানীয়রা জানান, কুবাজপুর মৌজার জেল এল নং ২০০ দাগ নং ২৪২১ এর ২ একর ৬২ শতক বোরো জমি ও জলাশয় রকম সরকারি ভূমি রয়েছে। প্রথমে এ ভূমি বন্দোবস্ত নেন স্থানীয় মোজাহিদপুর (বুধরপুর) গ্রামের মৃত ফারুক মিয়ার ছেলে শফিকুল মিয়া গং। পরে বন্দোবস্ত ভূমিকে মালিকানা দাবি করে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে একই গ্রামের তাহিদ উল্লার ছেলে প্রবাসী আক্কাছ মিয়ার কাছে বিক্রি করে দেন শফিকুল মিয়ার লোকজন। এ সময় প্রবাসী আক্কাছ মিয়া উক্ত ভূমি ক্রয় করে আবার প্রবাসে চলে যান। এ সুযোগে শফিকুল মিয়া আবারো উক্ত ভূমি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেন। আশ্রয় নেন মিথ্যাচার ও চলচাতুরির। বিষয়টি জানতে পেরে জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শফিকুল মিয়া গংদের বন্দোবস্ত বাতিল করে নতুন করে প্রবাসী আক্কাছ মিয়াকে উক্ত ভূমি বন্দোবস্ত দেন। বন্দোবস্ত পেয়ে প্রবাসী আক্কাছ মিয়ার পক্ষে জগন্নাথপুর পৌর এলাকার ইকড়ছই গ্রামের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ উক্ত জলাশয়ে মাছের ফিসাারী করে মাছ চাষ করেন। এর মধ্যে শফিকুল মিয়া গং আবারো আপিল করেন। উক্ত আপিলের কারণে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসন উক্ত জলাশয়ে নিষেধাজ্ঞা জারী করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন। এক্ষেত্রে প্রবাসী আক্কাছ মিয়া পক্ষ প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা মানলেও শফিকুল মিয়ার লোকজন মানেননি। তারা সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দফায় দফায় উক্ত জলাশয় থেকে কয়েক লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়েছেন। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ ২ বার অভিযান চালিয়ে শফিকুল মিয়ার লোকজনের জাল জব্ধ করলেও কাজ হয়নি।
এ ঘটনায় জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে প্রবাসী আক্কাছ মিয়ার পক্ষে নুর মোহাম্মদ বাদী হয়ে শফিকুল মিয়া গংদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়া স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি তপশিলদার প্রথমে মাছ লুট হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দিয়েছেন। পরে আবার মাছ লুট হয়েছে মর্মে পৃথক প্রতিবেদন দেন। এসব প্রতিবেদনের আলোকে অবৈধভাবে মাছ আহরণকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে জগন্নাথপুর থানা পুলিশকে লিখিত ভাবে জানান জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা। তবে এখন পর্যন্ত লুটেরাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

Manual7 Ad Code

৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসির আরাফাত বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে থানা পুলিশকে লিখিত ভাবে বলেছি। এরপরও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জগন্নাথপুর থানার এসআই অনুজ কুমার দাশ বলেন, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তার লিখিত কাগজ পেয়েছি। তবে মামলা হলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।