৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

শ্রীপুরে প্রকাশ্যে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি জবর দখল হচ্ছে – দেখার কেউ নেই

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৭, ২০১৯
শ্রীপুরে প্রকাশ্যে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি জবর দখল হচ্ছে – দেখার কেউ নেই

Manual5 Ad Code

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি :

Manual5 Ad Code

আটত্রিশ বছর আগে মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর কেনা জমি উদ্ধারের জন্য – মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ক্লান্ত এক অসহায় বৃদ্ধা মা। সেই অসহায় মায়ের নাম – জুবেদা আক্তার। ভূমিদস্যুর থাবা থেকে – ৫২ শতাংশ জমি উদ্ধারের জন্য প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ইস্রাফিল মোড়লের স্ত্রীর – দিন কাটছে সমাজপতি, আদালত ও পুলিশের পেছন পেছন ঘুরে! ঐ জমিতে কোনো স্থাপনা না করতে একটা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে আদালত! কিন্তু সে নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করেনি ভূমিদস্যু – প্রকাশ্যে ঐ জমিতে বিল্ডিং তৈরী করছে!

 

ঘটনাটি মানবিক উপশহরের টেপির বাড়ীর মাধবর বাড়ির মোড়ে। স্থানীয় প্রভাবশালী সফিকুল ইসলাম মোড়ল -মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ঐ জমি – জবরদখল করে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা যিনি এই জমির প্রকৃত মালিক – তিনি ১৯৮১ সাল থেকে জমিটি কিনে ভোগদখলে ছিলেন। ওনার মৃত্যুর পর জমিটি জবরদখল করে স্থাপনা করছে একজন কুলাঙ্গার ভূমিদস্যু, তাকে এদেশের প্রচলিত আইনে থামানো যাচ্ছে না! এটা কি বিশ্বাস যোগ্য কোনো কথা? নিজের জীবনবাজী রেখে যুদ্ধ করেছেন যে দেশের জন্য – এই কি তার প্রাপ্য? এ কেমন বেকার স্বাধীনতা এনেছেন তিনি – যে স্বাধীনতা তার বিধবা স্ত্রী ও এতিম সন্তানদের একটু স্বস্তি দিতে পারেনা?

 

Manual3 Ad Code

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী – বৃদ্ধা জুবেদা খাতুন সমাজপতিদের কাছে বিচার পাননি! কারনটা পরিস্কার! আমাদের সামাজিক বিচার ব্যবস্থাটা নিয়ন্ত্রিত হয় -নগদ টাকা আর ক্ষমতার নোংরা প্রভাবে – সেটা কমবেশি সকলেই জানি। তবুও তাদের কাছে যেতে হয় – সামাজিক কঠিন নিয়ম গুলোর মধ্যে, এই অনিয়মটা একটা নিয়ম হয়েছে।

 

অবশেষে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আদালত উভয় পক্ষকে জমিতে স্থাপনা নির্মানে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে – আদালতে নিজেদের বৈধতার কাগজ পত্র নিয়ে যেতে বলেন। সময় দেন আগামী ৬ ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

Manual8 Ad Code

 

জুবেদা খাতুন থানায় এই নিষেধাজ্ঞার কাগজ পৌছে দেন, থানা থেকে একজন এস আই পাঠিয়েই দায়িত্ব শেষ করে। পুলিশ প্রশাসন -স্থাপনা নির্মান বন্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। প্রশ্ন হলো – আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হলো, পুলিশ জানলো – কোনো পদক্ষেপ নিলোনা কেন?

 

এই বিষয়ে পত্রপত্রিকায় নিউজ হলো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি হলো কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো – প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নিলোনা।বীরমুক্তিযোদ্ধারা হলেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান – তাদের প্রতি যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি – সাধারন মানুষের আস্থার জায়গাটা কোথায়?

 

আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলি,

 

দেশে আইনের শাসনের কথা বলি, যারা একটি শোষণ মুক্ত সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখি – এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি জবরদখলের ঘটনায় আমাদের নিরব থাকার সুযোগ নেই।

 

Manual7 Ad Code

আসুন- আমরা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটির পাশেড়াই।