১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সংকটের আবর্তে চট্রগ্রাম রাঙামাটি চারুকলা একাডেমি

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২২, ২০১৯
সংকটের আবর্তে চট্রগ্রাম রাঙামাটি চারুকলা একাডেমি

Manual2 Ad Code

আব্দুল করিম,চট্রগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান:

Manual8 Ad Code

নৃত্য-সঙ্গীত-চারুকলা শিক্ষার ক্ষেত্রে জেলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি চারুকলা একাডেমি নানা সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে চলছে। একাডেমিক ভবন, আর্থিক, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, উপকরণ ও সরঞ্জামাদিসহ নানান সংকট লেগেই রয়েছে।১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরে চারুশিল্পী রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে ‘রাঙামাটি চারুকলা একাডেমি’ নামে জেলার প্রথম এ চারুশিল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে শহরের কাঁঠালতলী এলাকায় দশ শতক জমিতে নির্মাণ করা হয় চারুকলা শিক্ষা প্রষ্ঠিানটি। এই প্রতিষ্ঠান থেকে হাতেখড়িতে শিক্ষালাভের সুযোগ হয়েছে রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলার বহু শিক্ষার্থীর। এ পর্যন্ত অসংখ্য শিক্ষার্থীর শিক্ষালাভসহ আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পুরস্কার ও পেয়েছে। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী চারুকলা, সঙ্গীত ও নৃত্য শিখছে।
এদিকে, গেল ৪০ বছর ধরে রাঙামাটি জেলাসহ তিন পার্বত্য জেলায় এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অবদান রাখলেও সরকারের নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি, মূল্যায়ন ও সম্মাননা। এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের জন্য ১১ শিক্ষক স্বেচ্ছায় কাজ করছেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যৎ সমান্য ফি নেয়া হলেও সেগুলো দিয়ে টুকিটাকি খরচগুলো মেটে না। একাডেমিক ভবনের সংকুলান না হওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, উপকরণ ও সরঞ্জামাদি না থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে একটি সম্প্রসারিত ভবন করে দেয়া হলেও সেটিও অসমাপ্ত রয়েছে। চারুকলা একাডেমির শিক্ষার্থী নৈতিক ত্রিপুরা বলেন, আমি চারুকলা একাডেমীতে শিখতে এসে নিজেকে অনেক গর্ববোধ করি। রাঙামাটি চারুকলা একাডেমির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন,এ প্রতিষ্ঠানটির অনেক সুনাম রয়েছে এজন্য আমি আমার মেয়েকে চারুকলায় ভর্তি করিয়েছি।এদিকে, চারুকলা একাডেমির আর্ট বিভাগের শিক্ষিকা রাখি ত্রিপুরা বলেন, এ প্রতিষ্ঠানে আর্থিক দিক দিয়ে সমস্যা রয়েছে। আমাদের পরিচালক অনেক কষ্ট করে এ প্রতিষ্ঠানটি চালাচ্ছেন।চারুকলার তবলা প্রশিক্ষক সুবল বিশ্বাস বলেন, এ প্রতিষ্ঠাানটিতে যৎসমান্য বেতন দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষন দেয়া হয়। যা এ প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করার ক্ষেত্রে খুবই অপ্রতুল। তাই আমাদের আবেদন থাকবে প্রতিষ্ঠানটিকে পরিচালনার জন্য সরকারীভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া হোক।এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি চারুকলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, রাঙামাটি চারুকলা একাডেমি আজ প্রায় ৪০ বছর অতিক্রম করছে।এ চারুকলার ছাত্র-ছাত্রীরা প্রায় একশটির উপরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে।তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি শুরুর প্রথম ১৫ বছর ধরে সমপূর্ণ অবৈতনিকভাবে এ প্রতিষ্ঠানটি চালিয়েছি। বলতে গেলে এটি একটি সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান।এ প্রতিষ্ঠানটি চালানোর জন্য সরকারীভাবে কোন আর্থিক সহযোগিতা পাই না। শুধুমাত্র যেসমস্ত ছেলেেেময়রা এখানে আর্ট এবং বিভিন্ন বিষয়ে শিখে তাদের কাছ থেকে সামন্য বেতনে এ প্রতিষ্ঠানে চলে।
রাঙামাটি চারুকলা একাডেমিটি জেলায় নৃত্য-সঙ্গীত-চারুকলা শিক্ষার ক্ষেত্রে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে যাতে আরো অবদান রাখতে পারে তার উন্নয়নের জন্য সরকারী পর্যায়ে সহায়তায় এগিয়ে আসবে বলে সকলের প্রত্যাশা।

Manual6 Ad Code