এইচ এম আমান,কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি :-
আজ ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহু প্রতিক্ষিত কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার পাহাড় ও নদী বেষ্টিত শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে শাপলাপুর ইউনিয়নে ভোটারদের মাঝে উৎসবের আমেজের পাশাপাশি রয়েছে অজানা শঙ্কা। শাপলাপুর ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৯ হাজার ৫১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ হাজার ৮৫৭ এবং নারী ভোটার ৯ হাজার ৬৬২ জন। পাহাড় ও নদী বেষ্টিত এই ইউনিয়ন সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রশাসন হার্ডলাইনে রয়েছে। তারপরেও নির্বাচন আদৌ শান্তিপূর্ণ হবে কি না, সে বিষয়ে সংশয়ে রয়েছেন ভোটাররা। সরেজমিনে দেখা গেছে, ইউনিয়নের সবখানে ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের পোস্টারে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সব আড্ডায় আলোচনায় মূল বিষয় নির্বাচন। প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি বিশ্লেষণ করছেন ভোটাররা। ভোটারদের ভাষ্যমতে এখনই বলা মুশকিল কে হচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। ভোটাররা জানান, ত্রি-মুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও পাশ্ববর্তী কালারমার ছড়ার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তারেক শরীফ মাঠে থাকায় এগিয়ে রয়েছেন বীর মুক্তিযুদ্ধা নুরুল আমিন হেলালী সন্তান তরুণ সাংবাদিক সালাহ উদ্দিন হেলালী কমল। তবে নৌকার মাঝি আব্দুল খালেক চৌধুরীকে একেবারে উড়িয়ে দিলে হবে না। তিনিও জয়ের লক্ষ্যে বিশাল ভোট ব্যাংক ধরে রেখে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী দিদারুল ইসলাম (দোয়াত কলম) শাপলাপুরের উত্তর প্রান্তে বিশাল ভোট ব্যাংক ধরে রেখেছেন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ১৬ প্রার্থী। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল খালেক চৌধুরী, বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থী না দিলেও তারা সমর্থন দিচ্ছেন রফিকুল ইসলামকে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন যুমনা টিভির সিনিয়র রিপোর্টার সালাহ উদ্দিন কমল, মো. দিদারুল ইসলাম, মনির আহমদ, বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হক, আব্দুল গফুর, মো. নুরুল হুদা, গিয়াস উদ্দিন সিকদার, ওসমান সরওয়ার, মো. সাইদুল ইসলাম চৌধুরী, এ কে এম ইলিয়াছ, বদর উদ্দিন, মো. আলম, মো. জাহান ফারুকী ও সোহেল রানা। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী কমল (আনারস), আব্দুল খালেক চৌধুরী (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী দিদারুল ইসলাম (দোয়াত কলম)। শাপলাপুর ইউনিয়নের মৌলভীকাটার পান ব্যবসায়ী আবু বক্কর ছিদ্দিকসহ আরও অনেক ভোটার জানান, দীর্ঘ সময়ে সাংগঠনিক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত ছিল এবং ক্লিন ইমেজের নতুন মুখকে গুরুত্ব পাবে এ নির্বাচনে। প্রতীক দেখে না, এবার ভোটাররা প্রার্থী দেখে ভোট দেবেন। মহেশখালী উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. জুলকার নাঈম বলেন, প্রত্যাক কেন্দ্রে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন, এছাড়া, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি সদস্যরা পর্যাবেকক্ষণে থাকবে। মহেশখালী উপজেলা নিবার্হী অফিসার মো. জামিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আর কেউ যদি ভোট কেন্দ্রে গোলযোগের সৃষ্টি করে তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।