৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

আজ ৯ ডিসেম্বর,বেগম রোকেয়া দিবস!

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৯, ২০১৯
আজ ৯ ডিসেম্বর,বেগম রোকেয়া দিবস!

Manual6 Ad Code

নারী জাগরণে সাহিত্য ভূমিকায় জীবন ও মৃত্যু শ্রদ্ধাঞ্জলি তথ্য সংগ্রহে- কবি ডা.মিজানুর রহমান মাওলা

বাঙালি নারীবাদী লেখিকা ও সমাজ সংস্কারে অন্যতম নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত এর জন্ম ৯ ডিসেম্বর ১৮৮০ ইং পায়রাবন্দ, মিঠাপুকুর, রংপুর,বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত(অধুনা বাংলাদেশ) মৃত্যু ৯ ডিসেম্বর ১৯৩২ ইং কলকাতা দাম্পত্যসঙ্গী সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন বেগম রোকেয়ার কর্ম ও আদর্শ উদযাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর ৯ই ডিসেম্বর রোকেয়া দিবস উদযাপন করে এবং বিশিষ্ট নারীদের অনন্য অর্জনের জন্য বেগম রোকেয়া পদক প্রদান করেন। তার পিতা জহীরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের জমিদার ছিলেন। তার মাতা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী। রোকেয়ার দুই বোন করিমুননেসা ও হুমায়রা, আর তিন ভাই যাদের একজন শৈশবে মারা যায়।
বেগম রোকেয়ার পিতা আবু আলী হায়দার সাবের আরবি, উর্দু, ফারসি, বাংলা, হিন্দি এবং ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী হলেও মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে ছিলেন রক্ষণশীল। রোকেয়ার বড় দু’ভাই মোহাম্মদ ইব্রাহীম আবুল আসাদ সাবের ও খলিলুর রহমান আবু যায়গাম সাবের ছিলেন বিদ্যানুরাগী। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে অধ্যয়ন করে তাঁরা আধুনিকমনস্ক হয়ে ওঠেন। রোকেয়ার বড় বোন করিমুন্নেসাও ছিলেন বিদ্যোৎসাহী ও সাহিত্যানুরাগী।
সাহিত্যচর্চার সূচনা সম্পাদনা:
১৮৯৮ ইং সালে রোকেয়ার বিয়ে হয় বিহারের ভাগলপুর নিবাসী উর্দুভাষী সৈয়দ সাখাওয়াৎ হোসেনের সঙ্গে। তিনি ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, তদুপরি সমাজসচেতন, কুসংস্কারমুক্ত এবং প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন। উদার ও মুক্তমনের অধিকারী স্বামীর উৎসাহ ও সহযোগিতায় রোকেয়া দেশি-বিদেশি লেখকদের রচনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হবার সুযোগ পান এবং ক্রমশ ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। তাঁর সাহিত্যচর্চার সূত্রপাতও ঘটে স্বামীর অনুপ্রেরণায়। তবে রোকেয়ার বিবাহিত জীবন বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৯০৯ সালের ৩ মে সাখাওয়াৎ হোসেন মারা যান। ইতোপূর্বে তাঁদের দুটি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করে অকালেই মারা যায়। ১৯০২ সালে পিপাসা নামে একটি বাংলা গল্প লিখে সাহিত্যজগতে তার অবদান রাখা শুরু হয়। এরপর একে একে লিখে ফেলেন মতিচূর-এর প্রবন্ধগুলো এবং সুলতানার স্বপ্ন-এর মতো নারীবাদী বিজ্ঞান কল্পকাহিনী।

বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র বেগম রোকেয়া- নারী সমাজের আলোকবর্তিকা জীবনী, প্রেরণামূলক গল্পের ঝুলি খুব বেশি কাল আগের কথা নয়। এখন আমরা নারীরা যে অবাধে পড়াশুনার পাশাপাশি চাকরি করতে পারছি, ১৯ শতকের দিকে মেয়েরা যে বাড়ির বাইরে পা রাখবে, সেই কথাটাই কেউ চিন্তা করতে পারতো না! কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মানুষের চিন্তাধারা বদলায়, সেই সাথে বদলে যায় সমাজব্যবস্থা। তিনি হলেন বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, যাঁকে আমরা সবাই ‘বেগম রোকেয়া’ নামেই জানি। তাঁকে ‘বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত’ বলা হয়। কিন্তু কেন বলা হয়, জানেন? চলুন জেনে আসা যাক!

Manual7 Ad Code

রোকেয়ারা ছিলেন তিন বোন ও তিন ভাই। রোকেয়ার দুই বোন করিমুন্নেসা এবং হুমায়রা। তিনি ছিলেন মেঝ। আর তিন ভাইয়ের মধ্যে আবুল আসাদ শৈশবেই মৃত্যুবরণ করেন। বাকি দুইজন ভাইয়েরা হলেন ইব্রাহীম সাবের এবং খলিলুর রহমান আবু জাইগাম সাবের।

বিবাহ: রোকেয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর স্বামী তাঁকে পঙখীরাজ ঘোড়ায় চড়ে নিতে আসবেন। ১৮৯৮ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই ভাগলপুরের উর্দুভাষী ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সাথে বেগম রোকেয়া বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন।

নারী শিক্ষার প্রসার: ১৯০৯ সালে সাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যুর পর বেগম রোকেয়া মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়লেও হাল ছাড়েননি। কেননা তিনি জানেন তাঁর নিজ কর্তব্য সম্পর্কে। সাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যুর ৫ মাস পর বেগম রোকেয়া ভাগলপুরে ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’ নামে একটি মেয়েদের স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন৷

Manual4 Ad Code

নারী জাগরণের অগ্রদূত:বেগম রোকেয়া তাঁর জীবন সংগ্রামের মাধ্যমে বুঝতে পেরেছিলেন যে শিক্ষা ছাড়া নারীর মুক্তি নেই। কেননা একমাত্র শিক্ষাই পারবে আমাদেরকে যুক্তির আলোয় নিয়ে আসতে নিজেদের প্রাপ্য সম্মান পাওয়ার জন্য শিক্ষার বিকল্প নেই। মেয়েদের জন্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে যেয়ে তাঁকে কম গঞ্জনা শুনতে হয়নি। ঘরে ঘরে যেয়ে তিনি মেয়েদেরকে বিদ্যালয়ে আসতে অনুরোধ করতেন। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। অমানুষিকও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা হাজারের দিকে যায়।
নারীবাদ নয়, সমতা চাই: তিনি সবসময় সাম্যের ডাক দিয়ে গেছেন।
“মেয়েদের এমন শিক্ষায় শিক্ষিত করিয়া তুলিতে হইবে, যাহাতে তাহারা ভবিষ্যৎ জীবনে আদর্শ গৃহিণী, আদর্শ জননী এবং আদর্শ নারীরূপে পরিচিত হইতে পারে। “

Manual3 Ad Code

তিনি কখনোই পুরুষকে ছোট করে দেখেননি। তাই তো তিনি লিখেছিলেন,
“আমরা সমাজের অর্ধাঙ্গ, আমরা পড়িয়া থাকিলে সমাজ উঠিবে কীরূপ? কোনো ব্যক্তি এক পা বাঁধিয়া রাখিলে সে খোঁড়াইয়া খোঁড়াইয়া কতদূর চলিবে? পুরুষের স্বার্থ এবং আমাদের স্বার্থ ভিন্ন নহে।

Manual7 Ad Code

সমাজসেবা: বেগম রোকেয়া ছিলেন একজন দূরদর্শী সমাজ সংস্কারক।

সম্মাননা: রংপুর বিভাগের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ ৮ অক্টোবর ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর ২০০৯ সালে ‘নারী জাগরণের অগ্রদূত’ হিসেবে তাঁর নামকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়টির বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণ করেন। এটিই বাংলাদেশের প্রথম নারীর নামে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়।

মৃত্যু: মাত্র ৫২ বছর বয়সে ১৯৩২ সালের ৯ই ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া মৃত্যুবরণ করেন। আমরা তাঁর মাগফেরাত কামনা করছি ।
যেই বিন্দুতে তিনি তাঁর সংগ্রামের পথচলা শেষ করেছিলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই একই বিন্দুতে তাঁর পথচলা থেমে যায়।