টিপু সুলতান, ভোলা জেলা প্রতিনিধিঃ বহুল প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঢাকা-ভোলা নৌ রুটে চালু হচ্ছে গ্রীণ লাইন ভলভো ওয়াটার বাস সার্ভিস। এমনটাই জানে ভোলার মানুষ গত ২২ নভেম্বর পরীক্ষামূলক ভাবে সার্ভিসটি যাত্রা শুরু করে ভোলার ইলিশা থেকে। পরীক্ষামূলক সার্ভিসটি চালু হওয়ার পর থেকেই ষড়যন্ত্রের জালে আটকে পড়ে গ্রীন লাইন সার্ভিস। ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে আগামী ১০ ডিসেম্ভর থেকে আবারো সার্ভিসটি নিয়মিত চলাচল করবে ইলিশা ঘাট থেকে। ভোলা জুড়ে গ্রীনলাইন সার্ভিসটির প্রচারণা চলছে তুমুল জুড়ে। ভোলার মানুষ এই আসায় বুক বাঁধলেও তা নিয়ে চলছে সন্দিহান। ভোলার লঞ্চ মালিক পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে ষড়যন্ত্র।এতো ষড়যন্ত্রের জাল ভেদ করে যাত্রা শুরু করতে পারবেন গ্রীনলাইন সার্ভিস এমনটাই চলছে জনমনে প্রশ্ন।
গ্রীনলাইন সার্ভিসটি ভোলার মানুষের আকাঙ্খার প্রতীক। ভোলা একটি দ্বীপের মধ্যে অবস্থিত নদীমাতৃক জেলা আমাদের ভোলা। চারোদিকে নদী থাকায় ভোলা থেকে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের মাধ্যম এই নৌপথ। ভোলার মানুষের ঢাকার সাথে দিনের বেলায় কোন যোগাযোগ সার্ভিস না থাকায় চরমভাবে ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয় এ জেলার মানুষের। ইমারজেন্সি কোন রোগী ঢাকায় নিতে হলে সন্ধার ঢাকাগামী লঞ্চের আশায় বসে থাকতে হয়। এতে করে অনেক রোগী অকালে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে লঞ্চ সার্ভিসে। গ্রীন লাইন সার্ভিস ভোলার ইলিশা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়বে ১.৩০ মিনিটে। এর মাধ্যমে ইমারজেন্সি রোগীর চার ঘণ্টায় পৌঁছতে পারবে রাজধাবী ঢাকায়।
স্থানিয় প্রভাবশালী মহলকে পুঞ্জি করে ভোলার লঞ্চ মালিক পক্ষ থেকে একের পর এক ষরযন্ত্রের প্রতিফলন ঘটেই চলেছে গ্রীনল্যান্ড সার্ভিস বন্ধ করার পক্ষে। এ নিয়ে মানববন্ধন করাসহ ষড়যন্ত্রের জাল একের পর এক চলেই আচ্ছে।
ভোলার এই অসাধু ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিত ভাবে মানববন্ধনের আয়োজন করে । মানববন্ধনে আসা নারী পুরুষকে সাহায্যর প্রলোভন দেখিয়ে এবং ব্যাবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন সদর উপজেলা পূর্ব ইলিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাছনাইন আহম্মেদ হাসান মিয়া।
তার নেতৃত্বে এলাকায় মাইকিং করে ইলিশার বাধঁ রক্ষা ও নদী ভাঙ্গনের অজুহাত দেখিয়ে আজ সোমবার ৯ ডিসেম্ভর সকাল ১১ টায়, ইলিশার জংশন বাজারে ব্যানার, ফেস্টুন সাঁটিয়ে মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে অংশগ্রহন কারী নারী,পুরুষ, বৃদ্ধ, শিশুদের একধরনের প্রলোভন দেখিয়ে আনেন পরিষধ কতৃপক্ষ, পরিষদের ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে অংশগ্রহনে বাধ্য করা হয় এ সকল সাধারন মানুষদের। ব্যানারে উল্লেখ্য করা থাকে জেলেদের ট্রলারে নৌকা সহ নানান ধরনের অজুহাত।
দেখার বিষয় কিছুদিন আগে এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলেদের পক্ষ থেকে চাউল আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন করেন। সেখানে সেই জেলেদের নাম ভাঙিয়েই করা হয় মানববন্ধন।
চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ভোলার জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য যে, ভোলার জংশন এলাকার ফেরীঘাট থেকে প্রায় ২০ বছর ধরে ভোলা -লক্ষীপুর ও ভোলা-ঢাকা রুটে, সি-ট্রাক, লঞ্চ,স্টিমার, কার্গো ও ফেরীসহ বড় বড় যাত্রীবাহী লঞ্চ যাতায়াত করছে। তাতে নদী ভাঙ্গ বা ব্লোকের কোন ক্ষতি হচ্ছেনা। শুধু মাত্র গ্রীণ লাইন ওয়াটার সার্ভিস চালু হলেই ব্লোক,নদী ভাঙ্গন সহ জেলেদের জাল-নৌকার ক্ষতি হবে এমনটা বলছেন চেয়ারম্যান, ভোলার ব্যাবসায়ী, সুশীল সমাজ ও সচেতন মানুষ। তারা বলছেন, যেহেতু ভোলা-ঢাকার সকল যাত্রীবাহী লঞ্চ চলে রাত্রি বেলায়। ইমারজেন্সি কাজে মানুষ ঢাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করলে দিনের বেলায় তা সম্ভব হয়না। ভোলা থেকে দিনের বেলা গ্রীন লাইন সার্ভিস চালু হওয়া আমাদের অনেক উপকার হয়েছেন তাঁর সাথে ইমারজেন্সি রোগীরা অতি তাড়াতাড়ি রাজধানী ঢাকায় পৌঁছাতে পারবেন নিতে পারবেন তাদের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা