৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

লামায় মৎস্য ঘেরে ফের হামলা চালিয়ে ৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট ; স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৯, ২০১৯
লামায় মৎস্য ঘেরে ফের হামলা চালিয়ে ৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট ; স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা

Manual4 Ad Code

Manual2 Ad Code

মোঃ আবুল হাশেম,বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি : বান্দরবানের লামা উপজেলায় ফের মৎস্য ঘেরে হামলা চালিয়েছে দূর্বৃত্তরা। শনিবার (৭ ডিসেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার সরই ইউপির পুলংগ্রামে একদল দুর্বৃত্ত কৃষক আবদুল জাব্বার এর মৎস্য খামারে হামলা চালিয়ে দু’টি সেমি পাকা অবকাঠামো ভেঙ্গে-গুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনার কয়েকদিন আগে-২১/১০-২০১৯ তারিখে মৎস্য খামারটির বাঁধ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। ওই সময় সন্ত্রাসীরা কৃষকের ৭-৮ বছরের লালিত মাছ লুটতরাজ করে নেয়। এতে কৃষকের ৫ লাখ টাকার মাছ ও ১ লাখ টাকা বাঁধে মোট ৬ লাখ টাকা ক্ষতি সাধিত হয় বলে জানা যায়।
মানবাধিকার কর্মি, লামা কোর্টের একজন আইনজীবি, স্থানীয় ক;জন রিপোর্টারসহ এই প্রতিনিধি ৮ ডিসেম্বর দুপুরে সরেজমিন গেলে এই নির্মম দৃশ্যের বাস্তব চিত্র দেখতে পায়। সরজমিন দেখা যায়, মৎস্য ঘেরের দু’পাড়ে ইটের তৈরি দুটি ঘর সম্পুর্ন বিধ্বস্থ। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়েছে, যেন কোন আকাশ হামলায় এরূপ ধ্বংসা লীলা ঘটেছে(!)। এসময় ৭০ বছর বয়সী কৃষক আবদুল জব্বার অঝোর কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সে জানায়, তিনি সেখানে ১৫ একর জমির মালিক। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে অনেক শ্রম-অর্থ ব্যয় করে এই ভূমিতে বনায়ন সৃজন করেছেন। জমির মাঝখানে একটি লেক সৃষ্টি করে মৎস্য চাষ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন কৃষক। তার একটি ছেলে প্রতিবন্ধি (পঙ্গু) সে অনার্সে পড়ে। এই হামলা কারা করেছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সাতকানিয়া রূপকানিয়া বোয়ালিয়াপাড়ার বাসিন্দা সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হক ও তার ছেলে ডালিম এবং আনোয়ার হোসেনসহ একদল সন্ত্রাসীরা এসব করেছে।
সে জানায়, ভূমি সন্ত্রাসী এই দলটি দীর্ঘনি ধরে তার মালিকানাধিন জমিটি তাদের দাবী করে নানান ধরনের হয়রানী-হামলা মামলা করে চলছে। কৃষক আবদুল জব্বার জানান এই নিয়ে করা প্রতিটি মামলা তার পক্ষে রায় এসেছে। এর পরেও এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালত থেকে উক্ত ভূমির উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করান কৃষক আবদুল জব্বার। “নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে তারা কিছুদিন আগে লেকের বাঁধ কেটে দেয়” বলে কৃষক দাবী করেন। বাঁধ কেটে দেয়ার ব্যাপারে লামা কোর্টে একটি সি.আর মামলা ২৯৮/১৯ করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি পিআইবিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। কিন্তু এই মামলাটি করার পরই আসামীরা আরো বেপরোয়া ক্ষেপে উঠেন, কৃষক আবদুল জব্বার এর প্রতি।
সর্বশেষ শনিবার রাতে দু’টি পাকা স্থাপনা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়ায়। হতাশ কৃষক এব্যাপারে থানায় মামলা না করে পুনরায় আদালতে মামলা করবেন বলে জানান। এব্যাপারে লামা থানা অফিসার ইনচার্জ আপ্পেহ্লা রাজু নাহা জানান, ঘর ভাঙ্গার বিষয়ে আমরা কোন অভিযোগ পাইনি।

Manual1 Ad Code

বান্দরবানের লামা উপজেলার একটি ইউনিয়ন সরই। উপজেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ৩০ কি: মিটার। ইউনিয়নটিতে ভূমি মালিকানা নিয়ে চলছে ব্যাপক বিরোধ। এসব বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে খুন, হত্যা, অপহরণ, লুটতরাজ, অগ্নি সংযোগ, জবর দখল, মারদাঙ্গা, মিথ্যা মামলা, নারী ধর্ষন-নির্যাতন ইত্যাদি অপরাধ সংগঠিত হয়ে আসছে। দুর্বৃত্তদের দাপড়ে সেখানে নিরিহ মানুষ জিম্মি দশায় রয়েছে। অত্যাচারের শিকার হয়েও অনেক মানুষের বিচারের বাণী নিরবে-নিবৃতে কাঁদে। অত্যাচারিত মানুষের কান্নার রোল যেন থামছেনা সরই ইউনিয়নে। একের পর এক ঘটছে জুলুম নির্যাতনের ঘটনা।
সরই ইউনিয়নে কোয়ান্টম, মেরেডিয়ান চিপস, বাংলাদেশ রাবার, গাজী রাবার, মোস্তফা গ্রুপ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক ভূমির মালিকানা রয়েছে। সেখানে পাহাড়ী ঢালুতে বিস্তর বাগান উন্নয়ন হয়েছে। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী লোহাগাড়া উপজেলার অনেক বাসিন্দা সেখানে ভূমির মালিক। পূনর্বাসিত পরিবারের সংখ্যা অন্যান্য ইউনিয়নের তূলনায় সরই ইউপিতে কম। এর ফলে সেখানে ভূমির চাহিদা ও মূল্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে যে কোন অভিযোগের তদন্ত রিপোট প্রদানে সংশ্লিষ্টদের পক্ষপাত আচরণের ফলে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নির্যাতিত জনগোষ্ঠি।