মোঃ ফয়ছল কাদির,সিলেট ব্যুরো অফিস:- সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরশহরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে দুর্বৃত্তরা এক স্টুডিও মালিক কে হত্যা করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত (এ বিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) জগন্নাথপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছেন। পুলিশের সিআইডি টিম ঘটনাস্থল পরির্দশন শেষে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।
নিহত স্টুডিও মালিকের নাম আনন্দ সরকার (২৩)। তিনি নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ থানার বটতলা গ্রামের সুনীল সরকারের ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, প্রায় দুই বছর পূর্বে আনন্দ সরকার জগন্নাথপুর পৌর শহরে কাজের সন্ধানে আসে। বছর খানিক তিনি শহরের একটি স্টুডিও দোকানে কাজ করবেন। প্রায় ৮/৯ মাস পূর্বে পৌর শহরের কামাল কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় একটি মার্কেটে ভাড়া দোকান নিয়ে স্টুডিও দোকান পরিচালনা করে আসছিল আনন্দ।
তিনি দোকানেই রাত্রিযাপন করতেন। গত ৩ দিন ধরে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের লোকজন কোন সন্ধান না পেয়ে ছেলের খোঁজে আজ মা ও বড় ভাই জগন্নাথপুর পৌরশহরে আসেন।
পরে দুপুরের দিকে স্থানীয় লোকজন স্টুডিও’ র দোকান ঘরের তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন নিচে আনন্দ সরকারের নিতর দেহ পড়ে আছে। খবর পেয়ে সহকারি পুলিশ সুপার (জগন্নাথপুর সার্কেল) মাহমুদুল হাসান চৌধুরীর নেতৃত্বে জগন্নাথপুর থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন।
ঘটনাস্থল থেকে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সহকারি পুলিশ সুপার (জগন্নাথপুর সার্কেল) মাহমুদুল হাসান চৌধুরী জগন্নাথপুর অভিযোগকে জানান, কাপড় দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো ছিল। গলায় রক্তের চিহৃ পাওয়া গেছে। ঘরের বিছানায়ও প্রচুর রক্ত লেগে রয়েছে। তিনি বলেন, এটি হত্যাকা- মনে হচ্ছে।
এদিকে একটি সুত্র জানায়, গত সোমবার এনজিও সংস্থা আশা’র জগন্নাথপুর শাখা থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋন উত্তোলন করে আনন্দ সরকার। ধারনা করা হচ্ছে এই অর্থের জন্যই হয়তো দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করেছে।
নিহতের মা জোৎসা সরকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, গত তিনদিন ধরে ছেলের মোবাইল ফোন বন্ধ পাই। শুধু দুশ্চিতায় মনে হচ্ছিল।
শেষে ছেলের খোঁজে আমি আমার বড় ছেলেকে নিয়ে জগন্নাথপুরে আসি। দোকানের তালা ভাঙার পর দেখি ছেলের মৃত দেহ পড়ে আছে। কে আমার বাচ্চা ছেলেটাকে হত্যা করল বলেই তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এনজিও সংস্থা আশা’র জগনন্নাথপুর শাখার সহকারী ম্যানেজার মনোয়ার হোসেন খান জগনন্নাথপুর অভিযোগকে বলেন, স্টুডিওর মালামাল ক্রয়ের জন্য আনন্দকে গত সোমবার (২ ডিসেম্বর) ৩০ হাজার টাকা ঋন দিয়েছেন।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জগন্নাথপুর অভিযোগকে বলেন, সিআইডি টিম ঘটনাস্থল পরির্দশন করার পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ মর্গে পাঠানো হবে।