৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

চৌহালীতে গণহত্যার স্মৃতিফলক নির্মাণ

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৪, ২০১৯
চৌহালীতে গণহত্যার স্মৃতিফলক নির্মাণ

Manual3 Ad Code

রমজান প্রামাণিক- চৌহালি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার খাষপুকুরিয়া ইউনিয়নের বৈন্যা গ্রামে শোকাবহ গণহত্যার গণকবর সন্ধান করে স্মৃতিফলক নির্মাণ করেছেন উপজেলা প্রশাসন আজ (৩ ডিসেম্বর) মঙ্গলবার বিকেলে এ স্মৃতি ফলক নির্মাণ করা হয়েছে। একাত্তরের এই দিনে ১৪ জন সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে পাক সেনারা।

Manual5 Ad Code

১৯৭১ সালের ২৫শে অক্টোবর ১০টায় চৌহালী উপজেলার বৈন্যাগ্রামের পাক হানাদার বাহিনীর আক্রমর্ণের খবর পেয়ে গ্রামের ৩০জনের বেশী নিরিহ জন সাধারণ জনৈক দুলাল সরকারের বাড়ীতে আশ্রয় গ্রহণ করেন স্থানীয় রাজাকারদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পাক বাহিনী চারদিকে থেকে বাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং নিরস্র মানুষের উপর নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে এই ইতিহাসের এক জঘন্য গণহত্যার নজির সৃষ্টি করে৷ সাথে সংঘঠিত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাক হানাদার তারা প্রতিশোধ নিতে হানাদার বাহিনী ২৫ ই অক্টোবর উপজেলার বৈন্যা গ্রামে ১৪ জনকে একত্রিত করে পাক সেনারা। শুরু হয় তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন। এক পর্যায়ে হত্যা করা হয় তাদের।

গণ কবরে শায়ীত শহীদের নাম জানা গেছে তারা হলেন- বৈন্যা গ্রামের মৃত: ওছমান গনির ছেলে শহীদ হারুন অর-রশিদ ,মৃত সোনাউল্লাহ বেপারীর ছেলে কুজরত আলী,জুড়ান আলীর ছেলে আ:লতিফ,জুড়ান আলীর ছেলে ছাত্তার , মামুদ আলী বেপারীর ছেলে নৈয়ম উদ্দিন মুন্সী,আলী হোসেন সরকারের ছেলে আব্দুল মিয়া,কছের উদ্দিন সরকারের ছেলে আব্দুস সামাদ মিয়া,মীর আলী বেপারীর ছেলে মনের উদ্দিন বেপারী,ছামু বেপারীর ছেলে আব্দুল কদ্দুস ছেলে ,জাবেদ আলী ফকিরের ছেলে আবু ফকির ,মকবুল হোসেন এর ছেলে নেরু সেখ,অজ্ঞাত শ্রী যোগিন্দ পাটনি,নুরমোহাম্মদ বেপারীর ছেলে শাহজাহান আলী,আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুস ছাত্তার ৷ শহীদ হওয়ার তারিখ ২৫ অক্টোবর ১৯৭১)। তাদের ১৪ টি কবর এক সারিতে দেওয়া আছে।

Manual4 Ad Code

দীর্ঘদিন গণ কবরের সন্ধান পাওয়া না গেলে ব্যক্তি উদ্যোগে সহায়তায় ১৪টি কবরের বাউন্ডারি ওয়াল করে দেন স্বজনেরা। তারপর আর কোন উন্নয়ন নেই। তবে বৈন্যা গ্রামের মুক্তিযোদ্বারা যমুনা প্রতিদিনকে জানায়, বিগত সময়ে কোন সরকার বৈন্যা গ্রামের গণ কবরের সন্ধান নেয়নি ৷ কিন্ত বর্তমান সরকার এবং আমাদের চৌহালী উপজেলার নবাগত ইউএনও দেওয়ান মওদুদ আহমেদ গণ হত্যার ,গণ কবর সন্ধান করে স্মৃতি ফলক নির্মাণ করায় আমরা মুক্তিযোদ্বরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ৷

Manual4 Ad Code

চৌহালীতে গণহত্যা দিবস পালন করার দাবী করেন মুক্তিযোদ্ধা , ইউসুফ আলী হাক্কানী,জসীম উদ্দিন ও সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাবলু বলেন, বৈন্যা গ্রাম এখন শুধুই স্মৃতি হয়ে আছে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে স্বাধীনতার দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকারের সময় তবুও তৈরি হয়নি একটি শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ, নির্মাণ হয়নি একটি শহীদ মিনার। সকল নিহতদের স্মরণে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হোক। যা মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাঝে ইতিবাচক অনুভূতির সঞ্চার হবে। এবং ৩ ডিসেম্বর স্মরণে রাখার জন্য চৌহালীতে আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যা দিবস পালন করলে ভবিষ্যৎ প্রজম্ম গণহত্যা সম্পর্কে ইতিহাস জানতে পারবে।

Manual7 Ad Code

এ প্রসঙ্গে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মওদুদ আহমেদ বলেন, বিগত সময়ে সঠিক অনুসন্ধানের অভাবে গণ কবর সন্ধান না পাওয়া গেলেও আমি বৈন্যা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীন স্থানীয়দের সহযোগীতায় খুঁজে পেয়েছি ৷ সরকারীভাবে আমাদের দেখাশোনার নির্দেশনা আছে , সেইক্ষেত্রে আমরা সকল মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে এ দিবস পালন করতে পারি ।এবং গুরুত্ব অনুধাবন করে অবশ্যই এটা যথার্যত গুরুত্ব দেওয়া উচিত এবং প্রতি বছর ১৬ই ডিসেম্বর যে ভাবে যথার্যত পালন করি তার পাশাপাশি গণ হত্যার সকল শহীদের স্বরণ করা উচিৎ৷ এসময় উপস্থিত ছিলেন,চৌহালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন,ভাইস চেয়ারম্যান মোল্যা বাবুল আক্তার ,মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস আলী ,সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সম্পাদ মাসুম সিকদার প্রমুখ৷