১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতার কার্ড পাবে রুপি?

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ৩, ২০১৯
আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতার কার্ড পাবে রুপি?

Manual6 Ad Code

 

Manual3 Ad Code

এম আকাশ,খুলনা বিভাগীয় ব্যুরোঃ বাবা মা ছোট বেলায় আদর করে নাম রেখেছিল রুপিয়া, কিন্তু ভালবেসে সবাই তাকে রুপী বলেই ডাকতো। বয়স নুয়ে আজ সে বৃদ্ধা ,গায়ের চামড়া ঝূলে গেছে,চোখে আর দেখতে পায় না আগের মতো। বঞ্চিত সে দিনের আলোর, তেমনি সে আরো বঞ্চিত তার নায্য অধিকার বয়স্ক ভাতার কার্ড হতে। আর এটি সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৭৭ বছর বয়সী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বৃদ্ধার এক অজানা কাহিনী,নাম তার রুপিয়া খাতুন। উপজেলার কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা তিনি। জাতীয় ন্যাশনাল আইডি কার্ড অনুযায়ী বয়স তার ৭৭ পেরিয়ে গেছে। স্বামী মারা গেছেন প্রায় ২৫ বছর আগে। তার দুই ছেলেও মারা গেছে অনেক আগে। চোখে দেখতে পান না প্রায়, কানেও শোনে না। এতোগুলো সমস্যাও থাকা সত্ত্বেও আজও একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড দেয়া হয়নি তার নামে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও অসহায় জীবন-যাপন করছে রুপিয়া খাতুন। বর্তমানে তিনি ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। ভুগছেন বার্ধক্যজনিত নানাবিধ রোগে। বর্তমানে তিনি তার মৃত ছেলেদের স্ত্রী ও নাতীদের সাথে থাকছেন । নাতীরা চাষাবাদ করে সংসার চালান। কোন রকমে দিন চলে তাদের। এরই মধ্যে দাদির ওষুধ কেনা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে তাদের। বৃদ্ধা রুপিয়া খাতুনের নাতী জেয়নাল আবেদিন জানান, দাদির অনেক বয়স হয়েছে। সবসময়ই নানারকম রোগে-শোকে ভোগছেন। তার জন্য ওষুধ কেনা লাগে প্রায় সময়। আবার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কিছু খেতে চান কিন্তু অর্থাভাবে সব সময় কিনে দিতে পারিনা। এজন্য খুব খারাপ লাগে আমাদের। তার যদি একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড থাকতো তাহলে তার ওষুধ কেনাসহ বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করতে পারতাম। রুপিয়া খাতুনের পুত্রবধূ রাহিলা খাতুন জানান, ২৫ বছর আগে আমার শশুর মারা গেছেন। কিন্তু আমার শাশুড়ি বয়স্ক ভাতা কার্ড তো দুরের কথা আজও পর্যন্ত একটা বিধবা ভাতার কার্ড পাননি। আমরা কয়েকবার ছবি দিয়েছিলাম কিন্তু মেম্বর-চেয়ারম্যান কার্ড দেননি। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেমের কাছে জানতে চাইলে তিনি দায়সারা কথা বলেন। তিনি বলেন, আসলে এতোদিন উনার আইডি কার্ড আমরা হাতে পায়নি। তাই ভাতার কার্ড করে দিতে পারেনি। মূলত তার আইডি কার্ড হারিয়ে গিয়েছিলো এজন্য কার্ড করা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন করে সে স্মার্ট কার্ড পেয়েছে এবং আমি তার স্মার্ট কার্ডের ফটোকপিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিয়েছি। এবার কার্ড হবে তার। এ ব্যাপারে কেঁড়াগাছি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিল জানান, সম্প্রতি আমি তার আইডি কার্ডের কপিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেয়েছি। এবার নতুন কার্ড আসলেই তার কার্ড হয়ে যাবে।

Manual6 Ad Code