আগৈলঝাড়া প্রতিনিধিঃ বরিশালের আগৈলঝাড়ায় শ্রী শ্রী শ্যামা পূজা ও শুভদিপাবলী গতকাল উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপে ও বাড়িতে উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রীশ্রী শ্যামা কালী পূজা।
হিন্দু সমপ্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ধর্মীয় উৎসব কালী পূজা নামেও পরিচিত।
অমাবস্যা তিথিতে বিভিন্ন পূজা ম-পে অনুষ্ঠিত হয় শ্রীশ্রী শ্যামা (কালী পূজা) ও দীপাবলী উৎসব।
দুর্গাপূজার বিজয়ার পরবর্তী এবং কার্তিক মাসের অমাবস্যার রাতে এ দীপাবলির আয়োজন করা হয়।
পৃথিবীর সকল অন্ধকারের অমানিশা দূর করতেই এই আয়োজন। অশুভ শক্তির হাত থেকে পৃথিবীকে রা করতেই এই আলোকায়ন।
দীপাবলি সনাতনধর্মীদের উৎসব বিশেষ। এটি দেওয়ালি, দীপান্বিতা, দীপালিকা, সুখরাত্রি, সুখসপ্তিকা এবং যরাত্রি নামে অভিহিত।
বাংলায় ‘দীপাবলি’ শব্দটি হিন্দি দিওয়ালি শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ প্রদীপের সারি। হিন্দু ধর্মানুসারীরা বিশ্বাস করে দীপাবলির আলোয় সকল অশুভ শক্তি দূর হয়ে ঘটবে শুভ শক্তির আবির্ভাব।
শুধু সনাতনধর্মীরাই নয়, শিখ এবং জৈন ধর্মাবলম্বীরাও এ উৎসব পালন করে।
তাই দীপাবলি ও কালী পূজা একসাথে গাঁথা। রামায়ণ অনুসারে দীপাবলি দিনে ত্রেতা যুুগে শ্রীরাম রাবণ বধ করে চৌদ্দ বছরের বনবাস শেষে অযোধ্যা প্রত্যাবর্তন করেন। শ্রী রামের চৌদ্দ বছর পরের প্রত্যাবর্তনে সারা রাজ্যজুড়ে প্রদীপ জ্বালানো হয়।
প্রজারা খুশীতে শব্দবাজি করে। দীপাবলী মূলত পাঁচ দিনব্যাপী উৎসব।
দীপাবলীর আগের দিনের চতুর্দশীকে বলা হয় ‘নরকা চতুর্দশী, এই দিনে শ্রীকৃষ্ণ এবং তাঁর স্ত্রী সত্যভামা নরকাসুরকে বধ করেছিলেন। চতুর্দশী পরের অমাবস্যা তিথি দীপাবলী উৎসবের দ্বিতীয় দিন, কিন’ এই দিনই মূল হিসেবে উদযাপিত হয়।
এই দিন রাতে শক্তি দেবী কালীর পূজা করা হয়।
দীপাবলীর তৃতীয় দিন-আজ কার্তিকা শুদ্ধ।
এই দিন অসুর বলি নরক থেকে বেরিয়ে পরিশুদ্ধ হয়ে বিষ্ণুর বরে পৃথিবী শাসন করে।
চতুর্থ দিন হচ্ছে ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া। একে যম দ্বিতীয়াও বলা হয়। এই দিন বোনেরা ভাইকে নিমন্ত্রণ করে, কপালে ফোটা দেয়, হাতে রাখি বেঁধে দেয়। দীপাবলির রাতে অনুষ্ঠিত হয় শ্যামা কালী পূজা। হিন্দু পুরাণ মতে কালী দেবী দুর্গারই একটি শক্তি।
সংস্কৃত ভাষার ‘কাল’ শব্দ থেকে কালী নামের উৎপত্তি। কালী পূজা হচ্ছে শক্তির পূজা। জগতের সব অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভশক্তির বিজয়ের মধ্যেই রয়েছে কালী পূজার মাহাত্ম।
কালী দেবী তার ভক্তদের কাছে শ্যামা, আদ্য মা, তারা মা, চামু-া, ভদ্রকালী, দেবী মহামায়াসহ বিভিন্ন নামে পরিচিত। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনের মাধ্যমে ভক্তের জীবনে কল্যাণের অঙ্গীকার নিয়ে পৃথিবীতে আগমন ঘটে দেবী শ্যামা বা কালীর।
শ্যামা দেবী শান্তি, সংহতি ও সমপ্রীতি প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামের প্রতীক। যেসব ম-পে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে তার অধিকাংশ ম-পেই আয়োজন করা হয়েছে শ্রীশ্রী শ্যামা কালী পূজার।
এছাড়া বিভিন্ন কালী মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই পূজা। আরোও অন্যান্য জায়গায় সাড়ম্বরে এই পূজার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল সকাল থেকেই বিভিন্ন ম-পে রয়েছে নানা ধর্মীয় কর্মসূচি।
অনুষ্ঠানসূচিতে ছিল মায়ের আবাহন, বাল্য ভোগ, মায়ের পূজা, ও ভোগরাগ, প্রসাদ বিতরণ, শ্যামা সংগীত ও ভক্তিমূলক গান, ধর্মীয় আলোচনা সভা, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, চন্ডী পাঠ, শ্রী শ্রী শ্যামা মায়ের মহাপূজা ও পূজা শেষে পাঠা বলির। পূজা উপলে মন্দিরগুলোকেও সাজানো হয়েছে রঙিন আলোয়। পূজাম-পগুলোর সামনে নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ।
সন্ধ্যায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে প্রতিটি মন্ডপসহ ঘরে ঘরে জ্বালানো হবে সহস্র প্রদীপ।
গতকাল সন্ধ্যায় শুভ দীপাবলী শ্রী শ্রী শ্যামা পূজা উদযাপন উপলে আস্কোর পুরাতন কালীবাড়ী মন্দির প্রাঙ্গনে মন্দির কমিটির আয়োজনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্টানে জাতীয় শিশু সংগঠক লিটন বৈদ্যের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাগধা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবুল ভাট্টি, এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি বিষ্ণু পদ হালদার, বাগধা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি এ.আর ফারুক বক্তিয়ার, সাধারন সম্পাদক ইউনুস আলী মিয়া, সাবেক যুবলীগ নেতা বজলুল হক হাওলাদার, বাগধা ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দেবদুলাল অধিকারী. বিমল মল্লিক. সঞ্জয় বিশ্বাস. সর্বানন্দ অধিকারী. সুকলাল বৈদ্য প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন হরষিৎ বৈদ্য।