৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মালয়েশিয়ায় ২৪ মিলিয়ন রিঙ্গিতের অবৈধ ওষুধ জব্দ, দুই বাংলাদেশিসহ গ্রেফতার ৫

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
মালয়েশিয়ায় ২৪ মিলিয়ন রিঙ্গিতের অবৈধ ওষুধ জব্দ, দুই বাংলাদেশিসহ গ্রেফতার ৫

Manual7 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যে এক অভিযানে প্রায় ২৪ মিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত মূল্যের অবৈধ স্বাস্থ্য সুরক্ষা পণ্য ও নিষিদ্ধ ওষুধ জব্দ করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ মালয়েশিয়ান এবং ২ বাংলাদেশিসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) পেনাংয়ের সিম্পাং আম্পাত এলাকায় একটি কারখানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পেনাং স্বাস্থ্য পরিচালক দাতুক ড. ফাজিলাহ শেখ আল্লাউদ্দিন।

Manual7 Ad Code

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পেনাংয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল এনফোর্সমেন্ট ডিভিশন মোট ১৯টি স্থানে একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করে। এর মধ্যে ১৩টি স্থানে অবৈধ কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অভিযানে ৮৮ হাজার ইউনিট অনিবন্ধিত স্বাস্থ্য পণ্য, ৫০০ প্যাকেটের বেশি কাঁচামাল (বিষাক্ত রাসায়নিক), ২৩ হাজার ইউনিট অর্ধ-প্রস্তুত পণ্য, ৩৬টি ভারী মেশিন (ক্যাপসুল ফিলিং এবং প্যাকেজিং মেশিন) এবং দুটি ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।

Manual6 Ad Code

ড. ফাজিলাহ জানান, জব্দ পণ্যগুলো মূলত চীনা ঐতিহ্যবাহী ওষুধ হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছিল। প্রাথমিক পরীক্ষায় এগুলোতে স্টেরয়েড, প্যারাসিটামল এবং অ্যালোপুরিনল-এর মতো নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা ১৯৫২ সালের বিষ আইন অনুযায়ী অপরাধ। এই ওষুধগুলো মূলত ব্যথানাশক এবং গেঁটে বাত নিরাময়ের নামে প্রতিটি মাত্র ২০ রিঙ্গিতে বিক্রি করা হতো।

Manual4 Ad Code

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের পরিচালক মোহাড জাওয়াবি আবদুল্লাহ জানান, এই চক্রটি ২০২০ সাল থেকে সক্রিয়।

Manual5 Ad Code

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তারা উৎপাদন, লেবেলিং, গুদামজাতকরণ এবং বিপণনের কাজ আলাদা আলাদা ১৯টি স্থানে ভাগ করে পরিচালনা করত। ৩৪ বছর বয়সি এক স্থানীয় যুবককে এই পুরো সিন্ডিকেটের ‘মূল হোতা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই অবৈধ ওষুধগুলো মালয়েশিয়ার স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ভিয়েতনামেও রফতানি করা হতো এবং অনলাইনেও বিক্রি করা হতো।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও কসমেটিকস রেগুলেশন ১৯৮৪ এবং বিষ আইন ১৯৫২-এর অধীনে মামলা করা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা বা ৩ বছরের জেল।

কোম্পানি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা এবং বিষ আইনের আওতায় সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা বা ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।