৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

৩১ বছর পর রায়ের ছায়া: মিঠাপুকুরের হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

Editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬
৩১ বছর পর রায়ের ছায়া: মিঠাপুকুরের হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

Manual1 Ad Code

৩১ বছর পর রায়ের ছায়া: মিঠাপুকুরের হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

লোকমান ফারুক, রংপুরঃ তিন দশক একটি মানুষের প্রাপ্তবয়স্ক জীবন। সেই সময়টুকু পেরিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে বদরগঞ্জের এক চেনা-অচেনা পাড়ায় শেষ হলো এক পলাতক জীবনের দীর্ঘ অধ্যায়। ১৯৯৫ সালের একটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শফি উদ্দিন (৬০) গ্রেপ্তার হয়েছেন, রায়ের ৩১ বছর পর।

Manual5 Ad Code

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৩ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে বদরগঞ্জ পৌর এলাকার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পাশের একটি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী।

Manual1 Ad Code

শফি উদ্দিনের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খামার কুর্শা গ্রামে। অভিযোগ অনুযায়ী, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিনি নিজের ফুফাতো বোনকে হত্যা করেন। সে সময় মামলা হয় মিঠাপুকুর থানায়। পরে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় হয়েছিল, কিন্তু মানুষটি ছিলেন অদৃশ্য আইনের চোখের আড়ালে।

Manual4 Ad Code

আইন তার গতিতে চলে ধীরে, কিন্তু থেমে থাকে না। তবে কখনও কখনও সেই গতি এত ধীর যে, ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে তা প্রায় স্তব্ধ মনে হয়। রায়ের পর শফি উদ্দিন এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস শুরু করেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব। বদরগঞ্জে তিনি দীর্ঘদিন ছিলেন, স্থানীয়দের কাছে নীরব এক বাসিন্দা হিসেবে।
র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, সম্প্রতি ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে অভিযান চালানো হয়। বৃহস্পতিবারের অভিযানে ৩১ বছর আগের মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। একটি প্রশ্ন অবশ্য থেকে যায় রায় ঘোষণার পর তিন দশক ধরে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি কীভাবে নাগরিক জীবনে মিশে থাকতে পারেন? রাষ্ট্রের নথিতে তিনি দণ্ডিত, কিন্তু বাস্তবে ছিলেন প্রতিবেশী, সহযাত্রী, হয়তো ভোটারও। আইন ও বাস্তবতার এই ফাঁক কি কেবল জনবল ও তদারকির ঘাটতি, নাকি আমাদের বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার অদৃশ্য ছায়া?

Manual3 Ad Code

হত্যার ক্ষত সময়ের সঙ্গে শুকিয়ে যায় এমনটাই বলা হয়। কিন্তু রায়ের অপেক্ষা কি সত্যিই শুকোয়? নাকি ন্যায়বিচারের বিলম্ব নিজেই এক ধরনের অবিচার?
৩১ বছর পর গ্রেপ্তার মানে কি ন্যায়বিচারের পুনর্জন্ম নাকি আমাদের ব্যবস্থার নীরব স্বীকারোক্তি?