২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বালি-মাদক সিন্ডিকেট বিরুদ্ধে দাঁড়ানো জন্য খলনায়ক বানানো হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম ডালিমেরকে

admin
প্রকাশিত জুলাই ২১, ২০২৬
বালি-মাদক সিন্ডিকেট বিরুদ্ধে দাঁড়ানো জন্য খলনায়ক বানানো হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম ডালিমেরকে

Manual1 Ad Code

বালি-মাদক সিন্ডিকেট বিরুদ্ধে দাঁড়ানো জন্য খলনায়ক বানানো হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম ডালিমেরকে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম ডালিম এনসিপি (ন্যাশনাল সিটি পার্টি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার যুগ্ম-আহবায়ক এবং আশুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আশুগঞ্জ উপজেলায় নানাবিধ সামাজিক কাজ করে আসছেন। তিনি যেকোনো বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং মাদকবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।

Manual8 Ad Code

আশুগঞ্জের মেঘনা নদী থেকে কিছু অসাধু ব্যক্তি অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছে। এর ফলে আশুগঞ্জের চর-সোনারামপুর এলাকা ভেঙে নদীতে বিলীন হচ্ছে, যেখানে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষের ঘর-বাড়ি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও এই অবৈধ বালি উত্তোলনের কারণে পানিশ্বরের অনেক পরিবার ইতিমধ্যেই ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে এবং পানিশ্বর বাজার এখন ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। এত বড় অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না। এই অবৈধ বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম ডালিম এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রমিন ফারহানা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।

বালি ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে প্রভাবশালী মহল তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। যারা এসব অপপ্রচার ছড়াচ্ছে, তাদের ফেসবুক প্রোফাইল পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, তারা ছাত্রদলের তৃতীয় সারির কিছু নেতা-কর্মী। তারা অভিযোগ করেছে যে, ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম ডালিম আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন, বিভিন্ন অনিয়মের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিপক্ষে ছিলেন।

তার(ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম ডালিম) ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি এসব অভিযোগের জবাব দিয়েছেন। তিনি জানান, ২০১৬ সালে তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সাথে তার দুটি ছবি রয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ওই সময় তিনি তার ইউনিভার্সিটির ফাইনাল প্রজেক্ট নিয়ে আন্তঃইউনিভার্সিটি সায়েন্স ফেয়ারে অংশ নেন এবং সেখানে জুনাইদ আহমেদ পলক উপস্থিত ছিলেন, তখনই ওই ছবি তোলা হয়। আরেকটি ছবিতে তিনি স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগ নেতার সাথে বসে আছেন—এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই নেতা তখন উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন এবং আশুগঞ্জ উপজেলায় সালিশকারী হিসেবে অত্যন্ত পরিচিত ছিলেন। ওই সময়ের একটি সালিশে সমাজের নানান মানুষের সাথে তিনিও উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তিনি বিএনপি ও জামায়াতের অনেক নেতার সাথে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যান এবং ছবি তোলেন। কয়েকদিন পর আবার তাকে বিএনপি বা জামায়াতের সমর্থক বানিয়ে অপপ্রচার চালানো হবে। তিনি স্পষ্ট জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি ঢাকায় আন্দোলন করেছেন এবং আশুগঞ্জ উপজেলার আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন।

আশুগঞ্জের আন্দোলনে তিনি তার ভাতিজা আজহারুল ইসলাম সৌরভের মাধ্যমে সরকারি হাজী আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করেন, তার বোনঝি আরপিতা আলম দোলনের মাধ্যমে তিন্নি আনোয়ার কলেজের ছাত্রীদের সংগঠিত করেন এবং তার ভাগিনা আদিল মাহমুদের মাধ্যমে আশুগঞ্জ গোলচত্বরে (যেখানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল) অবস্থিত ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজকে সংগঠিত করেন। এছাড়াও নাগরিক সমাজ থেকে তার বন্ধু মোহাম্মদ তারেক আজিজ, ডা. মাসুদ রানা, জাহিদ সরকার ও ফুজায়েল আহমেদ রাফির মাধ্যমে তিনি নাগরিক সমাজের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে সংগঠন গড়ে তোলেন।

তিনি মূলত সরাসরি আন্দোলনে যুক্ত হন ৩ আগস্ট। ওইদিন শুক্রবার ছিল—তিনি কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার মসজিদে নামাজ আদায়ের পর পায়ে হেঁটে শহীদ মিনারে যান। সেখানে নাহিদ ইসলাম এক দফা ঘোষণা করেন। পরদিন ৪ আগস্ট তিনি শাহবাগে আন্দোলন করেন এবং বিকেলে বাংলা মোটরে যান। ৪ তারিখে তার চোখে টিয়ারগ্যাস লাগে এবং বিকেলে রাবার বুলেটে তার আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

Manual6 Ad Code

তিনি জানান, তখন তিনি (ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম ডালিম), বর্তমান ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তাজ (পুরো নাম মনে নেই), সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাহফুজ, ক্রিয়া সম্পাদক বুরহান উদ্দিন খান সৈকত এবং গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একজন সদস্য (নাম মনে নেই) একই বাসায় থাকতেন।

Manual3 Ad Code

৫ আগস্ট সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি ছাত্রদল নেতাদের বলেন, আজ আমরা আন্দোলনে শহীদ হওয়ার তামান্না নিয়ে যাবো, তাই সবাই শেষ ওজু-গোসল করে নাও। তিনি নিজেও শেষ ওজু-গোসল করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়েন। সকাল ১০টার দিকে তিনি মাহফুজ, বুরহান এবং গোপালগঞ্জের ওই ছাত্রদল সদস্যকে নিয়ে বের হন। তারা চারজন মিলে কলাবাগান বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি অটোরিকশা নিয়ে সায়েন্সল্যাব হয়ে শাহবাগ যাওয়ার জন্য রওনা দেন।

সায়েন্সল্যাব ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে গিয়ে তারা সায়েন্সল্যাব মোড়ে একদল পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অটোরিকশা থামিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তারা দেখেন, একজন-দু’জন করে লোকজন পার হয়ে যাচ্ছে এবং পুলিশ কোনো বাধা দিচ্ছে না। এই সাহসে তারা আবার অটোরিকশা চালিয়ে এগোতে থাকেন। কিন্তু ঠিক সায়েন্সল্যাব মোড় পার হওয়ার সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। তারা অটোরিকশা থেকে নেমে এলিয়েনের গলি দিয়ে সমস্ত শক্তি দিয়ে দৌড়াতে থাকেন। পুলিশ তাদের পিছন থেকে ধাওয়া ও গুলি করে। প্রাণ বাঁচাতে তারা প্রায় ২-৩ কিলোমিটার দৌড়ান। পরে হাতিপুল ও পিজি হাসপাতালের গলি দিয়ে তারা শাহবাগে পৌঁছান।
ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম ডালিম কে ফোনে যোগাযোগ করলে এই তত্ত্ব প্রদান করেন এবং বলেন
বিভিন্ন পত্রিকায় তার নামে অসত্য সংবাদ প্রচারে-র প্রতিবাদে তাদের সম্পাদক ও নিউজ এডিটরে বরাবর প্রতিবাদলিপি দেয়া হবে বলে জানান।

Manual1 Ad Code