১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মোংলায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সোলার ডিস্যালিনেশনের কাজ শুরু,জানেননা প্রশাসন

admin
প্রকাশিত আগস্ট ২৭, ২০২০
মোংলায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সোলার ডিস্যালিনেশনের কাজ শুরু,জানেননা প্রশাসন

Manual8 Ad Code

 

মোঃ জাহান জেব কুদরতী,বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ-

 

বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলায় জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে “সোলার ডিস্যালিনেশন প্রকল্প” বাস্তবায়নের কাজ শুরু হলেও জানেন না উপজেলা প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কেউই।

 

Manual1 Ad Code

এ প্রকল্পের আওতায় মোংলা-রামপাল উপজেলায় ২০২টি স্বয়ংক্রিয় সৌরচালিত পানি বিশুদ্ধকরণ ইউনিট স্থাপন করার কথা রয়েছে।

 

প্রকল্প শুরুর ১২ মাসে তৈরি হয়েছে মাত্র ১৫টি ইউনিট। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নামে মাত্র মোংলায় কাজ শুরু হলেও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করছে পানি বিশুদ্ধকরণ ইউনিট যা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে বলে গ্রাহকদের অভিযোগ আছে।

 

তবে খোঁজ নিয়ে ট্রাস্ট ফান্ডের কাজের গুণগতমান ও কোন্ ঠিকাদার কাজ করেছে তা খুঁজে বের করার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

 

Manual4 Ad Code

মোংলা উপজেলার উপকুলীয় অঞ্চলে লবণাক্ত এলাকার মানুষের সুপেয় পানির দুর্দশার কথা বিবেচনা করে পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। মোংলা-রামপালের এমপি বেগম হাবিবুন নাহার জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকায় এ অঞ্চলের মানুষের মিষ্টি পানির যে একটি বড় সমস্যা তা তিনি নিজের চোখেই দেখেন।

 

তাই পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন শাখা-২ গত ২০১৯ সালের ২ অক্টোবর প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে -(স্মারক নং-২২.০০.০০০০.০৮৬.১৪.০৮৮.১৯.৪৩০) মোংলা ও রামপাল উপজেলায় সোলার ডিস্যালিনেশন প্লান্ট স্থাপন করা হবে বলে জানা যায়।

 

এ প্রকল্পের আওতায় মোংলা-রামপাল অঞ্চলের দুস্থ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সুপেয় পানি সরবরাহ করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

 

Manual7 Ad Code

এখানে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২টি স্বয়ংক্রিয় সৌরচালিত পানি বিশুদ্ধকরণ ইউনিট স্থাপন করার কথা রয়েছে। প্রকল্পের মূল মেয়াদকাল ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা হলো ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট’।

 

প্রশাসনিক আদেশে প্রকল্পের আওতায় ‘প্রোজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিট’ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ‘প্রোজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটি’ গঠনের কথা বলা হয়েছে।

 

এছাড়া প্রকল্প কার্যক্রম বাস্তবায়ন এলাকায় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে অনুমোদিত প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট তথ্য সম্বলিত দৃশ্যমান সাইনবোর্ড স্থাপন করার কথাও বলা আছে এ আদেশে কিন্ত তার কিছুই করেননি এ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
 

প্রকল্পের কার্যক্রম বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ও উপ-প্রকল্প পরিচালক মোঃ ইসকান্দার হোসেন বলেন, কিছু দিন আগে মোংলা উপজেলা বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলমান রয়েছে। পরবর্তীতে রামপাল উপজেলায়ও কাজ শুরু করা হবে।

 

তবে কাজের গুনগতমান’র ব্যাপারে জানতে চাইলে পারিবারিক কাজে ব্যস্ত বলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি তিনি।

 

ট্রাস্ট ফান্ড প্রকল্পের কাজের বিষয়ে মোংলা উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব আবু তাহের হাওলাদার ও বুড়িরডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান বাবু নিখিল চন্দ্র রায় বলেন-কিসের প্রকল্প আর কি কাজ,কোথায় হচ্ছে? কিছুই জানেন না তারা। তবে গ্রাহকদের কাছে জানতে পারে ৭৫০ লিটারের ২টি পানির ট্যাঙ্ক, ৫টি প্যানেল, ১টি সোলার বসানো হয়েছে যা এক একটি স্থানে কোন রকম ফেলে রাখা হয়েছে। যা শুরুতেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।

 

মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাবু কমলেশ মজুমদার বলেন- ইতিপূর্বে প্রকল্প’র বিষয়ে কিছুই জানা ছিল না। তবে গত ১৯ আগস্ট সকাল ১১টা জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ও প্রকল্প পরিচালক সচিব বাবু শুভাশিষ সাহা স্যার আসার কথা থাকলেও তিনি আসেনি। মনে হচ্ছে এই প্রকল্প দেখার জন্যই তিনি আসতে চেয়েছিলেন। তার পরেও এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।

 

ট্রাস্ট ফান্ডের প্রকল্পের কার্যক্রম বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার জনাব সোহান আহমেদ বলেন- জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট প্রকল্পের পানি বিশুদ্ধকরণ ইউনিট স্থাপনের কাজ যে মোংলায় শুরু হয়েছে তা আমার জানা নাই।

 

Manual5 Ad Code

১৯ আগস্টের একটি চিঠি পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেলো বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নে ১২ মাসে ১৫টি ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে, মেয়াদকাল বাকি আর ৪ মাস।এই সময়ের মধ্যে দুই উপজেলায় আরো ১৮৭টি ইউনিট স্থাপন করার কথা রয়েছে।

 

তবে প্রতিটি ইউনিটে প্রায় ৩ লাখ টাকারও বেরি ব্যয় ধরা হয়েছে। যে ১৫টি ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে তা পরিকল্পনাবিহীন নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবং ব্যাবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে বলে জানায় এই প্রকৌশলী।।