২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মৌলভীবাজারে আগুনে ঘর পুড়ে ছাই অক্ষত অবস্থায় রয়েছে পবিত্র কোরআন শরীফ

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০
মৌলভীবাজারে আগুনে ঘর পুড়ে ছাই অক্ষত অবস্থায় রয়েছে পবিত্র কোরআন শরীফ

Manual7 Ad Code

মোঃ মালিক মিয়া,বিশেষ প্রতিনিধি ::

মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাট এলাকায় ফের আগুনে একটি টিন সেটের ঘর পুড়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মৌলভীবাজার ফায়ার ষ্টেশনের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ৩০ মিনিট চেষ্টা করে আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনে।

Manual1 Ad Code

 

Manual4 Ad Code

এতে পরিবারের সদস্যদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও পুরো ঘরটি পুড়ে গেছে।

 

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, আজিজুল হক তরফদারের বাড়িতে বাচ্চু মিয়া নামের এক অটোরিক্সা চালক একটি টিন সেটের ঘরে ভাড়া থাকতেন।

 

সন্ধ্যার দিকে বাচ্চু মিয়া বাজার করতে শহরে যান এবং উনার স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার ঘরে তালা দিয়ে পার্শ্ববর্তী ইমাম হোসেনের বাসায় যান। সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ করে বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার দেখতে পান তার ঘরে আগুণ জ্বলছে।

Manual6 Ad Code

 

প্রতিবেশীর ঘর থেকে বের হয়ে ইয়াছমিন আক্তার চিৎকার দিয়ে তাৎক্ষণিকভাব স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুণ নিয়ন্ত্রণ আনে।

 

সরেজমিন দেখা যায়, আগুণে পুরো ঘরটি পুড়ে ছাই হয়েছে। পরিবারের দাবি অগ্নিকান্ডে তাদের প্রায় ৩/৪ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আগুনের খবর পেয়ে অটোরিক্সা চালক বাচ্চু মিয়া শহর থেকে বাড়িতে এসে পুড়া ঘর দেখেই অজ্ঞান হয়ে পড়েনে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

 

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন ম্যানেজার জালাল আহমদ বলেন, কি কারণে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে ধারণা করা হচ্ছে চুলা কিংবা বিদ্যুৎ সট সার্কিট থেকে এই অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হতে পারে।

 

আগুনে একটি টিন সেটের ঘর পুড়লেও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে কোরআন শরীফ। এনিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতুল সৃষ্টি হয়েছে। ঘরের টিন থেকে শুরু করে আসবাবপত্র পুড়ে গেলেও কোরআন শরিফের একটি অক্ষরও পুড়েনি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর কোরআন শরীফটি সংরক্ষনে রেখেছেন পাশের বাসার ইমাম হোসেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনে বাসার সব কিছু পুড়ে গেলেও এই কোরআন শরীফের একটি অক্ষরও পুড়েনি। আগুনের তাপে কোরআন শরীফের লেখা ছাড়া বাকি সাদা অংশ কিছুটা কালো দাগ হয়েছে। তবে লেখা পুড়েনি। কোরআন শরীফটি একনজর দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয় লোকজন।

 

কোরআন শরীফটি সংরক্ষনে রাখা ইমাম হোসেন বলেন, পুরো ঘরটি পুড়লেও আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে কোরআন শরীফটি রক্ষা পেয়েছে। পবিত্র কোরআন শরীফ স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা নিরাপদে রাখেন, এটাই বাস্তব প্রমাণ।

 

Manual4 Ad Code

প্রত্যক্ষদর্শীর শাহিনুল ইসলাম শাহরিয়া বলেন, আগে অনেক শুনেছি কিন্তু আজ বাস্তবে দেখলাম, কোরআন শরীফ আগুনে পুড়ে না। আল্লাহ তার এই কুদরতি হাত দিয়ে এই পবিত্র গ্রন্থটি রক্ষা করেছেন