২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মহেশপুরে অধিকাংশ শিক্ষকরাই নোট-গাইড ও টিউশনিতে ব্যস্ত

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৫, ২০২০
মহেশপুরে অধিকাংশ শিক্ষকরাই নোট-গাইড ও টিউশনিতে ব্যস্ত

Manual6 Ad Code

 

Manual1 Ad Code

রবিউল ইসলাম,মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধিঃ

শিক্ষকদের বিভিন্ন লোভ-লালসা ও মোহ থেকে দূরে থাকার আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ। গত ১১ জানুয়ারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি তার বক্তব্যে এ আহবান জানান।
বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্টপতি মোঃ আব্দুল হামিদ একজন নির্মোহ ব্যাক্তি। কিন্তু কে শোনে কার কথা। শিক্ষক সমাজ মানুষ গড়ার কারিগর হলেও তাদের অধিকাংশই নোট-গাইড ও টিউশনিকে বেছে নিয়েছেন কোটিপতি হওয়ার হাতিয়ার হিসেবে। বছরের শুরুতেই তারা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের পকেট থেকে নোট-গাইড ও গ্রামার কেনার অজুহাতে পুস্তক ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিতে পারে সেই ধান্দায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। টিউশনি ও নোট-গাইডের ব্যবসার সাথে তাদের প্রায় সকলেই জড়িত। হোক সে জেনারেল অথবা আরবি লাইনের শিক্ষক।২য় ও ৩য় শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদেরকেও ২শ’ টাকা মূল্যের গাইড কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।
নির্ধারিত শিক্ষকের কাছে যেমন প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ভাগ্যে উল্লেখযোগ্য নম্বর জোটে না। তেমনি শিক্ষক বা বিদ্যালয় মনোনীত নোট-গাইড না কিনলে শিক্ষার্থীকে বার বার চাপ সৃষ্টি করা হয় কমিশন খাওয়া প্রকাশনা সংস্থার বই কিনতে। এ ক্ষেত্রে তারা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরকে বলির পাঠা বানানো হচ্ছে। ২শ’ টাকার বই তারা ৫/৬ শ’ টাকায় কিনতে বাধ্য করছে। দেশে আইন থাকলেও তার প্রয়োগ নেই। বর্তমান সরকার দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর যাবৎ প্রথম শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত নির্ধারিত বই এর সাথে বাংলা ব্যকরণ ও ইংরেজি গ্রামার সরবরাহ করলেও শিক্ষকেরা সরকার প্রদত্ত ব্যকরণ ও গ্রামার না পড়িয়ে বিভিন্ন প্রকাশনার মালিকদের নিকট থেকে নির্ধারিত হারে প্রতিবছর কমিশন নিয়ে পুনরায় বাংলা ব্যকারণ ও ইংরেজি গ্রামার কিনতে বাধ্য করছে।
বলা হচ্ছে সরকার প্রদত্ত ব্যকরণ ও গ্রামের মান ভাল না হওয়ায় দামী প্রকাশনা সংস্থা বই কিনে পড়তে বলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে যদি শিক্ষার্থী নিজেদের ইচ্ছামতো যে কোন প্রকাশনা সংস্থার বই কেনে তবে তাও তারা পড়তে দেন না। শিক্ষক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনোনীত পাবলিকেশনের বই কিনতেই হবে।
কিছুদিন আগে ডিসি সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপুমনি ডিসিদের নোট – গাইডের বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
বছরের শুরুতে বিভিন্ন প্রকাশনার এজেন্টরা প্রায় প্রতিটি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় যেয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সাথে আলোচনা করে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুপাতে সেলামী দিয়ে “কন্ট্রাক্ট” করছেন।
গত কয়েক বছর আগে শিক্ষক সমিতির মাধ্যমে “কন্ট্রাক্ট” হতো। বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশক হওয়ার পর শিক্ষক ও প্রকাশনা সংস্থা ‘গা’ বাঁচাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতি কন্ট্রাক্ট করছে।
এক্ষেত্রে পুস্তক ব্যবসায়ীরা কমিশন খাওয়ার ধান্দায় তাদের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।
এসংক্রান্ত বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির একজন সাবেক সভাপতির ও মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতির বক্তব্যের রেকর্ড আমাদের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে। যা শুনলে দেশবাসী আশ্চার্য হয়ে যাবেন। তাদের আসর চেহারা কেমন তা ঐ বক্তব্যের রেকর্ডে উঠে এসেছে।

Manual8 Ad Code