আব্দুল করিম, চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :
জননন্দিত সাবেক সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ৭৫তম জন্মদিন আজ রোববার (১ ডিসেম্বর)
মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছিল এক বর্ণাড্য রাজনৈতিক জীবন। ষাটের দশকে চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ছাত্র থাকাকালীন সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন মহিউদ্দিন চৌধুরী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির মধ্যে দিয়ে যুক্ত হন ছাত্রলীগের সাথে। এরপর তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের পর শ্রমিক রাজনীতির সাথে যুক্ত হন মহিউদ্দিন চৌধুরী। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সপরিবারে প্রায় সকলকে হত্যার ঘটনা মহিউদ্দিন চৌধুরীর ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে ভারতে গিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। ফিরে এসে চট্টগ্রামকে ‘সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন’ করে দিতে চেয়েছিলেন।পরবর্তী দীর্ঘ সামরিক শাসনের সময় মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন বেশ কয়েকবার কারাবরণ করেন। মহিউদ্দিন চৌধুরী শুধু চট্টগ্রামে নয় পুরো বাংলাদেশের মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন ১৯৯৪ সালে, যখন তিনি প্রথমবারের মত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর তিনি হাত দেন আধুনিক চট্টগ্রাম নগর গড়ার কাজে। সারা দিনরাত এক করে কাজ করে গেছেন চট্টগ্রামের মেহনতি মানুষের জন্য। যতদিন বেঁচে ছিলেন সবসময় মহিউদ্দিনের বাসার দ্বার ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। কি ধনী , কি গরিব মানুষকে আপন করে নিয়েছিলেন। চট্টগ্রামের মাটিকে তিনি এত ভালোবেসে ছিলেন রাষ্ট্রীয় কোনো পদে না থাকলেও চট্টলবাসীর স্বার্থরক্ষায় কাউকে তোয়াক্কা করেননি আপোষহীনভাবে লড়ে গেছেন দাবি আদায়ে। এ দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন সংগ্রামে চট্টগ্রামের রাজনীতি ও মানুষের কাছে হয়ে উঠেছিলেন এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও নিজ কর্মগুণে সকল দল মতের কাছে মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন শ্রদ্ধার পাত্র। তাইতো তিনি চট্টলবীর। বর্ষীয়ান এ রাজনীতিক ১৯৪৪ সালের ১ ডিসেম্বর রাউজানের গহিরার সম্ভ্রান্ত চৌধুরী পরিবারে জন্ম নেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর কিডনিসহ বিভিন্ন জটিলতায় দীর্ঘদিন ভোগার পর নগরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। পারিবারিক জীবনে দুই ছেলে ও চার কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর সহধর্মিনী হাসিনা মহিউদ্দিনও নগর মহিলা লীগের সভানেত্রী। বড় ছেলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বর্তমান সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।