১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

অবৈধ ভাবে বিদেশ যাত্রা নিজেকে কুমির হাঙ্গরের নিকট সঁপে দেয়া

admin
প্রকাশিত অক্টোবর ২৪, ২০১৯
অবৈধ ভাবে বিদেশ যাত্রা নিজেকে কুমির হাঙ্গরের নিকট সঁপে দেয়া

Manual5 Ad Code

জামরুল ইসলাম রেজা, ছাতক থেকেঃ

ভাগ্য বদলানোর জন্য বাংলাদেশের মানুষ কত কিছুই না করে ।

জীবনের ঝুকি নিয়ে প্রবাসের উদ্দেশ্যে গ্রাম থেকে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায় ।

যে ছেলেটি কখনও ঢাকা দেখেনি সে সাইপ্রাস, আফ্রিকা, মেক্সিকো, কলম্বিয়ার পথে পাড়ি দিচেছ আমেরিকা ইউরোপে যাবার উদ্দেশ্যে ।

লাখ লাাখ ডলারের কন্ট্রাকে সে বাড়ী থেকে ইউরোপ আমেরিকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে ।

দশ জন দালালের হাত বদল হয়ে কেউ বা নির্দিষ্ট গন্তব্রে যেতে পারছে বা মাঝ পথে হারিয়ে যাচেছ ।

নোয়াখালির সোনাইমুড়ি নামক উপজেলার লোকজন আমেরিকা আসার জন্য পাগল ,তারা ৩০ লাখ টাকার কন্ট্রাকে দেশ ছাড়ে ৪ মাস পর কয়েক হাত ঘুরে তারা ভাগ্র গুনে পৌছে ।

তবে তাদের ৬ থেকে সাতটি দেশে অবস্তান করতে হয় । পথিমধ্যে তাদের বেশ কয়েকবার ছিনতাইয়ের স্বীকার হতে হয় ।

দেশ থেকে তাদের বেশ কয়েক বার আরও টাকা আনতে হয়ে । তারা নানা দেশের হোটেলে থাকে খেয়ে না থেয়ে ৩ থেকে ৪ মাসে তাদের গন্তব্যে পৌছায় ।

কখন্ও এক দেশ থেকে আরেক দেশে যেতে ৫ থেকে ৭ মাইল পায়ে হেটে রাতের অন্ধাকারে বোডার পেরোতে হয় ।

একটা গ্রামের ছেলে যে কোন ভাষা জানে না তাকে পড়তে হয় নানা ঝামেলায় ।

ভিন্ন দেশী দালাল রা তাকে ফোন দেয় দেশে কথা বলে টাকা আনার জন্য , নিজের জীবনের মায়ায় দেশ বিদেশ থেকে প্রবাসী আত্বীয় স্বজন তাকেতাকে টাকা পাঠায় কখনও্র কলম্বিয়া,কখনও্র মেস্কিকো ,কখন্ও জামাইকা ,কখন্ও গ্রীস , অথবা নানান দেশের বডার এরিয়ায় ।

শুধু লোভে পড়ে বাংলাদেশের এই নাগরিকদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে ।

অথচ দেশে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকায় অনেক ভাল ব্যবসা করার সুযোগ ছিল । নোয়াখালির বেগমগঞ্জ এর অধিবাসীদের পরিবারের অনেক সদস্য আমেরিকায় থাকে তারা তাদের ভাই ভাতিজা ভাগ্নাকে আমেরিকা আনার জন্য এ্ই ঝুকি নিতে বাধ্য করে ।

ভাগ্য গুনে ৫ মাস ৬ মাসে তারা ঠিকই টেস্কাস পৌছে । তা্ও তাদের জেলে থাকতে হয় কয়েকমাস তার পর জামিন নিয়ে তার ভেগে যায় । তাদের লিগেল হবার আর কোন সুযোগ থাকে না ।

সিলেটের বিয়ানীবাজার ও লোকজন্ও বিদেশ পাড়ি দেবার জন্য জীবনে ঝুকি নেয় ।

কখন্ও বিপদজনক শিপে করে তাদের অজানার উদ্দেশ্য যাত্রা করতে হয় । খেয়ে না খেযে তাদের মাসের পর ঝড়বৃষ্টিতে শীপে থাকতে হয় ।

বিদেশ যাবার প্রবনতা যতটা সহজ তারা ভাবে বাস্তবে অনেক কঠিন । অনেকে মনে করে কয়েকটা দিন কষ্ট করলে্ অনেক টাকা রোজগার করা যাবে , আসলে জীবন দিয়ে তাদের অনেককে মুল্য দিতে হয় ।

আমাদের ফ্লোরিডায় আমি দেখেছি অনেকে ৬ মাসে নোয়াখালি থেকে এসেছে ৩০ লাখ টাকা দিয়ে এখন কিচেনে কাজ করছে ২০ বছর লাগবে তার পুজি উঠাতে ।

Manual3 Ad Code

হয়থ তখন ভাবেনি আমেরিকা কি ?এখানে অবৈধরা ভাল রোজি করতে পারে না ।

Manual2 Ad Code

অনেকে যে বয়সে এসেছে তার বিয়ের বয়স তাকে এখানে থাকতে হবে যুগ যুগ ।

তার জীবনটায় কখন্ও রং ধরবে না । অনেক অবৈধ আজেন তাদের বয়স ৪০/৪৫ হয়ে গেছে তাদের দেশে যাও্য়া হচেছ না ডলারের মায়ায় বিয়ে শাদিও করা হচেছ না ।

প্রবাসের এ কঠিন বাস্তবাতা অনেকে জেনে আবার অনেকে না জেনে পাড়ি দিচেছ ।

জীবনের ঝুকি নিয়ে সাগর সাতরিয়ে যে দেশে প্রবেশ করছেন সে দেশেও প্রবাসীরা অবৈধ ।

বিদেশের অনেক জেল এ প্রবাসীরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বছরের পর বছর জেল কাটছেন ।

দুতাবাস গুলো ও তেমন কোন সাহায্য করতে পারছে না ।

কারন তাদের সাথে অনেকে যোগাযোগ করছে না ।

আমেরিকা আসার জন্য মেস্কিকোতে বর্তমানে কয়েক হাজার বাংলাদেশী অবস্তান করছেন ।

অনেকে আবার মেস্কিকো বসতি স্তাপন করে জীবন শূরু করে দিয়েছেন ।

দালালদের হাতে মার খেয়ে অনেকে হাসপাতালে দিন কাটায় । দেশ থেকে বারবার টাকা আনতে হয় নির্দিষ্ট দেশে যাবার জন্য । যা কন্ট্রাকের দ্বীগুন হয়ে যায় ।

ইউরোপ যাওয়ার ট্রানজিট রুট লিবিয়া-তুরস্কের পথ ধরেছে বিয়ানীবাজারের হাজারো তরুণ। স্বপ্নের ভূবনের হাতছানিতে মুগ্ধ হয়ে এসব তরুণ বাড়ি ছেড়েছে। তাদের কেউ আছে ঢাকা-চট্টগ্রামে আবার কেউ আছে লিবিয়া-তুরস্কের অদূরে। বিদেশগামী তরুণদের কিছুসংখ্যক লিবিয়া-তুরস্কে পাড়ি

জমানোর জন্য ‘থার্ডকান্ট্রি’তে অবস্থান করছে।
তাদের কারো বাড়িতে চলছে কান্নার রোল, কারো বাড়িতে খুশির জোয়ার। তারা সবাই ইউরোপে যেতে চায়। যেখানে আছে মোটা টাকা, ইউরো। তবে শুধু ভাগ্যবানই যায় ইউরোপে দুর্ভাগার স্থান হয় হাঙ্গরের পেটে। কুমিরের পেটে নিজেকে শেপে দিতে হয় ।

ছোটখাট নৌকায় যারা বর্ডার পাড়ি দেয় তাদের নৌ্কা বিকল হয়ে পড়ে । কখন্ও জ্বালানি সংকটে তাদের জীবন অথৈও সাগরে আটকে যায় ।

অনেক সাতরিয় বর্ডার ক্রস করতে গিয়ে মরে যায় । এক কাপড়ে তাদের থাকতে হয় । নাওয়া খা্ওয়া কিছুর ঠিক ঠিকানা থাকে না ।

প্রবাসী অধ্যুষিত বিয়ানীবাজার উপজেলার মানুষ যেকোনো উপায়ে ইউরোপে পাড়ি জমাতে চায়। এখানকার তরুণরা বিদেশ যেতে আরো বেশি আগ্রহী। গত ক’বছর বাংলাদেশ থেকে প্রবাস গমনের হার মাত্রাতিরিক্ত কমে যাওয়ায় উপজেলার তরুণরা এমনিতেই হতাশ ছিল। তাছাড়া দু’-একটি দেশ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের ভিসা প্রায় বন্ধ থাকায় বিয়ানীবাজারের তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার অনেকটা বেড়ে যায়। এসব কারণেই ক’মাস থেকে লিবিয়া-তুরস্ক হয়ে ইউরোপে পাড়ি জমাচ্ছে হাজারো তরুণ। গত ৬ মাসে বিয়ানীবাজারের অন্তত ৩ শতাধিক যুবক এ দুটি দেশের ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল পাড়ি জমিয়েছে। একটি সূত্র জানায়, তাদের যাত্রা শুরু হয় চট্টগ্রাম আমানত শাহ বিমানবন্দর থেকে।

সেখানকার একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মূলত তাদের বিমানে ওঠানো হয়। র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক দল কয়েকদফা চট্টগ্রামের আমানতশাহ বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে লিবিয়া, তুরস্কে মানবপাচার সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে। এখনো আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এ সিন্ডিকেটের সদস্যদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যদিও কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না লিবিয়া-তুরস্কগামী তরুণদের মিছিল।

Manual2 Ad Code

ইতালিতে আশ্রয় নেয়া যুবক নাহিদ এই যাত্রার একটি অংশের বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে – ‘উত্তাল সমুদ্রে ভাসছে নৌকা। প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে নৌকায় পানি উঠতে শুরু করেছে। নৌকা ঘিরে চক্কর দিচ্ছে হাঙ্গর ও ডলফিন। নৌকা ডুবলেই মানুষগুলোকে গিলে ফেলবে হাঙ্গার! ভাগ্য বদলের আশ

Manual4 Ad Code