১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

কলা চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন ওসমান গনি

admin
প্রকাশিত জুলাই ২৮, ২০২৫
কলা চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন ওসমান গনি

Manual2 Ad Code

বোচাগঞ্জ দিনাজপুর প্রতিনিধি।

Manual7 Ad Code

সফলতা মানেই প্রবাসে যাওয়া নয় দেশেই সম্ভব—এই সত্যটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন এক সময়ের হতাশাগ্রস্ত তরুণ মোঃ ওসমান গনি(২৮)। জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে তিনি এখন দেশের মাটিতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে। গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের বৃদ্ধিগাঁও গ্রামে হলেও, তাঁর সাফল্যের ইতিহাস গড়া হয়েছে দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মালদাও গ্রামে। ২০০৯ সালে জীবিকার সন্ধানে রাজধানী ঢাকায় পাড়ি দেন ওসমান গনি। সেখানে চাকরির সন্ধানে ঘুরে বেড়িয়েছেন বহু জায়গায়, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি। হতাশ হয়ে ২০১৩ সালে ভারতে পাড়ি জমান। সেখানে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে দুই বছর কাটান তিনি। “বিদেশে শুধু শরীরটা চলে, মন পড়ে থাকে নিজের ভিটেমাটিতে”—বললেন ওসমান গনি। ২০১৮ সালে সব ছেড়ে ফিরে আসেন নিজ গ্রামে। তখন তাঁর মামার পরামর্শ ছিল—“তুই কৃষিকেই ধর, মাটি তোকে ফেরাবে।” সেই কথাই ছিল তাঁর জীবনের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। মাত্র ৩৩ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন কলা চাষ। সঙ্গে ছিল কিছু আম ও লিচু গাছ। সময়ের সঙ্গে জমির পরিমাণ বাড়তে বাড়তে এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ একর। তাঁর বাগানে বর্তমানে রয়েছে ৪ হাজারেরও বেশি কলা গাছ। ২০২৫ সালের মৌসুমে তিনি কেবল কলা বিক্রি থেকেই প্রায় ১৬ লাখ টাকা আয় আশা করছেন। খরচ বাদে লাভ থাকবে আনুমানিক ৩-৪ লাখ টাকা। আম ও লিচু থেকে অতিরিক্ত ২-৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হয় বছরে। “অনেক কষ্ট করেছি। একটা সময় মনে হতো, কিছুই নেই হাতে অনেক কষ্টে দিন পারকরছি। আজ আল্লাহর রহমতে মুখে হাসি নিয়ে ঘরে ফিরতে পারি”—বললেন সফল এই কৃষক। গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও হলেও ওসমান গনি এখন বোচাগঞ্জের স্থানীয়দের কাছে পরিচিত এক সফল উদ্যোক্তা হিসেবে। তাঁর বাগান দেখার জন্য আশপাশের অনেক চাষি আগ্রহ প্রকাশ করেন, অনেকে নিয়মিত পরামর্শও নেন। এই জায়গাটা এখন আমার আপন হয়ে গেছে। শুধু নিজের জন্য শুরু করেছিলাম, এখন দেখছি আশপাশের মানুষও উপকৃত হচ্ছে।বর্তমানে আমার বাগানে কাজ করছেন ১০-১২ জন যুবক, যাঁদের কেউ কেউ আগে বেকার ছিলেন।—বলেন তিনি। বোচাগঞ্জ উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব রহমান বলেন। ২০২৪ সাল থেকেই ওসমান ভাই নিয়মিত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গাছপালা পরিচর্যায় তাঁর আন্তরিকতা উদাহরণযোগ্য। কলায় সাধারণত সিগাটোকা ও পানামা রোগ হয়ে থাকে, কিন্তু তাঁর বাগানে তা দেখা যায় না। বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নয়ন কুমার সাহা বলেন। চলতি অর্থবছরে উপজেলার প্রায় ৯০ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে। মেহের সাগর, দেশি সাগর, চাম্পা, সোবরি প্রজাতির কলা চাষ হচ্ছে। তরুণদের মধ্যে যারা উদ্যমী, ওসমান গনি তাঁদের অন্যতম। তাঁর সফলতা অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করছে।” তরুণদের জন্য বার্তা দিয়ে ওসমান গনি বলেন “সবাই বিদেশে গিয়ে সফল হবে—এটা ঠিক নয়। অনেক ঝুঁকি কষ্ট। আমি নিজে গিয়েছি, বুঝেছি। বাংলাদেশেই এখন অনেক কিছু করা সম্ভব। অল্প পুঁজি আর অল্প জমিতে অনেক কিছু করা যায়।

Manual5 Ad Code