২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

টাঙ্গাইলে হলুদ ফুলকপি চাষে আরশেদের সফলতা

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৪, ২০২৩
টাঙ্গাইলে হলুদ ফুলকপি চাষে আরশেদের সফলতা

Manual7 Ad Code

টাঙ্গাইলে হলুদ ফুলকপি চাষে আরশেদের সফলতা
——————————————
স্টাফ রিপোর্টারঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় হলুদ ফুলকপি চাষে সফলতা পেয়েছেন আরশেদ আলী নামের এক কৃষক। পৌরসভার ছাব্বিশা এলাকায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষা মূলকভাবে শীতকালীন এই সবজিটি চাষ করে সফল হয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে অন্য কৃষকদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চীনে এ জাতের ফুলকপি সালাদ হিসেবে খাওয়া হয়। সাদা ফুলকপির চেয়ে রঙিন ফুলকপিতে পুষ্টিগুণ বেশি। দেখতেও খুব সুন্দর। অন্য ফুলকপির চাষের যে পদ্ধতি একই পদ্ধতিতে রঙিন ফুলকপি চাষ করা হয়। খরচ ও সময় একই। পাশাপাশি শুধু জৈব সার ব্যবহার করেই এই ফুলকপি চাষ করা যায়। স্থানীয় হাটবাজার রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা।

আরশেদ আলী বলেন, ‘নিজ বাড়ির ৩৩ শতক জমিতে প্রতি বছর নানা ধরনের সবজি চাষ করি। এবার সেই জমির অর্ধেকাংশে রঙিন ফুলকপি চাষ করেছি। শুধু জৈব সার প্রয়োগে রঙিন ফুলকপিতে দ্বিগুণ লাভবান হয়েছি।

Manual1 Ad Code

আমার এমন সফলতা দেখে অন্য কৃষকরাও এই সবজিটি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠতে শুরু করেছেন। এছাড়া ফুলকপির সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অনেকেই আসেন বাড়িতে। কেউ কেউ আবার আমার কাছ থেকে ফুলকপি কিনে নিয়ে যান।

Manual8 Ad Code

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকেই আগ্রহ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন, কেউ রঙিন ফুলকপির সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।
কৃষক আরশেদ আলী বলেন, ‘উপজেলা কৃষি অফিস থেকে নতুন জাতের রঙিন ফুলকপির ৪০০ চারা, জৈব সার, পোকাদমন কীটনাশকসহ সব ধরনের সহযোগীতা করা হয়েছে। তাদের পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে জমিতে রঙিন ফুলকপির চাষ করেছি। এতে ৪ রঙের ফুলকপি রয়েছে। চারা রোপণের ৭৫ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে জমিতে পূর্ণাঙ্গভাবে ফসল পেয়েছি। এই কপি বাজারে নেওয়া মাত্রই বিক্রি হয়ে যায়। দামও পাচ্ছি ভালো ।
রঙিন ফুলকপি দেখতে আসা কতুবপুর এলাকার ভুট্টাচাষি মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘রঙিন ফুলকপির নাম অনেক শুনেছি। কিন্তু কখনো দেখা হয়নি। আরশেদ আলীর জমির ফুলকপির চাষ দেখতে এসেছি। সবজিটি চাষ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেছি। আগামীতে আমারও ইচ্ছ আছে রঙিন ফুলকপি চাষ করার।
রঙিন ফুলকপি ক্রেতা রফিকুল ইসলাম রবি ও আব্দুর রহিম মিঞা বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসার ড. হুমায়ূন কবীরের ফেসবুক পোস্টে রঙিন ফুলকপির ছবি দেখি। পরে খোঁজ নিয়ে ফুলকপি কিনতে আসি। ৫০ টাকা দরে ফুলকপি কিনেছি আমরা।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ড. হুমায়ূন কবীর জানান, ‘এই প্রথম রঙিন ফুলকপি পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয় উপজেলায়। প্রথম দিকে কেউ আগ্রহী ছিলেন না। পরে আরশেদ আলী নামে এক কৃষক আগ্রহ প্রকাশ করলে তাকে কৃষি অফিস থেকে ৪০০ ফুলকপির চারা, জৈব সার, পোকারোধক কীটনাশক ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগীতা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ৪ রঙের ফুলকপি চাষ করা হয়েছে।’

Manual7 Ad Code

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আহসানুল বাসার বলেন, ‘ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণের লক্ষ্যে জেলার ১২ উপজেলাতে পরীক্ষামূলক রঙিন ফুলকপি চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তারমধ্যে সবার আগে ভূঞাপুর উপজেলায় সফলতা পাওয়া গেছে।

Manual7 Ad Code

এ জাতের ফুলকপিতে পুষ্টিগুণ বেশি। ক্যানসার রোধেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে এ ফুলকপি। চলতি মৌসুমে পরীক্ষামূলক চাষে সফলতা পাওয়ায় অনেক কৃষক আগামী বছরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এই সবজিটি।