২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ঝিনাইদহে ১১ মাস পর বিজিবি সদস্য হত্যায় ৩ কিশোরকে আটক করলো ডিবি

admin
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০
ঝিনাইদহে ১১ মাস পর বিজিবি সদস্য হত্যায় ৩ কিশোরকে আটক করলো ডিবি

Manual6 Ad Code

সুলতান আল একরাম ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস পর ঝিনাইদহ শহরের হামদহ দাসপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নুরুজ্জামান (৬০) হত্যার মোটিভ ও ক্লু উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় ৩ কিশোর ঝিনাইদহ শহরের হামদহ দাসপাড়ার শাহাবুদ্দীনের ছেলে আরাফাত (১৭), শহরের পাওয়ার হাউস পাড়ার মিন্টুর ছেলে নিশান (১৭) ও সদর উপজেলার রতনহাট গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে মিরাজ (১৬) কে আটক করেছে। ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টম্বর নুরুজ্জামানকে হত্যা করা হয়। সেই থেকে এই হত্যার মোটিভ ও ক্লু অজানা ছিল। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশ এই সফলতা অর্জন করে। মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নুরুজ্জামান হত্যার মোটিভ ও ক্লু সম্পর্কে গনমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয় বিজিবি সদস্য নুরুজ্জামানের স্ত্রী রাশিদা বেগম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগে ওই তিন কিশোর বাসায় যাতায়াত করতো। নুরুজ্জামানের সাথে তাদের সখ্যতাও ভাল ছিল। ঘটনার দিন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে রাখার কথা জানতে পারে ওই তিন কিশোর। রাতে বাসায় ঢুকে তারা অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নুরুজ্জামানকে হত্যার পর মোবাইল ফোন, টিভি, কাপড়, লাগেজ ও মটরসাইকেলের চাবি নিয়ে যায়। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি বাজারের মৃত আব্দুল করিম বিশ্বাসের ছেলে নুরুজ্জামান বাসা বাড়ি করে ঝিনাইদহ শহরের হামদহ এলাকায় স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকতেন। নরুজ্জামানের বড় ছেলে শাহিন ইমরান বিডিআর বিদ্রোহ মামলার আসামী হিসেবে এখন জেলখানায়। মেজ ছেলে শামিম ইমরান ঝিনাইদহ আদর্শপাড়া ৩ নং ট্যাংকি পাড়ায় ব্যাবসা করেন। আর ছোট ছেলে শাওন ইমরান সেনাবাহিনীতে চাকরী করছেন। মামলার বাদী নিহত নুরুজ্জামানের স্ত্রী রাশিদা বেগম দীর্ঘ ১১ মাস পর হত্যার রহস্য উন্মোচিত হওয়ায় সন্তষ্টি প্রকাশ করেছেন। ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশের পরিদর্শক নজরুল ইসলাম জানান, চুরি হওয়া নুরুজ্জামানের মোবাইলটি দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ ছিল। সেটি খোলার পরই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও ট্রাকিং করে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়। তিনি বলেন টাকার জন্যই আরাফাত, নিশান ও মিরাজ বিজিবি সদস্য নুরুজ্জামানকে হত্যা করে। এ ছাড়া কিভাবে তারা এই হত্যা মিশনে অংশ গ্রহন করে তার দায় স্বীকার করে বিস্তারিত আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।