আবদুল্লাহ আল মামুন,মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধিঃ
এক আল্লাহর ওলি।আশেকে রাসুল। হৃদয়ের সমস্ত অংশ রাসুলের প্রেম ভালবাসায় পরিপূর্ণ।প্রতি বছর হজ্বে যাওয়া এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ওয়াসাল্লামের রওজা শরীফের পাশে দাঁড়িয়ে সালাম ও আবেগ জড়িত কন্ঠে স্বরচিত কবিতা পাঠ করা তার নিয়মিত অভ্যাস।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেমে আত্নহারা এই আশেকে রাসুল এর নাম ইবনে যাগার ইয়ামানী (র,)। অন্যান্য বারের ন্যায় এবারো তিনি হজ্বের যাবতীয় কর্ম সম্পাদন করে যিয়ারতের উদ্দেশ্যে রওযায়ে আতহারে উপস্থিত হলেন।
অতঃপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার প্রিয় সাথীদ্বয় হযরত আবু বকর ও উমর(রা,) এর শানে শুরু করলেন স্বরচিত কবিতাবৃত্তি।
গভীর ভালোবাসা আর মমতাপূর্ণ কবিতা পাঠ শেষে আবেগে আপ্লুত হয়ে এই নবী প্রেমিক যখন ফিরে আসতে উদ্যোগী হলেন তখন জৈনক রাফেজী সামনে এসে দাঁড়ালো এবং তার বাড়ীতে দাওয়াত গ্রহনের জন্য সবিনয় অনুরোধ জানালো। ইবনে যাগার (র,) ভদ্রতার খাতিরে এবং সুন্নাতে রাসুলের প্রতি লক্ষ্য রেখে তার দাওয়াত কবুল করেন।
কিন্তু তিনি জানতেন না যে এই দাওয়াতকারী লোক টি হযরত আবু বকর ও উমর (রা,)এর প্রতি কিরুপ বিদ্বেষ পোষণ করে এবং তাদের শানে কবিতা আবৃত্তি করার কারণে সে তার জন্য কত ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করে রেখেছে।
ইবনে যাগার (রাহ,)দাওয়াতী মেহমান। তিনি ধীরে ধীরে ঘরে প্রবেশ করলেন । অতঃপর বিছানায় বসে খানার এন্তেজার করছেন। কিন্তু বেশ কিছু সময় অতিবাহিত হলেও খানা আসার নাম গন্ধ নেই।এমন সময় হঠাৎ তিনি দেখলেন যে,দু,জন হাবশী ঘরে প্রবেশ করলো এবং দাওয়াত দানকারী লোকটির ইংগিত পাওয়া মাত্র ঝাপটে ধরে তার জিব্হা ধারালো ছুরি দিয়ে দ্বিখন্ডিত করে ফেললো।
সাথে সাথে পাপিষ্ট রাফেজী তাকে লক্ষ্য করে বললো,যাও, এই কর্তিত জিব্হা নিয়ে আবু বকর ও উমরের কাছে যাও,যাদের প্রশংসায় তুমি পঞ্চমুখ। ক্ষমতা থাকলে তারা তা জোড়া লাগিয়ে দিক।
হযরত ইবনে যাগার রাহ, দেরি না করে কর্তিত জিব্হা নিয়ে রওজা শরীফে ছুটে গেলেন এবং প্রিয় নবীজির চেহারা বরাবর দাঁড়িয়ে কান্না বিগলিত কন্ঠে পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করলেন। অতঃপর রাতের বেলায় ঘুমানোর পর স্বপ্নযোগে তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যিয়ারত লাভ করেন।তার সাথে রয়েছেন এই মর্মান্তিক ঘটনায় ভীষণ ভাবে মর্মাহত হযরত আবু বকর ও উমর (রা,)। তিনি দেখলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ওয়াসাল্লাম তার হাত থেকে কর্তিত জিব্হা নিয়ে স্বীয় হস্তে ধারণ করে যথাস্থানে লাগিয়ে দিলেন।
এমতাবস্থায় ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পর তিনি লক্ষ্য করলেন যে, তার জিহ্বা পূর্বের ন্যায় সম্পুর্ন ঠিক হয়ে গেছে। দরবারে নবুওয়াতের এই আশ্চর্য মোযেযা সংগঠিত হওয়ার পর তিনি স্বদেশ ফিরে আসেন।
পরবর্তী বছরেও ইবনে যাগার (রাহ,) যথানিয়মে হজ্ব আদায় করে মদিনা শরিফে পবিত্র রওজায় হাজির হলেন।যখন তিনি সেই আবেগমিশ্রিত কবিতা আবৃত্তি সমাপ্ত করে পিছনের দিকে মুখ ফেরালেন তখন তিনি দেখলেন যে,এবারো এক যুবক তার সামনে এসে উপস্থিত হলো এবং তার বাড়ীতে দাওয়াত গ্রহনের জন্য বিনীত আরজ করলো।
ইবনে যাগার (রাহ,) আল্লাহর উপর ভরসা করে যুবকের দাওয়াত গ্রহন করলেন এবং সাথে সাথে তার বাড়ীতে যাওয়ার জন্য রওনা দিলেন। বাড়িতে প্রবেশ করা মাত্র তার বুঝতে মৌটেও অসুবিধা হলোনা যে,এটি সেই বাড়ী যেখানে গত বছর অত্যন্ত নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে তার জিহ্বা কর্তন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি মোটেও বিচলিত হলেন না।
আল্লাহর উপর ভরসা করে ঘরে প্রবেশ করলেন। যুবক এবার অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও আদরের সাথে তাকে বসানোর ব্যাবস্থা করলেন এবং বিভিন্ন প্রকার খাবার দ্বারা অত্যন্ত তৃপ্তি সহকারে আপ্যায়ন করলো।
খাওয়া দাওয়া পর যুবকটি ইবনে যাগার (রাহ,)কে একটি কামরায় নিয়ে গেল। তিনি সেখানে একটি বানর দেখতে পেলেন।যুবক তাকে লক্ষ্য করে বললো, হুজুর! আপনি কি এই বানর টিকে চিনতে পেরেছেন? তিনি না সূচক জবাব দিলে যুবক অশ্রুপূর্ণ নয়নে তার দিকে তাকিয়ে বললেন, হযরত!এই বানর সেই ব্যাক্তি যিনি গতবছর হযরত আবু বকর ও উমর (রা,)এর শানে প্রশংসামুলক কবিতা আবৃত্তি করার কারণে আপনার পবিত্র জিব্হা কেটে দিয়েছিল।
আশেকে রাসুলের সাথে দুঃখজনক এই আচারণের জন্য আল্লাহ তায়ালা তাকে নিকৃষ্ট বানরে পরিণত করে দিয়েছেন। হুজুর! আমি এইজন্য আত্যন্ত লজ্জিত ও মর্মাহত যে, তিনি আমার জন্মদাতা পিতা এবং আমি তার সন্তান।
আলোচ্য ঘটনায় কয়েকটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়।(এক) এ ঘটনা দ্বারা বুঝা গেল যে,প্রিয় নবী রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ওয়াসাল্লাম জীবিত অবস্থায় রওজায়ে আকদাসে অবস্থান করছেন।
(দুই) তার মুযিযা প্রকাশের ধারাবাহিকতা কিয়ামত পর্যন্ত আব্যহত থাকবে।(তিন)যারা আল্লাহর ওলিদের সাথে বেয়াদবি করে এবং বিভিন্ন ভাবে তাদের কে কষ্ট দেয় তাদেরকে দুনিয়াতেই করুন পরিনতি ভোগ করতে হয়। লাঞ্চনা বাঞ্চনা আর অপমানের জেন্দেগী নসিব হয়।
এক হাদীসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন,যারা আল্লাহর ওলিদের সাথে বেয়াদবি করে তারা যেন আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়।
এমন ঘটনা পড়তে ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন লেখক হাফেজ মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিক ও লেখক যশোর। (মোবাইলঃ ০১৬০৯-১৪৫৪৬২)