২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

শেরপুরের বন অধিদপ্তরে লাগেনি আধুনিকতার ছোঁয়া,খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে দাপ্তরিক কর্মকান্ড

admin
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৮, ২০২০
শেরপুরের বন অধিদপ্তরে লাগেনি আধুনিকতার ছোঁয়া,খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে দাপ্তরিক  কর্মকান্ড

Manual4 Ad Code

মোঃ তারিফুল আলম (তমাল),শেরপুর প্রতিনিধিঃ-

Manual2 Ad Code

শেরপুরের বন অধিদপ্তরে ৫০ বছরেও লাগেনি আধুনিকতার ছোঁয়া। ফলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে দাপ্তরিক কর্মকান্ড। লোকবলের অভাবে একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে।

 

বনপ্রহরীর সংখ্যাও তুলনা মুলকভাবে কম হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে বন ও বনভূমি রক্ষা। মান্ধাত্বা আমলের ভবনগুলোরও জরাজীর্ণ অবস্থা।

 

ফলে দাপ্তরিক কর্মকান্ড ও বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।নিয়ম অনুযায়ী বন কর্মকর্তাদের দপ্তরেই অবস্থান করার কথা।

 

কিন্তু বসবাসযোগ্য বাসভবন না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই তা সম্ভব হচ্ছে না। শেরপুরের সীমান্তে ৩টি উপজেলায় ৩টি ফরেস্ট রেঞ্জ অফিস রয়েছে।

 

এসব অফিসগুলো হচ্ছে নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা, ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া ও শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুরী রেঞ্জ। এ ৩টি রেঞ্জের আওতায় ১০টি বিট অফিস রয়েছে।

 

বিট অফিসগুলো হচ্ছে মধুটিলা রেঞ্জের সমশ্চুড়া, বাতকুচি ও সন্ধ্যাকুড়া। রাংটিয়া রেঞ্জের রাংটিয়া, গজনী ও তাওয়াকোচা। বালিজুরী রেঞ্জের বালিজুরী সদর, মালাকুচা, কর্নঝুড়া ও ডুমুরতলা বিট।

 

এ ৩টি রেঞ্জের আওতায় প্রায় ৩০ হাজার একর বনভূমি রয়েছে। এসব বনভূমি ও বন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে মাত্র ২৯জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। যা প্রয়োজনের তুলনায় কম।

 

 

জানাগেছে, এ ৩টি রেঞ্জেই নেই রেঞ্জ কর্মকর্তা। ফলে ভারপ্রাপ্ত এবং একই কর্মকর্তাকে দিয়ে চালানো হচ্ছে একাধিক বিট ও রেঞ্জ অফিস।

 

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রেঞ্জ গুলোতে ২/৪টি মোটরসাইকেল থাকলেও তা প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী।মধুটিলা রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল করিম, বালিজুরী রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, রাংটিয়া রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইলিছুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, বিশাল এলাকাজুড়ে বন ও বনভূমি।

 

Manual4 Ad Code

কিন্তু কর্মকর্তাদের জন্য নেই কোন গাড়ী বা পিকআপভ্যান। ফলে চোরাইকাঠ, পাথর, বালু আটক করার সময় বিপাকে পড়তে হয় কর্মকর্তাদের। অফিস থেকে দূরে গভীর বনাঞ্চলে চুরির ঘটনা ঘটলে গাড়ীর অভাবে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছানো সম্ভব হয় না।

 

 

লোকবলের অভাবে জবরদখলকৃত জমি উদ্ধারসহ নানা কাজে হিমশিম খেতে হয়। ঘটনা প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে শিকার হতে হয় নানা বিড়ম্বনার।

 

 

Manual1 Ad Code

জরাজীর্ণ ভবন থাকলেও বিট অফিসগুলোতে নেই বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা। কূপের পানি পান করতে হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবণের অভাবে কেউ কেউ বাসা ভাড়া নিয়ে বন এরিয়ার বাইরে বসবাস করে থাকেন। এতে ব্যাহত হয় দাপ্তরিক কর্মকান্ড।

 

জেলা সদরের সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয়েরও একই দশা।তবে সহকারী বন সংরক্ষকের একটি গাড়ী থাকলেও চলার পথে মাঝেমধ্যেই তা অকেজো হয়ে পড়ে।

 

বর্তমান সরকারের ডিজিটাল যুগে সকল দপ্তরের উন্নয়ন হলেও গত ৫০ বছরেও শেরপুরের বন অধিদপ্তরে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। ফলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বনবিভাগের সকল কর্মকান্ড শেরপুরের সহকারী বন সংরক্ষক ড. প্রাণতোষ রায় শেরপুর বন অধিদপ্তরের কার্যালয়গুলো জরাজীর্ণ অবস্থা ও লোকবল সংকটের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সমস্যাগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লেখালেখির পাশাপাশি বিশদ আলোচনাও চলছে।

তবে এখনও তা বাস্তবায়ন ও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

Manual1 Ad Code