মহিবুল ইসলাম (রাজু),বিশেষ প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়া জেলা জাসদের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও সাবেক ছাত্র নেতা,কারশেদ আলম, তার কাছে জাসদ সম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলেন রাজাকারমুক্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গঠন করতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাসদ এক অপরিহার্য শক্তি। জাতীয় সংকটের সময় জাসদ কখনোই দলের স্বার্থ দেখেনি, দেশের কথা ভেবে জাতীয় ঐক্যের ভূমিকা গ্রহণ করেছে। ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করেছে। জাসদ যখন দেখে বিভ্রান্তি, জনগণ হয় দিশেহারা তখন তারা জাতির প্রয়োজনে সঠিক কৌশল পথ অবল্মবন করে,তিনি আরও বলেন, জাসদের দরকার নেই বলে যারা, আজকে জাসদের সমালোচনা করেছে, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে হয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্ন, অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রশ্ন, গণতন্ত্রের প্রশ্ন, শোষণ-বৈষম্য নিরসনের প্রশ্ন, সাহসের প্রশ্ন যত দিন থাকবে তত দিন জাসদেরও চাহিদা থাকবে। যত দিন বাংলার মাটিতে অত্যাচারী, শোষক থাকবে; তত দিন জাসদের চাহিদা থাকবে। যত দিন বাংলাদেশের মাটি থেকে সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলা সম্ভব হবে না, তত দিন জাসদের চাহিদা থাকবে। জাসদের হাজার হাজার কর্মী কোনো দিন বিভ্রান্ত হয়নি। জাতির প্রয়োজনে দেশের প্রয়োজনে বৃহত্তর ঐক্যের ঝান্ডা নিয়ে সংগ্রামের কাফেলার নেতৃত্ব দিয়েছে। যারা জাসদের বেশি সমালোচনা করে, তারা জাসদকে পাশে রাখার জন্য দেনদরবার করে। জাসদ দূরে থাকলে সমালোচনা করে, জাসদ পাশে এলে মুখ বন্ধ করে। সুতরাং জাসদের দরকার নেই যারা বলে তারা আহম্মকের স্বর্গে বাস করে। জাসদ জন্মের পর থেকেই রাজপথে থেকেছে। লড়াই সংগ্রাম করেছে।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে আর কোনো দিন রাজাকার সরকার না দেখতে চাইলে জাসদের প্রয়োজন। রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে জাসদের দরকার। একবার রাজাকার সরকার, আরেকবার মুক্তিযুদ্ধের সরকার এই রাজনীতির খেলাটা বন্ধ করা দরকার। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাঁচ বছর অন্তর অন্তর হই-হুল্লোড় করার দরকার নেই। এর মীমাংসা হওয়া দরকার। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচনের গ্যারান্টি দেওয়া দরকার।
জাসদ নেতারা আরও বলেন, সমাজতন্ত্রের সরকার থাকুক, না থাকুক, শতবর্ষ আগের সেই সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কারণেই শ্রমিকেরা পেয়েছে ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার, নারীরা পেয়েছে ভোটের অধিকার, কৃষক পেয়েছে তার ফসলের অধিকার। ৩০ লাখ শহীদের রক্তে লেখা বাংলাদেশের সংবিধানে যে সমাজতন্ত্রের কথা রয়েছে, তা সংবিধানের পাতা থেকে জীবনের পাতায় আনতে হবে। কারণ কৃষক-শ্রমিক-মজুর-গরিব-নারী-শিশুর অধিকার ও মর্যাদা বাস্তবায়ন ছাড়া গণতন্ত্র একটি ‘পোড়া রুটি’। পোড়া রুটি খাওয়া যায় না। ভালো রুটি চাই। সমকাজে সমমজুরি চাই। সমাজতন্ত্রই বৈষম্য-দারিদ্র্য-ক্ষুধামুক্ত সমাজ তৈরির পথের দিশারি আর অসম বিশ্বায়নে সমতা আনার চাবিকাঠি। কারণ কৃষক-শ্রমিক-মজুরই এ দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ। যতক্ষণ না বৈষম্য-দারিদ্র্য-ক্ষুধামুক্ত সমাজ তৈরি হবে, ততক্ষণ সমাজতন্ত্রের ঝান্ডা হাতে জাসদের লড়াই চলবে। জঙ্গি দমনের যুদ্ধেও জাসদ সামনের সারিতে থাকবে।