৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

খুলনা বিভাগে বেড়েই চলছে হামের প্রাদুর্ভাব, ২ শিশুর মৃত্যু।

Editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৪, ২০২৬
খুলনা বিভাগে বেড়েই চলছে হামের প্রাদুর্ভাব, ২ শিশুর মৃত্যু।

Manual3 Ad Code

খুলনা বিভাগে বেড়েই চলছে হামের প্রাদুর্ভাব, ২ শিশুর মৃত্যু।

শেখ স্বপ্না শিমুঃ খুলনা বিভাগে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। এর মধ্যেই প্রথমবারের মতো বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

Manual1 Ad Code

একই দিনে বিভাগের ১০ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে আরও ৫৬ শিশু। সব মিলিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২৯৯ শিশু, যা নিয়ে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

Manual6 Ad Code

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে কুষ্টিয়া জেলা। সেখানে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতাল মিলিয়ে শনিবার নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১২ শিশু। আগে থেকে ভর্তি থাকা ৯১ জনসহ বর্তমানে জেলায় মোট ১০৩ শিশু চিকিৎসাধীন।

কুষ্টিয়ার পরেই ঝুঁকিতে রয়েছে যশোর জেলা। সেখানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে ৫৯ শিশু, যার মধ্যে নতুন ভর্তি হয়েছে ৫ জন। খুলনাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, এখানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৫৮ শিশু।

Manual2 Ad Code

এদিকে নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সাতক্ষীরায়। মাত্র দুইদিন আগেও রোগীশূন্য থাকা এই জেলায় এখন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৬ শিশু, যার মধ্যে ১৩ জনই শনিবার ভর্তি হয়েছে। এছাড়া ঝিনাইদহে ১৮, মাগুরায় ১৭, নড়াইলে ১২, বাগেরহাট ও চুয়াডাঙ্গায় ৬ জন করে এবং মেহেরপুরে ৪ জন শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামের উপসর্গ হিসেবে শিশুদের প্রথমে জ্বর, সর্দি-কাশি দেখা দেয়, পরে শরীরে র্যাশ ওঠে। জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও চোখে সংক্রমণও দেখা দিচ্ছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই এক বছরের কম বয়সি শিশু।

Manual5 Ad Code

হামের এই প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য প্রশাসন।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।