৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

রাজশাহীতে চাঁদাবাজ,প্রতারক ও কথিত সাংবাদিক চক্রের মানববন্ধন

admin
প্রকাশিত জুলাই ২৩, ২০১৯
রাজশাহীতে চাঁদাবাজ,প্রতারক ও কথিত সাংবাদিক চক্রের মানববন্ধন

Manual8 Ad Code

 

নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজশাহীতে চাঁদাবাজ, প্রতারক ও কথিত সাংবাদিক জুয়েল-পুলক-রাজ্জাক ও রেজাউল সিন্ডিকেটের এক নাটকীয় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার সকাল ১১টার সময় মহানগরীর রেলগেট গৌরহাঙ্গা মোড়ে ১০মিনিট ব্যাপি এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন অনুষ্ঠানে একাধিক সংগঠনের নাম প্রকাশ করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার বরাবর আবেদন করলেও মাদববন্ধনের বিষয়ে তেমন কোন সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানেন না। এমনকি যাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধ করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোন অভিযোগ করেননি। এবং মানববন্ধনে যে সকল মহিলাদের নিয়ে আশা হয়েছিলো তাদের রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের কথা বলে মিথ্যাচার করে মানববন্ধনে দাড় করিয়েছিলো এই সিন্ডিকেটটি।

জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে বাগমারা থানা এলাকায় একটি বেকারীতে ভূয়া ম্যাজিষ্ট্রেট পরিচয়ে চাঁদাবাজি করার সময় জনতার হাতে আটক হয় জুয়েল-পুলক-রাজ্জাক ও রেজাউল সিন্ডিকেটের কথিত ৩সাংবাদিক। এর পর থেকেয় এই চক্রটি ভূয়া ম্যাজিষ্ট্রেট পরিচয়ে আটককৃতদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনও করে। যেখানে ভূয়া ম্যাজিষ্ট্রেট পরিচয়ে ঘটনাস্থলেই এক জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এর উপস্থিতিতে তিন কথিত সাংবাদিকসহ ৪জনকে আটক করা হয় । জব্দ করা হয় তাদের ব্যাবহৃত মাইক্রবাস ও ভিডিও ক্যামেরাটিও। সেই সংবাদটি একাধিক দৈনিক পত্রিকা ও প্রায় ৫০টির ও বেশি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তাদের কারামুক্ত করতে রাস্তায় নেমে প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করছে এই জুয়েল-পুলক-রাজ্জাক-রেজাউল চক্রটি। সাথে যুক্ত হয়েছে নগরীর বিখ্যাত জুয়াড়ী ও মাদক সেবিরা এবং না জানা কিছু ভাড়াটিয়া মহিলারা।

বিভিন্ন সুত্র মতে জানা যায়, সম্প্রতি এম এ হাবিব জুয়েল ও কসাই মোমিন টাংগন এলাকায় মাদক মামলা থেকে নাম কাটানোর নাম করে দু’জন যুবকের নিকট থেকে নগদ ৮৪ হাজার টাকা হাতিয়েছেন। পরে তারা ওই এলাকায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এক পর্যায়ে ভূক্তভোগীরা কাটাখালী থানায় মামলা করে মামলা নং–১৪। এ বিষয়ে একাধিক অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর আগে গত (২২ জানুয়ারী ২০১৯) সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টায় নগরীর সিপাইপাড়া ফায়ার সার্ভিস মোড়ে ভূয়া সাংবাদিক ও চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে এমএ হাবিব জুয়েলের বিচারের দাবীতে মানববন্ধন করেন, রাসিক ৯নং ওয়ার্ড এলাকার শতাধিক এলাকাবাসী। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের নিকট অনুরোধ জানান তারা। এই হচ্ছে, এমএ হাবিব জুয়েল।

Manual1 Ad Code

কথিত সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক নিউজের ভয় দেখিয়ে পবা সাব রেজিস্ট্রার মিলি বেগমের নিকট ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। সে বিষয়ে দৈনিক সোনালী সংবাদ ও দৈনিক সানশাইন পত্রিকাসহ একাধিক অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি রাজশাহী নগরীর উপকন্ঠ বায়া ভুগরোইল এলাকায় নিউ রিলেশন কন্সট্রাকশনের স্বত্বাধিকারি ঠিকাদার এএফ আজাদুল ইসলাম নতুনের নিকট নিউজের ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করে। এবং ঠিকাদারের ধাক্কা খেয়ে পালিয়ে যায়।

দৈনিক উপচারের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নুরে ইসলাম মিলন বলেন, ইতি পূর্বে জুয়ার বোর্ডের সংবাদ প্রকাশ করায় সপুরা এলাকার জুয়াড়ীরা আমার ভাতিজা সাংবাদিক অন্তরকে গুলি করে। এবং পিস্তলসহ সবুজ ও আরিফ নামের দুইজন সন্ত্রাসীকে পুলিশ হাতে নাতে গ্রেফতার করে। এ বিষয়ে আমি বোয়ালিয়া থানায় মামলা করি। আর এ কারনে জুয়ার আসর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়ে যায়। এরই জেরে কথিত সাংবাদিক চক্রের প্ররোচনায় সন্ত্রাসী সবুজের আপন বড় দুই ভাই তারেক,আরিফের অর্থায়নে ও জুয়াড়ীদের সহযোগীতায় আজ রোববার (২১ জুলাই) রেলগেটে জুয়েল-পুলক-রাজ্জাক ও রেজাউল সিন্ডিকেটের সহযোগীতায় মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধন থেকে মানহানিকর বক্তব্য দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, তারা রাজশাহীর একটি স্থানীয় পত্রিকারও সাংবাদিক না। তারা কোন প্রেস ক্লাবের সদস্যও না। উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন নামের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে লিখে জুয়েল। কিন্তু সেখানে কোন আপডেট নিউজ থাকে না। এমনকি সোনাদিঘির মোড়ে মিডিয়া ভবনে তাদের অফিস উল্লেখ থাকলেও সেখানে নেয় তাদের পত্রিকার কোন অফিস। বিশেষ করে তার অনলাইনে পুলিশ, ডিবি সহ সরকারী কর্মকর্তাদের ব্ল্যাকমেইল করার জন্যই জুয়েল এ পোর্টালটি ব্যবহার করে থাকে।

Manual1 Ad Code

রেজাউল ভোরের আভা ডটকম ও ভোরের আভা টিভি ডট কম নামের একটি ফেস বুক ও অনলাইন পেজে লিখে। তার নামে ৭টির ও বেশি চাঁদাবাজি মামলা রয়েছে। এর আগে রেজাউল কলোনীতে চুমকি হিজড়াকে দিয়ে ইয়াবার ব্যবসা চলানোর অপরাধে এলাকাবাসী তাকে গনধোলাই দেয়। পরে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। শুধু এ ঘটনায় নয় । গত কয়েক বছর আগে বালিয়া পুকুরে এক তুলার ব্যাবসায়ীকে মেয়ে দিয়ে ফাঁসিয়ে ব্লাকমেইল করে অর্থ আদায়ের জন্য রাসিকের ২১নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিজামুল আজিম সে সময়ের বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি জিযার মাধ্যমে আটক করে প্রতারনা ও ব্লাকমেইলের মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করেন। আর এই রেজাউল এখন যে ডায়াং মটরসাইকেলটি ব্যাবহার করছেন সে মটরসাইকেলের রেজিষ্ট্রেষন নম্বরটিও ভূয়া । যাহার রেজিষ্ট্রেষন নম্বর রাজ মেট্রো-হ ১১-২২৩১।

পুলক একজন সাবেক রংমিস্ত্রি পুরো পরিবারসহ তারা জামায়াত সংগঠনের সাথে জড়িত। সে নিজে বিএনপির নামধারী ক্যাডার। স্কুলের গন্ডিপেরুয়নি পুলক। সম্প্রতি সে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাতৃজগত নামের একটি পত্রিকার কার্ড সংগ্রহ করেছে। পদবি রাজশাহী ব্যুরো। পুলক, রাজ্জাক, আনোয়ার, মোমিন, কারোই সংবাদ লিখার যোগ্যতা নাই এরা গন্ডা মূর্খ। কথায় আছে, “এক বুড়ি আরেক বুড়িকে বলে মাহই” এরাই আবার কাজিম বাবুকে ৫ম শ্রেনী পাশ মূর্খ বলে। সত্য হলো কাজিম বাবু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছেন।

Manual2 Ad Code

এ বিষয়ে কাজিম বাবু বলেন, এদের সকলের মিথ্যাচারের বিচার হবে আদালতে । আগামী ৭দিনের মধ্যে অপপ্রচারকারিদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করবেন।

তিনি আরো বলেন, সংবাদ আর প্রতিবাদের কারনে এমএ হাবিব জুয়েল, মাসুদ আলী পুলক, আব্দুর রাজ্জাক, রেজাউল করিম, মোঃ আনোয়ার হোসেন, মোমিনদের মুখোশ খুলে গেছে। আর এ কারনেই এ চক্রটি চাঁদাবাজি আর প্রতারনা করতে ভয় পাচ্ছে ।

কারন তারা জানে এরুপ কিছু ঘটালেই পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হবে। আর এ কারনেই তারা নতুন কৌশল হিসেবে রাস্তায় নেমে পেশাদার সাংবাদিক মাসুদ রানা রাব্বানী, ইফতেখার আলম বিশাল ও রাজশাহী প্রেস ক্লাবের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক নুরে ইসলাম মিলনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে।

Manual3 Ad Code

বিশাল বলেন, তাদের মতো আমাদের অপরাধ দেখাক সাংবাদিকতা পেশা ছেড়ে দেবো। আমাকে মূর্খ ও বাসের হেলফার বলছে তারা। আর আমার মৃত পিতাকে বলছে বাসের ড্রাইভার। আমার পিতার গাফ্ফার এন্টার প্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছিল। তিনি একজন ফুডের (খাদ্য) নিয়মিত ঠিকাদার ছিলেন। আর আমার পরিবহনের ব্যবসা ছিল এবং কিষাণ পরিবহনের ম্যানেজারের চাকুরী করতাম আমি। পাশাপাশি বরেন্দ্র কলেছে লেখাপড়া করতেন তিনি। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষন করে অপপ্রচারকারীদের শাস্তির দাবি করেন সাংবাদিক বিশাল।