জাহিদুল ইসলাম, কমলাপুর থেকে : কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ( বর্তমানে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন) বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি রেলওয়ে স্টেশন । প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী গুরুত্বপূর্ণ এই রেলওয়ে স্টেশনটি ব্যবহার করে তাই যাত্রীর নিরাপত্তায় রয়েছে রেলওয়ে পুলিশ এতো নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও রেলওয়ে থানার পুলিশদের সামনেই ৩০ থেকে ৩৫ জন যৌনকর্মী অবাধে বিচরণ করছে।
গত ৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে এমন চিত্র লক্ষ্য করা যায় ।
জনবহুল এলাকা হওয়া সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগা দিয়ে চলছে পতিতাদের পুঁজি বিহীন রমরমা দেহ ব্যবসা।
দীর্ঘ দুই ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়
৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল পতিতার দল রেলওয়ে থানার সামনে থেকে শুরু করে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণ পশ্চিম দিকে সি এন জি ও রিক্সা স্টান্ড এর সামনে দাঁড়িয়ে আছে এবং তাদের কাছে আসা গ্রাহকদের সাথে কথা বলছে অনেকে আবার চুক্তি সম্পন্ন হয়ে গেলে তাদের সাথে রিক্সায় কিংবা প্রাইভেট কারে উঠে যাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতির শিকার অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ যাত্রীদের সাথেও হয় ,তখন তাদের নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
ইউ এন এইডস এর এক প্রতিবেদনে জানা যায় ২০১৬ সালে বাংলাদেশে নিবন্ধিত পতিতার সংখ্যা ছিলো ১ লক্ষ ৪০ হাজার এবং সব মিলিয়ে নিবন্ধন ছাড়া মোট পতিতার সংখ্যা ছিলো প্রায় ৫ লক্ষ ।
তিন বছর পর ২০১৯ সালে এই সংখ্যা কত হবে তা সহজেই অনুমেয়। বাংলাদেশে পতিতাবৃত্তি আইনগত বৈধ ঘোষণা করলেও বাংলাদেশের সংবিধান বলছে যে, “রাষ্ট্র জুয়া ও পতিতাবৃত্তি প্রতিরোধ করবে।”
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিশু পতিতাবৃত্তি, জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি, অবৈধ পতিতালয় ইত্যাদির বিরুদ্ধে আইন বলবৎ আছে।
বিভিন্ন আইন কখনও কখনও পতিতাবৃত্তির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। ২০০০ সালে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত রায় দেয় যে, দেশে ১০০ জন পতিতা গ্রেফতার অভিযান ছিল বেআইনী, এবং পতিতাবৃত্তি একটি বৈধ পেশা।
তবে প্রায়ই পুলিশ বাহিনী বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে হোটেলে বেআইনী পতিতাবৃত্তির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে এবং পতিতা ও তাদের গ্রাহকদের উভয়কে গ্রেপ্তার করে আদালতে চালান দেয়।
এ বিষয়ে ঢাকা রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রকিবুল হোসেন পাওয়ার নিউজ কে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, আমরা প্রতিনিয়তই রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে পতিতাদের উচ্ছেদ করে দেই কিন্তু দেখা যায় তারা আবার এখানে আসে আর আমাদের মহিলা পুলিশের সংখ্যা খুবই কম তাই এই সমস্যা কোনভাবেই সমাধান করা যাচ্ছে না।