৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

গলাচিপা এল,জি,ইডি হিসাব সহকারীর বিরুদ্ধে ১০লক্ষ টাকা আত্নসাৎ করার অভিযোগ

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ৫, ২০১৯
গলাচিপা এল,জি,ইডি হিসাব সহকারীর বিরুদ্ধে ১০লক্ষ টাকা আত্নসাৎ করার অভিযোগ

Manual3 Ad Code

পটুয়াখালী গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী পুর্ব চত্রা গ্রামের শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণের মন্দিরের নামে আসা সরকারি অর্থ বরাদ্দ, জায়গা জমি দিয়ে উপার্জিত অর্থ আত্নসাৎ ও নীরহ মানুষকে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে গলাচিপা এল,জি,ইডি অফিসের হিসাহ সহকারী অশোক চন্দ্র বালার বিরুদ্ধে।

Manual3 Ad Code

সরেজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে জানাযায়, অনুমান ১৪ বছর যাবৎ মন্দিরটি দখল করিয়া মন্দিরের নামে জায়গা জমির উপার্জিত অর্থ ও মন্দিরের নামে আসা সরকারি অনুদান আত্মসাৎ করিয়া আসিতেছে অশোক চন্দ্র বালা (৪৭) ও তার সাথে কয়েকজন সহকর্মী এমন অভিযোগ করেন গুরুদাস সিকদার ও স্থানীয় উপস্থিত অনেকে।তারা আরো বলেন, এপর্যন্ত প্রায় ১০ লক্ষ টাকা আত্নসাধ করার অভিযোগ রয়েছে অশোক চন্দ্র বালার বিরুদ্ধে তিনি গলাচিপা এল,জি,ডি অফিসে হিসাব সহকারি পদে কর্মরত থাকায় মন্দিরের নামে আসা সরকারি বরাদ্দ সকলের ধরা ছোয়ার বাহিরে থেকে লুটপাট করে আসছে। তাছাড়া একক একটি কমিটি করে সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা এলাকাবাসী নতুন কমিটির কথা বললে তারা প্রতি বছর পুজার মৌসুমে নতুন কমিটি গঠন করবে বলিয়া তালবাহানা করিয়া বছরের পর বছর ঘুরাইতে থাকে এবং এবিষয় নিয়ে গ্রামের অনেক নীরহ মানুষকে একাধিক বার নামে বেনামে বাদী করিয়া সব মিলিয়ে প্রায় ১৭ টি মামলা দিয়ে হয়রানির উপরে রেখেছে।বর্তমানে এলাকাসী তার হীন মানষিকতায় অতিষ্ঠ।এছাড়া অশোক চন্দ্র গলাচিপা সদরে বসবাস করে তাই কেউ কিছু বললে তার ক্ষমতার জোরে বিভিন্ন কুচক্রী মহলেের লোকজন ধারা মেরে ফেলার হুমকি ধামকি দেখায় এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে নীরহ মানুষকে ধরিয়ে নেয় তাই অনেক গ্রামবাসী কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না সকল ধরনের প্রভাব খাটিয়ে চলছে।

অভিযোগকারী আরো বলেন, দখলকারীরা গত ১ লা বৈশাখ এলাকার সাধারণ জনগনকে কথা দেয় এবছর দুর্গা পুজার সময় মন্দিরের উপার্জিত সকল আয় ব্যয় হিসাব দাখিল করিয়া নতুন কমিটি গঠন করিয়া সকল কার্যক্রম করিবে।তাহাতে গত ১০/১০/১৯ ইং অনুমান রাত ১০ টার দিকে ৩০০ লোকের উপস্থিতিতে মন্দিরের ভিতরে উপার্জিত অর্থের হিসাবাস্তে দেখা যায় যে পুর্বের কমিটির লোকেরা মন্দিরের প্রায় ১০ লক্ষ টাকা আত্নসাধ করিয়াছে। আমি গুরুদাস সাধারন জনগণের সামনে তাহাদের নিকট ১০ লক্ষ টাকা মন্দিরের নামে জমা রাখিয়া নতুন কমিটি গঠনের কথা বলি।তারা নতুন কমিটি যাহাতে না হয় সেজন্য এই ১০ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা সম্পুর্ন অস্বীকার করে। এবং নতুন কমিটি হলে তাহাদের উপরে এর দায়ভার চাপিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।এসময় তার সাথে থাকে সহকর্মীরা ও কিছু অজ্ঞাতনামা লোকজন সাথে নিয়ে মন্দিরে থেকে আমাকে বাহির হইয়া যেতে বলে কুমতলবে মন্দিরের পাশে থাকা কাঠের রুয়া, দা, ছেনা ইত্যাদি প্রান নাশক অস্ত্র সস্র নিয়া আমাকে ও আমার সাথে থাকা নীরহ লোকজনদের এলোপাথাড়ি ভাবে মারধর শুরু করে তখন পবিত্র চন্দ্র ভুইয়া এগিয়ে আসলে তাকে খুনের উদ্দেশ্য অশোক চন্দ্র ও বিকাশ হাজারি তার উপরে হামলা করে এতে পবিত্রর বুক পিঠ মাথায় একাধিক ফাটা ফুলা জখম হয় এবং বাম পাজরের হাড় ভেঙে যায়।সেখানে থাকা মিল্টন চন্দ্র ভুইয়াকে মেরে জোর পুর্বক ১৫,৫০০ টাকা ছিনাইয়া নিয়া যায় বিকাশ হাজারি। বহিরাগত দাঙ্গাবাজ তপন চন্দ্র রায় অনুপ চন্দ্র ভুইয়াকে মেরে তার গলার ১ ভরি স্বর্নের চেইন নিয়া যায়।আমরা গুরুতর আহত হলে গলাচিপা সাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসার জন্য ভর্তি হই। এবং এবিষয়ে মোকাম গলাচিপা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে একটি সি,আর মামলা দায়ের করি বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে, আসামিরা হলেন, ১. অশোক চন্দ্র বালা (৪৭) পিতাঃ মৃত হরিচরন বালা, ২. বিকাশ হাজারি (৫২), পিতাঃ সুধীর হাজারি, ৩. তপন চন্দ্র রায় (৪৭), পিতাঃ মৃত মতিলাল রায়, ৪. ননী গোপাল বালা (৪৭), পিতাঃ মৃত লক্ষী চরন বালা, ৫. মিন্টু বালা (৫২), পিতাঃ মৃত সতিশ চন্দ্র বালা, ৬. বাসুদেব হাজারি (৪৫) ও সুমন হাজারি (৩০), উভয় পিতাঃ সুধির হাজারি, সর্ব সাং- ছোট চত্রা ৩ নং ওয়ার্ড,ইউপি- ডাকুয়া,উপজেলা- গলাচিপা, জেলা- পটুয়াখালী,এছাড়াও অজ্ঞাত নামা আরো ১৫-২০ জন।জানাগেছে আসামিরা পরস্পর একই দলীয় বিশ্বাস ভঙ্গকারী জোর দখলকারী দস্যু দাঙ্গাবাজ প্রকৃতির লোক।আসামিরা সমাজের কোন আইন কানুন মানেনা।মামলাটি বিজ্ঞ আদালত আমলে নিয়ে CID পটুয়াখালীকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন।

Manual4 Ad Code

ঘটনার সত্যতায় স্থানীয় লোক জনকে জিজ্ঞসাবাদ করিলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশে পাশের প্রতিবেশী হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক ও মুসলিম লোকেরা বলেন এই মন্দিরের বিষয় নিয়ে স্থানীয় কোন লোক কথা বললে আসামিরা গলাচিপা সদরের ক্ষমতা দেখিয়ে মিথ্যে মামলায় জরিয়ে দিয়ে অনেক নীরহ মানুষকে হয়রানি করছে এখন এলাকার জন্য এটা আতঙ্ক জনক বিষয় যে কোন মুহূর্তে এখানে খুন খারাপি হতে পারে।তাই এবিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন যাহাতে দ্রুত এর সমাধান হয় এজন্য সঠিকভাবে আইনের ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন।

এবিষয়ে মামলার বিবাদী, অশোক চন্দ্র বালার কাছে অভিযোগ সম্পর্কে মুঠোফোনে জানতে চাইলে,তিনি অর্থ আত্নসাধের কথা সম্পুর্ন অস্বীকার করে বলেন আমি একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে উন্নতির লক্ষে কাজ করতে গিয়ে এবিষয়ে জরিয়ে পড়ি,ঘটনার দিন সেখানে আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন মন্দিরের সভাপতি গৌতম রায়,জজ অনুতোষ বালা এছাড়াও গনমান্য ব্যাক্তিরা।তিনি আরো বলেন আমার ব্যাপারে যে সমস্ত নামে বেনামে মিথ্যা মামলা দেয়ার অভিযোগ করেছে সেটাও উদ্দেশ্য প্রোবনিত।আমাকে সমাজে হেও করে সম্মান নস্ট করতে এসব কাজ করতেছে তারা আমার কাছে মন্দিরের কোন হিসাব নিকাশ নেই সভাপতির কাছে সত্যতা রয়েছে বলে জানান। মন্দির কমিটির সভাপতি গৌতম চন্দ্র রায়ের কাছে জানতে প্রতিবেদকের মুঠোফোন থেকে তার (০১৭২৪৫৪০৯২৫) নাম্বারে যোগাযোগ করার একাধিক বার চেস্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

Manual4 Ad Code