৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

মালয়েশিয়ার দুর্গম পাহাড়ে সাঁড়াশি অভিযান, বাংলাদেশিসহ আটক ২১৪

Editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৫, ২০২৬
মালয়েশিয়ার দুর্গম পাহাড়ে সাঁড়াশি অভিযান, বাংলাদেশিসহ আটক ২১৪

Manual5 Ad Code

মালয়েশিয়ার দুর্গম পাহাড়ে সাঁড়াশি অভিযান, বাংলাদেশিসহ আটক ২১৪

শেখ স্বপ্না শিমুঃ মালয়েশিয়ার সেতিয়া আলম এলাকার একটি পাম তেল বাগানের ভেতর দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে গড়ে ওঠা তিনটি অবৈধ অভিবাসী পল্লীতে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Manual1 Ad Code

শনিবার (৪ এপ্রিল) মধ্যরাতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগ ও পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন। প্রায় ৪০০ মিটার উঁচু খাড়া পাহাড় বেয়ে এবং বিষধর সাপের ঝুঁকি মোকাবিলা করে কর্মকর্তাদের ওই পল্লীতে পৌঁছাতে হয়, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন শত শত বিদেশি নাগরিক।

অভিযান শেষে দেখা যায়, অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হলেও এই কলোনিগুলো ছিল আধুনিক নাগরিক সুবিধার মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ। সেখানে নিজস্ব উপাসনা কক্ষ (সুরাউ), মুদি দোকান, এমনকি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও ছিল। সেখানে মালয়েশিয়া সরকারের ভর্তুকিযুক্ত রান্নার গ্যাস এবং ডিজেল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

কর্মকর্তাদের ধারণা, পল্লীটিতে মোরগ লড়াইয়ের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড চলত এবং অভিযানের সময় পালানোর জন্য বেশ কিছু গোপন সরু পথ তৈরি করে রাখা হয়েছিল।

দেশটির সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন ডিরেক্টর খাইরুল আমিনুস কামারুদ্দিন জানিয়েছেন, এই অবৈধ বসতিগুলো প্রায় ৫ থেকে ৯ বছর ধরে সেখানে টিকে ছিল। অভিযানে মোট ৩৫৬ জন বিদেশি নাগরিককে যাচাই-বাছাই করা হয়, যার মধ্যে ২১৪ জনকে অবৈধ হিসেবে শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

আটকদের মধ্যে ১২০ জন পুরুষ, ৬৫ জন নারী এবং ২৯ জন শিশু রয়েছে, যাদের বয়স এক মাস থেকে শুরু করে ৮০ বছর পর্যন্ত। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা মূলত বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার নাগরিক।

Manual6 Ad Code

তদন্তকারীদের মতে, আটক ব্যক্তিরা মূলত স্থানীয় এলাকায় দিনমজুর ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। এই পল্লীগুলোতে সুনির্দিষ্ট ‘গার্ডিয়ান, ছিল যারা নিয়মিত বাসিন্দাদের কাছ থেকে মাসিক ভাড়া আদায় করত। অভিযানটি সফল করতে ইমিগ্রেশন বিভাগের বিভিন্ন শাখা ছাড়াও শাহ আলম সিটি কাউন্সিল, জেনারেল অ্যাকশন ফোর্স এবং সিভিল ডিফেন্স ফোর্স একযোগে কাজ করেছে। বর্তমানে আটকদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

Manual3 Ad Code